ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা থেকে এ বছরও বাংলাদেশকে বাদ দিয়েছেন আয়োজকেরা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীর এই বইমেলায় পর পর দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্যাভেলিয়ন থাকছে না। তবে সেখানকার কোনও স্টলে বাংলাদেশের বই বিক্রিতে বাধা নেই। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে প্রতিবছরই বাংলাদেশের অনেক প্রকাশক কলকাতা বইমেলায় অংশ নিতেন। সেখানে প্রচুর ভিড় যেমন হতো, তেমনই বাংলাদেশি লেখকদের বই বিক্রিও হতো অনেক। তবে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুত হওয়া ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর গত বছর বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব ছিল না, এবারও থাকছে না।
কলকাতা বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চ্যাটার্জি আজ মঙ্গলবার (২০শে জানুয়ারি) বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের তরফে এবার মেলায় যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু আমরাই তাদের যোগ দিতে দিচ্ছি না।’
এবারের বইমেলায় যোগ দেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে কলকাতায় বাংলাদেশের উপদূতাবাসের সূত্রগুলো বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে।
ত্রিদিব চ্যাটার্জি আরো বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের এখন যা সম্পর্ক, তাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত ছাড়া বাংলাদেশকে মেলায় যোগদান করার ছাড়পত্র দিতে পারছে না গিল্ড। সেই সবুজ সংকেত আসেনি, তাই বাংলাদেশ মেলায় থাকছে না। তবে যদি এখানকার কোনও স্টলে বাংলাদেশের বই কেউ রাখেন, তাতে আমাদের আপত্তি নেই।’
নিয়মিত মেলায় যোগ দিত আরেকটি যে দেশ, সেই যুক্তরাষ্ট্রও এবারের বইমেলায় থাকবে না। ‘বাজেট বরাদ্দ না থাকায়’ দেশটি মেলায় থাকছে না বলেন জানান চ্যাটার্জি। তবে ১৫ বছর পরে মেলায় থাকছে চীনের প্যাভেলিয়ন। প্রথমবারের মতো যোগ দেবে ইউক্রেন।
আর্জেন্টিনা এবারের বইমেলার থিম দেশ। মোট ২১টি দেশ এবং এক হাজারের ওপরে স্থানীয় ও ভারতের অন্যান্য রাজ্যের প্রকাশকরা স্টল দেবেন।
আগামী ২২শে জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। এটি বিশ্বের বৃহত্তম অ-বাণিজ্যিক বইমেলা, অর্থাৎ যেখানে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো নয়, সাধারণ মানুষ বই কিনতে পারেন।
আবার জনসমাগমের দিক থেকেও এই বইমেলা বিশ্বে এক নম্বরে রয়েছে। সল্ট লেকের স্থায়ী ‘বইমেলা প্রাঙ্গণে’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেলার উদ্বোধন করবেন।
খবরটি শেয়ার করুন