ছবি: সংগৃহীত
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক নঈম নিজাম বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সব সময়ই ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠ। তিনি বলেন, বিএনপির এই নেতার ভোটের আগের রাতে গণনার সময় আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে বাদানুবাদ দেখেছি।
তিনি বলেন, আবার পরের দিন তাদের পরস্পরকে জড়িয়ে ধরতেও দেখেছি। রাজনীতিতে তখনও শালীনতা ছিল। মির্জা আব্বাস রাজনীতির ধারাবাহিকতায় কখনো কারাগারে গেছেন, আবার কখনো মন্ত্রী হয়ে রাষ্ট্রের পতাকা উড়িয়েছেন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আজ রোববার (৮ই মার্চ) দেওয়া এক পোস্টে নঈম নিজাম এসব কথা বলেন। তার ফেসবুক পোস্টটি এর মধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে তিনি বলেন, মির্জা আব্বাসকে আজ দেখলাম মামলা করতে। বয়স, সময় ও পরিস্থিতি মানুষকে বদলে দেয়।
সম্পাদক পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজাম লেখেন, রিপোর্টার ও সম্পাদক দুই অবস্থান থেকে আমি মির্জা আব্বাসকে দেখেছি। মির্জা আব্বাস কি এত ধৈর্যশীল নেতা ছিলেন? আশির দশকে তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি এবং রাজপথের পরিশ্রমী নেতা। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সামনের সারির একজন সংগঠক।
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আব্বাস আলী খান ও আওয়ামী লীগের মোজাফফর হোসেন পল্টুকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর হন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র। পরে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন মোহাম্মদ হানিফের কাছে।
তিনি বলেন, ভোটের ফল ঘোষণার পর মোহাম্মদ হানিফ ফুল নিয়ে গিয়েছিলেন মির্জা আব্বাসের বাসায়। তখন আমি ভোরের কাগজে কাজ করি। কাছ থেকে সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ দেখার সুযোগ হয়েছিল। ভোটের আগের রাতে গণনার সময় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ নেতা খ ম জাহাঙ্গীরের সঙ্গে মির্জা আব্বাসের বাদানুবাদও দেখেছি।
তিনি বলেন, আবার পরের দিন তাদের পরস্পরকে জড়িয়ে ধরতেও দেখেছি। রাজনীতিতে তখনও শালীনতা ছিল। সেই মির্জা আব্বাস রাজনীতির ধারাবাহিকতায় কখনো কারাগারে গেছেন, আবার কখনো মন্ত্রী হয়ে রাষ্ট্রের পতাকা উড়িয়েছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি সব সময়ই ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠ।
সবশেষে নঈম নিজাম লেখেন, আমি যখন সম্পাদক ছিলাম, তখন মির্জা আব্বাসের খবরগুলো গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করতাম। চাইতাম, ভালো-মন্দ মিলিয়েই আমাদের রাজনীতি ও রাজনীতিবিদেরা টিকে থাকুক।এখন সময় বদল হয়েছে। মির্জা আব্বাসকে আজ দেখলাম মামলা করতে। বয়স সময় পরিস্থিতি মানুষকে বদলে দেয়।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে ভয়ভীতি দেখানো ও মানহানির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন।
আজ রোববার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে রমনা থানার বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়েরের আবেদন করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম আমির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মির্জা আব্বাস। আর এনসিপির প্রার্থী ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিপুল ভোটে হেরে যান। তিনি নির্বাচনের সময় থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনে বিপুল ভোটে হেরে যাওয়ার পর আরও বেশি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে মিথ্যা মানহানিকর বক্তব্য ও বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছেন।
সর্বশেষ গত ৫ই মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বাদী দেখতে পান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মানহানিকর বক্তব্যের কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ আকারে এসেছে। এসব বক্তব্য অত্যন্ত মানহানিকর ও নিন্দনীয়। এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে মির্জা আব্বাসের সম্মান ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসন থেকে মনোনয়ন পান। নির্বাচনে মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পান ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।
খবরটি শেয়ার করুন