ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ ও শনিবারের (৩রা জানুয়ারি) ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার (৩রা জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার এই অভিযানকে বিশ্ব রাজনীতির একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। খবর রয়টার্সের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গিদিয়ন সার লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মুক্ত বিশ্বের নেতার মতো কাজ করেছে। ইসরায়েল সেই স্বৈরশাসকের অপসারণকে স্বাগত জানায়, যে একটি মাদক ও সন্ত্রাসবাদের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি ভেনেজুয়েলায় পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আবার স্থাপিত হবে।’
ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, মাদুরোর শাসনামলে ভেনেজুয়েলার জনগণ দীর্ঘকাল ধরে ‘অবৈধ একনায়কতন্ত্রের’ শিকার হয়েছে। তার মতে, দক্ষিণ আমেরিকা এখন সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্তির নতুন পথ দেখবে।
তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাওয়া উচিত। ইসরায়েল সব সময় স্বাধীনতাকামী মানুষের পাশে রয়েছে।’
উল্লেখ্য, হুগো চাভেস এবং পরবর্তী সময় নিকোলা মাদুরোর শাসনামলে ইসরায়েলের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক ছিল চরম বৈরী। মাদুরো সরকার ফিলিস্তিনিদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন এবং ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে ইসরায়েলের কড়া সমালোচক ছিলেন।
২০০৯ সালে গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে ভেনেজুয়েলা ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। এখন মাদুরোর পতনকে ব্যবহার করে লাতিন আমেরিকায় নিজেদের প্রভাব পুনরায় বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছে তেল আবিব।
অনেকের মতে, মাদুরোর অপসারণের ফলে ভেনেজুয়েলায় যদি একটি পশ্চিমাপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্রদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে।
খবরটি শেয়ার করুন