ছবি: সংগৃহীত
জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ—এমনই দাবি নয়াদিল্লির। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের বিতর্ক চললেও এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত এক মানচিত্রে দেখানো হয়েছে পুরো কাশ্মীরই ভারতের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ অফিস) প্রকাশিত ওই মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীরের পুরো ভূখণ্ডকে ভারতের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) অঞ্চলও ভারতের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, একই মানচিত্রে চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরের অংশ আকসাই চীনকেও ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে ভারতের বেশির ভাগ গণমাধ্যমে কেবল পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত ‘আজাদ কাশ্মীরের’ অংশই প্রাধান্য পেয়েছে।
মানচিত্রে কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা রাজনৈতিক ভাষ্য না থাকলেও তথ্যের উপস্থাপনাই ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রের সঙ্গে একমত হয়েছে এবং পাকিস্তানের দাবিকে তারা সমর্থন করে না বলেই মনে করছে ভারতীয়রা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে ইসলামাবাদের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক অস্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একাধিকবার ওয়াশিংটন সফর করে মার্কিন নীতিনির্ধারক এবং খোদ ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
কিন্তু এসব প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত দাবির পক্ষে অবস্থান নিতে রাজি করাতে পারেনি বলে উচ্ছ্বসিত ভারতীয়রা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও একবার বুঝিয়ে দিল—পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু ভারতের কোনো বিকল্প নেই। বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা ও গুরুত্ব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শীর্ষস্থানেই রয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের যে গ্রাফিকটিতে ভারতের মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি মূলত ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যকাঠামো তুলে ধরতে ব্যবহৃত হয়েছে।
ওই গ্রাফিকে দেখানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া বিভিন্ন পণ্যে ভারত শুল্ক কমাতে বা পুরোপুরি তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বাদাম, লাল সরগম, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, ড্রাইড ডিস্টিলার্স গ্রেইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইন ও মদ।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর শুল্কহার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাতে সম্মত হয়েছে এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
খবরটি শেয়ার করুন