বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** জামায়াতের নারী ও পুরুষ কর্মীরা ২০টি করে জাল ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন: নয়ন *** ২২ বছর পর আজ রাজশাহী যাচ্ছেন তারেক রহমান *** ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু আজ *** বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাতে বঞ্চনার শিকার মুসলিমরা *** সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি থাকা ঠিক না: প্রধান উপদেষ্টা *** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’

যৌন নিপীড়নের শিকারের স্মৃতি: আফসান চৌধুরীর ‘অপরাধবোধ’

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৮:০২ অপরাহ্ন, ১৭ই মার্চ ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

শিশুরা বাড়িতে, পারিবারিক পরিমণ্ডলে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। এসবের খুব কম ঘটনাই প্রকাশ পায়। বিশেষ করে, ছেলে শিশুরাও শৈশবে পরিচিতজনদের যৌন নিপীড়নের শিকার হয়, সেটা প্রায় সময় স্বীকারই করা হয় না।

দেশে ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে যে রকম আলোচনা দেখা যায়, তাতে অনেকাংশেই উপেক্ষিত থাকে ছেলে শিশু বা পুরুষদের যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনাগুলো। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার নানা তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেলেও পুরুষদের ক্ষেত্রে খুব কম সময়ই তা পাওয়া যায়। এতে আইনি প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হন ভুক্তভোগীরা।

প্রখ্যাত লেখক, কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও সাংবাদিক আফসান চৌধুরী শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এক সময় কাজ করেন ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। 

শিক্ষাবিদ আফসান চৌধুরী শৈশবে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন, সংগঠনটির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সেই বেদনাদায়ক স্মৃতি ফিরে এসেছিল বলে তিনি বিবিসি বাংলাকে খোলামেলা আলাপচারিতায় জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ সালের দিকে আমরা কাজ করছিলাম শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের বিষয়ে। ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স সংগঠনের কাজ করতে করতে হঠাৎ একদিন স্মৃতিতে ফিরে আসে শৈশবে নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার কথা।’

তিনি বলেন, ‘আমার তখন তিন কী চার বছর বয়স। আমরা ঢাকার টিকাটুলিতে থাকতাম। আমাদের বাসায় গ্রাম থেকে আসা একটা লোক ছিল। লোকটি একদিন আমাকে তার পুরুষাঙ্গ নিয়ে খেলাচ্ছিল। আমার তখন যে বয়স, তখন কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। লোকটা আমার সঙ্গে পায়ুমৈথুন করছিল না। সে আমাকে তার যৌনাঙ্গ নিয়ে খেলাচ্ছিল। আমার কোনো আবেগ, অভিজ্ঞতা বা কষ্ট কিছুই হচ্ছিল না, আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।’

তিনি বলেন, ‘আমার কপালটা ভালো। এ রকম অবস্থায় আমার মা ব্যাপারটা দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, কী ঘটনা ঘটছে। লোকটা বয়স্ক ছিল। আমার মা তখন এসে আমাকে নিয়ে যান। ওই দিনের ঘটনা সম্পর্কে আমার দুটি বিষয় মনে আছে। মা আমাকে নিয়ে গিয়ে গোসল করাচ্ছিলেন। মাকে জিজ্ঞাসা করছিলাম, আমি কি খারাপ কিছু করেছি? সন্ধ্যাবেলায় তো মানুষকে গোসল করায় না কেউ। মা কোনো উত্তর দিচ্ছিলেন না। বলছিলেন, ঠিক আছে, ঠিক আছে।’

তিনি বলেন, ‘আর মনে আছে, আমার বাবা ওই লোকটাকে কান ধরে উঠ-বস করিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। এ ঘটনার স্মৃতি আমার একদম মুছে যায়। ১৯৯৮ সালে এটা আমার মনে পড়ে যায়, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের জরিপ করতে গিয়ে। তখন আমার অনেক বয়স। তারপরও প্রচণ্ড কষ্ট, অপরাধবোধ হচ্ছিল। কেন অপরাধবোধ হচ্ছে? কেন মনে হচ্ছে, ওই ঘটনার জন্য আমিই দায়ী? আমার তো তখন তিন-চার বছর বয়স।’

তিনি জানান, ‘পরবর্তীকালে আমি যখন মনস্তত্ত্ববিদদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা আমাকে বলেছিলেন, এ রকমই হয়। নিজেকে অপরাধী, দোষী মনে হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি যেটা করেছি, এই ঘটনার কথা মনে পড়ে যাওয়ার পর এটা কখনো চেপে রাখিনি। আমি শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের ইস্যুতে কাজ করতাম, নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার কথা সেখানে সবাইকে বলতাম এটা বোঝাতে যে, এটা যে কোনো মানুষের জীবনেই ঘটতে পারে।’

এইচ.এস/


আফসান চৌধুরী

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250