শনিবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিষয়টি বিএনপি উপেক্ষা করলে ভালো হবে না: শহীদ মিনারে বাধা প্রসঙ্গে রুমিন *** ওসির অ্যাকাউন্টে বিপুল লেনদেনের অভিযোগ *** ‘শেখ হাসিনার নির্দেশে নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয় খুলছেন, নতুন কর্মসূচি আসছে’ *** ৭৪ বছরে প্রথমবার শহীদ মিনারে জামায়াত, ব্যাখ্যায় যা বললেন দলের আমির *** প্রথমবারের মতো তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান *** মন্ত্রীদের কথায় লাগাম টানতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ সোহেল রানার *** ট্রাম্পের শুল্ক আদালতের রায়ে অবৈধ, বাংলাদেশ এখন কী করবে *** আলাদা শপথের দরকার নেই, গণভোট সংসদে কার্যকর হবে: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি *** ঈদের আগে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেবে সরকার *** শহীদ মিনারে জামায়াত আমিরকে দেখে ‘রাজাকার’ ও ‘একাত্তরের দালাল’ স্লোগান

‘শেখ হাসিনার নির্দেশে নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয় খুলছেন, নতুন কর্মসূচি আসছে’

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৬:২৬ অপরাহ্ন, ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ফাইল ছবি

কোনো তথ্য-উপাত্ত না থাকলেও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী বিশ্বাস করছেন, এবারের জাতীয় নির্বাচনে ভারত, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একধরনের যোগসাজশ হয়েছে। ফলে বিএনপি অনেকটাই 'সহানুভূতিশীল' থাকবে আওয়ামী লীগের প্রতি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির 'সহযোগিতা' প্রায়ই পাচ্ছেন তারা।

সবশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ভারত, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একধরনের যোগসাজশ হয়েছে বলে মনে করছেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও। অবশ্য এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলছেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে 'পুনর্বাসনের' চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পর থেকে রাজনীতিতে এক ধরনের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী। এ পর্যন্ত প্রায় ১৪টি জেলায় দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে তারা ঝটিকা মিছিল করেছেন। যদিও এসব কার্যক্রমে দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কোনো নেতাকে এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি।

সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার (২০শে ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান ফটকে জাতীয় পতাকা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টানিয়ে মিছিল করেছেন যুব মহিলা লীগের কয়েক নেত্রী। এ ছাড়া কেরানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের একটি পরিত্যক্ত কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটে।

সুখবর ডটকমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকার বাইরে ফরিদপুর, পটুয়াখালী, খুলনা, রাজবাড়ী, নওগাঁ, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, পঞ্চগড় ও নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা খোলা হয়েছে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোরের দিকে নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে গিয়ে পতাকা টাঙিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে স্থান ত্যাগ করেন। এসব ঘটনায় দলটির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে অবশ্য গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার ঘটনাগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, কার্যালয়ের তালা খোলার পর কিছু জেলায় ক্ষমতাসীন বিএনপির অঙ্গসংগঠন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা আবার ওই কার্যালয়ের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। এ ছাড়া ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর আবার ওই কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।

যোগাযোগ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক কর্মকর্তা সুখবর ডটকমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নেতা-কর্মীদের তৎপরতা ঠেকাতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, আইনিভাবে নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শুরু করা উচিত। না হলে আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা থাকে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম মনে করেন, ‘দোষারোপের রাজনীতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। নিজের দলের সুস্থ রাজনীতি করবে, এটা যদি না করতে পারি আমরা, তাহলে কিন্তু অন্য শক্তিগুলো সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হবে।’

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ২০২৫ সালের মে মাসে নেয় সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট।

ওই অভ্যুত্থান দমনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে। গণহত্যা ও আওয়ামী লীগের শাসনের সময়ে গুমের অভিযোগগুলোর বিচারের উদ্যোগ সরকার নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। 

সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি আসলেই কার্যালয় খোলার কোনো নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের? এই প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম সুখবর ডটকমকে হোয়াটসঅ্যাপে বলেন, 'আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা হলো আমাদের পোড়া বাড়িতেও যেতে হবে৷ তার নির্দেশেই নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলছেন নেতা-কর্মীরা।'

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্যপ্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত বলছেন, 'আমার জানা মতে, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় কার্যালয় খোলার ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেননি নেতা-কর্মীদের৷ তিনি বারণও করেননি৷ যা হচ্ছে, তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে৷ এটা আগামী দিনে আরো ঘটবে৷ আমরা কিছুদিন পর হয়তো কর্মসূচি দেব৷’ তবে কী কর্মসূচি দেবে আওয়ামী লীগ, এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে পারেননি।

বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, 'শুধু আওয়ামী লীগের কার্যালয় নয়, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ধ্বংস করা হয়েছে৷ আমাদের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ নেত্রীর নির্দেশনা হলো তৃণমূল থেকে সব পর্যায়ের কার্যালয়ে আমাদের যেতে হবে৷ আমাদের নেতা-কর্মীরা তো দেশে আছেন৷ এখন যেহেতু ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের বিদায়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে, তাই নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে যাচ্ছেন৷ কার্যালয় খুলছেন৷ আত্মগোপন থেকে আমাদের নেতা-কর্মীরা আরো বেরিয়ে আসবেন৷ দেশেও ফিরবেন৷’

তিনি বলেন, ‘গত ১৮ মাস অবৈধভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ করে রাখা হয়েছে৷ অফিসে তালা মেরে দেওয়া হয়েছে৷ এর অবসান ঘটবে৷’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, 'আমাদের নেতা-কর্মীরা মনে করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, তারা গণতান্ত্রিক আচরণ করবে৷ তাই আমাদের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অফিস খুলছে৷ তবে আমাদের নেত্রীর নির্দেশনা আছে যে, দলীয় কার্যালয় খুলতে হবে৷ সেখানে বসতে হবে৷ আমরা তো কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছি না৷ আমরা স্বাভাবিক রাজনীতি করতে চাই৷ আওয়ামী লীগকে তো নিষিদ্ধ করা হয়নি৷’

এদিকে নির্বাচনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিস খোলার পেছনে বিএনপির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক  ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি তিনি বলেন, "বিএনপির কাছ থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছাড়া আওয়ামী লীগ এটা করার সাহস পেত না।”

বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অবিলম্বে প্রশাসনিকভাবে সেই কার্যালয় বন্ধ করতে যদি তারা ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধের ডাক দেব। সেটার জন্য এই সরকারকেও আমরা কাঠগড়ায় দাঁড় করাব।’ আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়টিকে ব্যাপকভাবে প্রচার করায় কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ।

আওয়ামী লীগ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250