ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
ঝিনাইদহের মহেশপুরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক ও বীর উত্তম শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম না নেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুষ্ঠান বর্জন করে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার সকালে মহেশপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে ইউএনও খাদিজা আক্তারের বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বদলি আদেশের প্রজ্ঞাপনটি ঘটনার আগের দিন ২৫ মার্চ স্বাক্ষরিত।
বিএনপির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ইউএনও খাদিজা আক্তার তার বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষক ও বীর উত্তম শহীদ জিয়াউর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম কখনো উল্লেখ করেননি। এর প্রতিবাদে তারা অনুষ্ঠান বর্জন করে প্রতিবাদ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপি নেতারা এ ঘটনার প্রতিবাদে ঝাড়ুমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরে ইউএনওকে বদলির খবর পেয়ে ঝাড়ুমিছিল বাদ দেন। তবে প্রতিবাদ সমাবেশ করে উপজেলা ও পৌর বিএনপি।
ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক দবীর উদ্দিন বিশ্বাস, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরফদার মাহমুদ তৌফিক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ খান প্রমুখ।
ওই ঘটনার পর ইউএনও খাদিজা আক্তার গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘আমরা প্রজাতন্ত্রের দায়িত্ব পালন করি। সরকার ও আইন যেভাবে বলবে, সেভাবেই আমরা দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি।’ স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে সংবিধানে অন্য একজনের নাম রয়েছে, সেটা আগে পরিবর্তন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি যখন প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে, তখন খবর আসে, ইউএনও খাদিজা আক্তারকে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আমিরুল আরাফাত স্বাক্ষরিত একই প্রজ্ঞাপনে চিতলমারীতে কর্মরত ইউএনওকে মহেশপুরে দায়িত্ব দিয়ে এ বদলি আদেশ দেওয়া হয়। আদেশটি ২৫ মার্চ স্বাক্ষরিত।
খবরটি শেয়ার করুন