ছবি: সংগৃহীত
২০১৯ সালের ১৯ জুলাই নাটকটি মঞ্চে এসেছিল এবং দর্শক-সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল। নাট্য নির্দেশনা, আলো প্রক্ষেপণ, মঞ্চসজ্জা ও শিল্পীদের অভিনয় সব মিলিয়ে সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় ছিল এ প্রযোজনা। চলতি বছর আবারো নতুন উদ্যমে নাটকটি মঞ্চায়নের প্রস্তুতি নিয়েছে আপস্টেজ।
আগামী ১-৩ এপ্রিল শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে তিনদিনে মোট চারটি প্রদর্শনী হবে রাত ভ’রে বৃষ্টির। নাটকটি প্রদর্শিত হবে আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়, ২ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ও ৩ এপ্রিল বিকাল ৫টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।
বুদ্ধদেব বসুর উপন্যাস রাত ভ’রে বৃষ্টির নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন সাইফ সুমন। নাটকটির সংগীত পরিকল্পনা করেছিলেন প্রয়াত অসিত কুমার। আলোক পরিকল্পক অম্লান বিশ্বাস, পোশাক পরিকল্পক ফরিদা লিমা এবং মঞ্চ, পোস্টার ও প্রকাশনা পরিকল্পক সাকিল সিদ্ধার্থ। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন কাজী রোকসানা রুমা, প্রশান্ত হালদার ও রঞ্জন দে সাথী।
রাত ভ’রে বৃষ্টি বিয়ে ও সংসার নামক যৌথ প্রতিষ্ঠানের জটিল পাকচক্রে আবদ্ধ তিন নর-নারীর মনোদৈহিক টানাপড়েনের গল্প। মধ্যবিত্ত সমাজ জীবনে স্বামী-স্ত্রী বা বিবাহিত নারী-পুরুষের দাম্পত্য সম্পর্কের নানা সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জটিলতা, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের সংশয়ী প্রকাশও বটে।
মনিমালা, অংশু ও তাদের বন্ধু জয় এখানে শুধুই তিনটি চরিত্র নয়, বরং প্রচলিত যৌন নৈতিকতার প্রথাগত মূল্যবোধের সঙ্গে ক্রমাগত লড়ে চলা যোদ্ধাও তারা। যদিও চরম ও অন্তর্গূঢ় এ জটিল সম্পর্কের শেষে চরিত্রের উপলব্ধি ‘স্বামী-স্ত্রী জরুরি, বেঁচে থাকাটা জরুরি’।
নাট্যকার ও নির্দেশক এ নাটকের ফিরে আসা নিয়ে বলেন, ‘রাত ভ’রে বৃষ্টি আবার মঞ্চে এল দীর্ঘ ছয় বছর পর। ২০২০ সালের ৪ মার্চ শেষ প্রদর্শনী হয়েছিল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত মঞ্চে। পরবর্তী প্রদর্শনীর তারিখ ছিল ২৪ মার্চ ২০২০ এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে, সেটা আর করা যায়নি করোনা পরিস্থিতির জন্য।’
নতুন করে নাটকটি মঞ্চস্থ করা প্রসঙ্গে বলেন, ‘আগের প্রযোজনার সেট, কস্টিউম, অভিনয় ডিজাইনেও এসেছে পরিবর্তন। অকালে হারিয়েছি এ নাটকের সংগীত পরিকল্পক অসিত কুমারকে, এটা আমাদের জন্য বেদনা ও কষ্টের। অপার সহযোগিতা পেয়েছি অনুস্বরের বন্ধুদের কাছ থেকে, তাদের প্রতি ভালোবাসা অফুরান।’
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন