ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্র মাস্টারপ্ল্যান করছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। গতকাল শুক্রবার (২৩শে জানুয়ারি) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের ওপর একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচনের জন্য বেশ চাপ প্রয়োগ করছে। আপনারা যদি গত কয়েক মাসের খবরাখবর দেখেন; তাহলে দেখবেন যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করেছেন, কাতার সফর করেছেন এবং আমেরিকা সফর করেছেন একাধিকবার।'
তিনি বলেন, 'এর বাইরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন কূটনীতিক বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং সরকারের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ক্লোজ-ডোর বৈঠক করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রদূতেরা চরকির মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ড. ইউনূস—তাদের সবার সঙ্গে সিরিয়াস বৈঠক করার পর তারা আবার সদলবলে দিল্লিতে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। কার সঙ্গে যাচ্ছেন, কী কারণে যাচ্ছেন, এগুলো নিয়ে নানা রকম বিতর্ক হচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'সবাই বলার চেষ্টা করছেন যে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচন চাচ্ছে এবং সেখানে যেকোনো মূল্যে হোক আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ করানো বাধ্যতামূলক করার জন্য তারা জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এখন পরিস্থিতি যেভাবে চলছে, এই মুহূর্তে এটা কী করে সম্ভব। এর কারণ হলো—নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে আজকের দিন পর্যন্ত প্রতীক বরাদ্দ হয়ে গেছে এবং নির্বাচনের ট্রেন্ড ঠিকমতো চলছে।’
রনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, আর রাজনৈতিক দলগুলোর যারা প্রার্থী তারা যার যার অবস্থান থেকে প্রচার এবং প্রোপাগান্ডা শুরু করেছেন।'
তিনি বলেন, 'এই অবস্থায় কিভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন সম্ভব, কী করে আওয়ামী লীগকে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানো সম্ভব; এগুলো নিয়ে আকার-ইঙ্গিতে আলোচনা হচ্ছে। যারা একটু সাহসী, তারা বলার চেষ্টা করছেন যে ঠিক আছে নির্বাচনটা পিছিয়ে দেওয়া হোক; আবার কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন যে নির্বাচনে যারাই ক্ষমতায় আসুক, তারা নির্দিষ্ট সময়ের পর আওয়ামী লীগকে রিকনসিলিট করে যদি একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচন দেওয়া হয়, তাহলে সেটা হতে পারে। এগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে।’
খবরটি শেয়ার করুন