ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁ পৌরসভার আরজি-নওগাঁ বিদ্যালয় মাঠে গত শুক্রবার (২৩শে জানুয়ারি) রাতে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর এক নির্বাচনী সভায় সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন।
তিনি সমবেত জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করা প্রত্যেক মুমিনের ধর্মীয় ও নৈতিক কর্তব্য, কারণ এই জয়লাভের মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং পরকালে জবাবদিহি করা সম্ভব হবে।
তার এ বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনদের মধ্যে এই নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
তারা বলছেন, দেশের রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নতুন কিছু নয়, কিন্তু এবারের নির্বাচনি প্রচারণার শুরুতেই জামায়াতের বক্তব্য যেভাবে ভোটের মাঠে নেমে এসেছে, তা উদ্বেগজনক।
জনসভায় শাহরিয়ার কবির অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, ‘সবার ঈমানি দায়িত্ব দাঁড়িপাল্লাকে জয়লাভ করানো। দাঁড়িপাল্লায় যদি ভোট না দেন, কিয়ামতের দিন কী উত্তর দেবেন? শেখ মুজিব কি কাউকে জান্নাতে নিতে পারবে? পারবে না। জান্নাতে নিতে পারবেন একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। অন্তত কবরে গিয়ে যেন বলতে পারেন—আল্লাহর দ্বীন কায়েমের জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছি।’
দলের সাংগঠনিক আদর্শ ও লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে, জামায়াতের প্রতিটি সদস্য পরকালে আল্লাহর কাছে দায়বদ্ধ এবং তারা সমস্বরে ‘আমরা দ্বীন কায়েম করব, দ্বীনের পথে চলব’—এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ভোটকে একটি পবিত্র আমানত হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে তিনি সতর্ক করে দেন যে, জনগণের সমর্থন পেয়ে যারা দেশের কল্যাণে কাজ করে না, তারা মূলত আমানতের খিয়ানতকারী।
তিনি ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন করে বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা ইনসাফের প্রতীক। আমরা সবসময় ন্যায় ও সৎ ব্যক্তির পক্ষে।’ কবিরের মতে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা কেবল ক্ষমতার মোহে নয়, বরং জনসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মহান লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, নির্বাচিত হওয়ার পর আমানতের খেয়ানত করলে নিজ দলের সদস্যের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস একমাত্র জামায়াতই রাখে।
তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, শহীদ জিয়াউর রহমান কিংবা খালেদা জিয়ার আমলের বিএনপির সাথে বর্তমান বিএনপির কোনো মিল নেই। ভবিষ্যতে কোনো চাঁদাবাজ, চোরাকারবারি কিংবা অসৎ ব্যক্তির হাতে দেশের শাসনভার ছেড়ে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ভোট চুরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাধারণ মানুষকে যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, কোনোভাবেই ভোট কারচুপি বরদাশত করা হবে না। ভারতীয় আধিপত্যবাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মুসলিম পরিচয়ের কারণে ভারতে গিয়ে ক্রিকেট খেলতে না পারার মতো বৈষম্যের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে না, তাদের ভোট দেওয়া ধর্মীয় নাফরমানির শামিল।
উক্ত নির্বাচনী সভায় নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী আ স ম সায়েমসহ স্থানীয় জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শাহরিয়ার কবির স্থানীয় যুব বিভাগের একটি পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন।
খবরটি শেয়ার করুন