বৃহস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারীবিদ্বেষী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, একে দমন করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৮:০৮ অপরাহ্ন, ২৫শে নভেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

সমাজে নারীবিদ্বেষী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে। ব্যাপক হারে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া হচ্ছে। মব সহিংসতা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসবের ফলে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে চলেছে। নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে নারীবিদ্বেষী প্রচারণাকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (২৫শে নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদের নেতারা এসব কথা বলেছেন। সংবাদ সম্মেলনে দেশে গত ১০ মাসে (জানুয়ারি থেকে অক্টোবর) ১০টি জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের খবর তুলে ধরা হয়।

বলা হয়, এ সময় দেশে মোট ২ হাজার ৪৬৮ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৭১৩ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধষর্ণের পর আত্মহত্যার শিকার হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে। এ ছাড়া যৌতুক, পারিবারিক নির্যাতন, হত্যা, বাল্যবিবাহ, যৌন নিপীড়ন, অপহরণ, সাইবার সহিংসতার মতো নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নারী ও কন্যাশিশু।

জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়, ১৯৮১ সালে লাতিন আমেরিকায় নারীদের এক সম্মেলনে এদিনকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন দিবস হিসেবে পালনের দাবি তোলা হয়।

১৯৯৩ সালে ভিয়েনা মানবাধিকার সম্মেলনে দিবসটিকে স্বীকৃতি দিয়ে ঘোষণা করা হয়, ‘নারীর অধিকার মানবাধিকার, নারীর প্রতি সহিংসতা মানবাধিকার লঙ্ঘন।’

২০০০ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৫শে নভেম্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং ১০ই ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ দিনের প্রচারাভিযান চালানোর কথা বলে।

দিবসটি উপলক্ষে এবার ‘সাইবার সহিংসতাসহ নারী ও কন্যার প্রতি সকল প্রকার নির্যাতনকে না বলুন, নারী ও কন্যার অগ্রসরমানতা নিশ্চিত করুন’ স্লোগান নিয়ে ১৬ দিনের কর্মসূচি আজ শুরু করেছে মহিলা পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও সামাজের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্যাতনের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখতে হবে। নারীবিদ্বেষী প্রচারণাকে দৃঢ়ভাবে দমন করতে হবে। গণমাধ্যমেও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এখানেও একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করা দরকার।

মহিলা পরিষদ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250