ছবি: সংগৃহীত
আশ্রয়প্রার্থীদের নীতিতে বড় সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটেন সরকার। নতুন নিয়মে শরণার্থী মর্যাদা এখন থেকে অস্থায়ী থাকবে এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে সময় চার গুণ বাড়িয়ে ২০ বছর করা হবে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত শনিবার (১৫ই নভেম্বর) রাতে এসব পরিবর্তনের বিস্তারিত জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের।
লেবার সরকার অবৈধভাবে ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় পারাপার ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সরকার বলছে, এ পদক্ষেপ ‘রিফর্ম ইউকে’ দলের জনপ্রিয়তা বাড়ার পর জনসাধারণের উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হবে। নতুন নীতি প্রণয়নে ইউরোপে অন্যতম কঠোর দেশ ডেনমার্কের মডেল অনুসরণ করা হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ পদ্ধতির সমালোচনা করছে।
নতুন নিয়মে কিছু আশ্রয়প্রার্থী আর বাধ্যতামূলক সহায়তা পাবেন না। যাদের কাজ করার সক্ষমতা আছে কিন্তু কাজ করেন না অথবা যারা আইন ভঙ্গ করেন, তাদের জন্য সরকারিভাবে দেওয়া আবাসন ও সাপ্তাহিক ভাতা বাতিল করা হবে। করদাতাদের অর্থ মূলত সেই সব মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যবহার করা হবে, যারা অর্থনীতি ও স্থানীয় সমাজে অবদান রাখছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ব্রিটেনের বর্তমান আশ্রয় ব্যবস্থা ইউরোপের তুলনায় বেশি উদার। পাঁচ বছর পর কার্যত স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ মেলে। আমরা সেটি পরিবর্তন করব। এখন থেকে শরণার্থীর মর্যাদা প্রতি আড়াই বছর পর পর পর্যালোচনা করা হবে। স্থায়ী বসবাসের পথও অনেক দীর্ঘ হবে, যা ২০ বছর পর্যন্ত সময় নিতে পারে।’
তিনি জানান, সরকার ইউরোপিয়ান কনভেনশন অব হিউম্যান রাইটসের (ইসিএইচআর) ৮ নম্বর অনুচ্ছেদের ব্যবহার নিয়েও নতুন ঘোষণা দেবে। এ অনুচ্ছেদ পরিবারিক জীবনের অধিকার সম্পর্কিত। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার মনে করে, এটি অনেক সময় এমনভাবে প্রয়োগ করা হয় যা অনিয়মিতভাবে দেশটিতে থাকা ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন