বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** শীতে পিঠ ব্যথা করে—টাইম ম্যাগাজিনকে তারেক রহমান *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’ *** নতুন মার্কিন নীতি বাংলাদেশের উপর যে প্রভাব ফেলবে *** ‘কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ পুরুষদের সমকামী করে তুলতে পারে’

ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, আস্থার প্রশ্ন তত স্পষ্ট হচ্ছে: জিল্লুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৪:২৫ অপরাহ্ন, ২৪শে জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেছেন, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকট—আস্থার প্রশ্ন—তত স্পষ্ট হয়ে সামনে আসছে। কাগজে-কলমে নতুন উদ্যোগ, প্রযুক্তির সংযুক্তি কিংবা প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের চেষ্টা—সবই প্রশংসনীয় হতে পারত। কিন্তু বাস্তবে পোস্টাল ব্যালট ঘিরে শুরুতেই যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা আবারও দেখিয়ে দিল—সমস্যা কেবল প্রক্রিয়ায় নয়, বরং প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর সন্দেহই এ দেশের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ফ্যাক্টর।

তিনি বলেন, 'নির্বাচন হলো রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দৃশ্যমান ন্যায্যতা। আপনি যদি এমনভাবে প্রক্রিয়া ডিজাইন করেন, যাতে একটি ভিডিওই পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলতে পারে, তাহলে আপনি নিজেই নিজের অর্জন ভেঙে ফেলার ঝুঁকি নেন।’ সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে জিল্লুর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এবার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা ১৫ লক্ষেরও বেশি। এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় ঘটনা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৫ই জানুয়ারি নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর মোট নিবন্ধন ১৫.৩৩ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রবাসী নিবন্ধনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, বাংলাদেশে এই প্রথম প্রবাসী ভোট বাস্তব অর্থে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলো।

তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রেক্ষাপটে বাহরাইনের একটি বাসায় অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট একসঙ্গে গোনা হচ্ছে। এমন ভিডিও ভাইরাল হওয়া স্বাভাবিকভাবেই ভয় বাড়িয়েছে। সরকার বলছে তদন্ত হবে এবং বাহরাইনের কর্তৃপক্ষের রিপোর্টেও ঘটনাটি নিশ্চিত হয়েছে। বিএনপির আপত্তি কেবল ওই ভিডিও ঘিরে নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার নকশা নিয়েই। দলটির অভিযোগ—বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক ও নাম এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে বিএনপির প্রতীক মাঝামাঝি পড়ে যাচ্ছে, ফলে ভাঁজ হলে তা স্পষ্ট দেখা নাও যেতে পারে। তারা এটিকে বায়াস হিসেবে দেখছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, প্রতীকগুলো বর্ণানুক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, নির্বাচনের মানদণ্ড শুধু ‘রুল ফলো’ করা নয়। মানদণ্ড হলো—রুলটি কি ন্যায্য এবং ন্যায্য বলে মনে হয়? ব্যালট পেপারের ডিজাইন এমন একটি জায়গা, যেখানে বাস্তবে এর গুরুত্ব অনেক সময় ফলাফলের সমান হয়ে ওঠে। কারণ ভোটার, রাজনৈতিক দল ও পর্যবেক্ষক—সবার বিশ্বাসের শুরুটা চোখে দেখা থেকেই। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে দুটি সমান্তরাল চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তার মতে, প্রথমত, কাস্টডির প্রশ্ন—কার হাতে ব্যালট গেল, কে পেল, কিভাবে পেল, কিভাবে ফেরত এলো—এই পুরো চেইন কি যাচাইযোগ্য ও স্বচ্ছ? দ্বিতীয়ত, ন্যায্যতার প্রশ্ন—একই নিয়মে ছাপা হলেও সেটি কি সবার জন্য সমানভাবে সুবিধাজনক? প্রবাসী ভোটে পোস্ট অফিস, দূতাবাস, স্থানীয় ডেলিভারি ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে ঝুঁকি বহু স্তরে। তাই দোষ কার—সে প্রশ্নে যাওয়ার আগে কমিশনের দায়িত্ব হওয়া উচিত ঝুঁকিগুলোকে প্রকাশ্যে, পরিমাপযোগ্যভাবে তুলে ধরা, যাতে কেউ অন্ধকারে কল্পনার সুযোগ না পায়।

তিনি আরো বলেন, এই পোস্টাল ব্যালট বিতর্কের পাশেই আরেকটি বড় স্রোত পুরো নির্বাচনী পরিবেশকে আরো জটিল করে তুলছে। একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের সক্রিয় প্রচারণা। সরকারি ফটোকার্ড প্রকাশ, প্রচারণার ভাষা, এমনকি ব্যাংকগুলোকে শাখা পর্যায়ে ব্যানার টানিয়ে নির্দিষ্ট অবস্থানের পক্ষে উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ—এসব খবর প্রকাশ্যে এসেছে।

তিনি বলেন, একদিকে বলা হচ্ছে নির্বাচন হবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে, আর অন্যদিকে প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরের প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নির্দিষ্ট অবস্থানের পক্ষে দৃশ্যমান হতে বলা হচ্ছে। এটি রাজনৈতিকভাবে ভয়াবহ বার্তা দেয়। কারণ মাঠের বাস্তবতায় ডিসি, ইউএনও, রিটার্নিং অফিসার, শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা—সবাই কোনো না কোনোভাবে নির্বাচনী মেশিনারির অংশ। এই অংশ যদি প্রকাশ্যে এক পক্ষে কথা বলে, তাহলে ভোটারের মনে প্রশ্ন জাগে—নিরপেক্ষ থাকবে কে?

জিল্লুর রহমান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250