ছবি: সংগৃহীত
নাট্যদল আরশিনগর ঢাকা- এর চতুর্থ প্রযোজনা ‘সিদ্ধার্থ’। নোবেলজয়ী জার্মান সাহিত্যিক হেরমান হেসের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই নাটকটি ইতোমধ্যেই স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। নাট্যরূপ ও নির্দেশনায় রয়েছেন রেজা আরিফ। এর আগে দুই ধাপে নাটকটির মোট ১৫টি সফল প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দর্শক ও সমালোচক—দু’পক্ষের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে।
এই বহুল আলোচিত প্রযোজনাটি আবারও মঞ্চে ফিরছে। আগামী ২৪শে, ২৫শে ও ২৬শে জানুয়ারি শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে টানা তিন দিনে চারটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। ২৪শে ও ২৫শে জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা, এবং ২৬ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটি মঞ্চস্থ হবে।
গৌতম বুদ্ধের আরেক নাম সিদ্ধার্থ হলেও হেরমান হেসের ‘সিদ্ধার্থ’ কোনো ধর্মীয় জীবনী নয়। এটি একজন মানুষের আত্ম-অন্বেষণের যাত্রা। নির্দেশক রেজা আরিফের ভাষায়, “গৌতম বুদ্ধের ঔজ্জ্বল্যে আড়াল হয়ে পড়া গৌতমের ব্যক্তিগত মনোজগতের রঙে সিদ্ধার্থকে আঁকা হয়েছে।”
নাটকের গল্পে দেখা যাবে, ব্রাহ্মণ কুমার সিদ্ধার্থ পিতার অমতে ঘর ছাড়ে- সন্ন্যাস গ্রহণ করে। দীর্ঘ তিন বছর সন্ন্যাসব্রতের কঠোর সাধনা, আত্ম-নিগ্রহ, উপবাস, দৈহিক নির্যাতনের পর সন্ন্যাস ত্যাগ করে। এরপর সৌভাগ্য হয় বুদ্ধের সাক্ষাৎ লাভ ও উপদেশ শোনার আশ্চর্য অভিজ্ঞতার। কিন্তু বুদ্ধের শিষ্যত্ব গ্রহণ না করে পথে বেরিয়ে পড়ে সিদ্ধার্থ।
পথে দেখা হয় নগরের শ্রেষ্ঠ বারাঙ্গনার, পরিচয় হয় নতুন এক জীবনের সাথে। সে জীবনের নাম সংসার- সন্তান লাভের খেলা। দীর্ঘ কুড়ি বছর সে জীবনের নেশায় বুদ হয়ে থাকার পর সিদ্ধার্থের মনে হয় এ খেলা শেষ হয়েছে। সিদ্ধার্থ সে জীবন ত্যাগ করে আশ্রয় নেয় নদীর কাছে।
নদীর কাছে থাকতে থাকতে সিদ্ধার্থ শেখে নদীর ভাষা। উপলব্ধি করে জীবনের বৃহত্তর মানে। জীবন ও মৃত্যু, পাপ ও পূণ্য, বোধ ও নির্বুদ্ধিতা- সবকিছুরই প্রয়োজন আছে জীবনে। এ সকল অভিজ্ঞতা জীবনকে পূর্ণ করে। এ অভিজ্ঞতার নামই জ্ঞান। যা কাউকে শেখানো যায় না; অর্জন করতে হয়।
সমালোচকেরা নাটকটির সংযত অথচ শক্তিশালী নির্দেশনা, দলগত অভিনয়, নান্দনিক কোরিওগ্রাফি ও পরিমিত আলোর ব্যবহারকে প্রশংসা করেছেন। অনেকেই লিখেছেন—নাটকটি দর্শককে কেবল গল্প শোনায় না, বরং ভাবনার এক গভীর পরিসরে নিয়ে যায়।
নিরাভরণ মঞ্চে দেহভাষা, আলো ও শব্দের সমন্বয়ে নির্মিত এই প্রযোজনায় নদী হয়ে ওঠে এক শক্তিশালী প্রতীক। কোরিওগ্রাফি ও আবহসঙ্গীত মিলিয়ে তৈরি হয় এক ধ্যানী আবহ, যা দর্শককে অনবরত যুক্ত রাখে। নাটকের পোশাক ও আলোক পরিকল্পনা এরইমধ্যে পুরস্কৃত হয়েছে, যা এর নান্দনিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি।
নির্দেশনা প্রসঙ্গে রেজা আরিফ বলেন, “এই প্রযোজনার চূড়ান্ত মনোযোগ জীবনোপলব্ধির প্রতি—বাহ্যিক আভরণ তার অনুষঙ্গ মাত্র।”
যারা এর আগে ‘সিদ্ধার্থ’ দেখেছেন, তাদের অনেকেই বলেছেন—নাটকটি শেষ হওয়ার পর দর্শক থিয়েটার ছাড়েন নতুন প্রশ্ন, নতুন উপলব্ধি এবং এক ধরনের নীরব প্রশান্তি নিয়ে। তাই ‘সিদ্ধার্থ’ কেবল একটি মঞ্চনাটক নয়; এটি এক জীবনানুসন্ধানের অভিজ্ঞতা।
মঞ্চে:
পার্থ প্রতিম, কাজী নওশাবা আহমেদ, জিনাত জাহান নিশা, ওয়াহিদ খান সংকেত, নাজমুল সরকার নিহাত, মাঈন হাসান, রেফাত হাসান সৈকত, ইসনাইন আহমেদ জিম, শাহাদাত নোমান, মাইনউদ্দিন বাবু, প্রিন্স সিদ্দিকী, এস. এম. মাহাফুজুর রহমান, আরিফুল ইসলাম নীল, আলী আক্কাছ আকাশ, পলি পারভীন, আজমেরী জাফরান রলি, প্রজ্ঞা প্রতীতি, জিতাদিত্য বড়ুয়া, নাসিম পারভেজ প্রভাত, জেরিন চাকমা, ক্যামেলিয়া শারমিন চূড়া, সাজ্জাদুল শুভ, নাফিসা নূর নোভা, দেবাশীষ চন্দ্র দুর্লভ, অদ্বিতীয়া ধর পদ্য, অভিজ্ঞান ধর কাব্য, শাকিল মাহমুদ মিহির, উৎপল নীল, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, বর্ণময় হৃদয়, সারিকা ইসলাম ঈষিকা, ইমাদ ইভান, রাদিফা নারমিন, হিমালয় রাজপাল হিমু, ফারজানা জলি, মুনতাহানা ফিজা ও সাহস অনির্বাণ রেজা।
নেপথ্যে—
উপন্যাস: হেরমান হেসে
অনুবাদ: জাফর আলম
নাট্যরূপ ও নির্দেশনা: রেজা আরিফ
সহকারী নির্দেশক: নুসরাত জাহান জিসা
অভিনয় নির্দেশনা: পার্থ প্রতিম
প্রোডাকশন ডিজাইন: মো: সামিউল হক
প্রযোজনা অধিকর্তা: স্নেহাশীষ চন্দ্র দেবনাথ
মঞ্চ ও আলো: অনিক কুমার
পোষাক: জিনাত জাহান নিশা ও নুসরাত জাহান জিসা
কোরিওগ্রাফি: নুসরাত জাহান জিসা, আকাশ সরকার, প্রান্তিক দেব
দ্রব্য সামগ্রী: অনিক কুমার ও নুসরাত জাহান জিসা, শহিদ মৃধা
আলোক সহকারী: অভিক সাহা, শোভন চক্রবর্তী
আবহ সঙ্গীত তত্ত্বাবধান: সাদমান রাব্বি অন্তর, এস এম মাহফুজুর রহমান
আবহসঙ্গীত:
আরিফুল ইসলাম নীল, এস. এম. মাহাফুজুর রহমান, আকাশ তুহিন, নাজমুল সরকার নিহাত, জিনাত জাহান নিশা, উস্মিতা আনিলা, প্রজ্ঞা প্রতীতি, ক্যামেলিয়া শারমিন চূড়া, নাসিম পারভেজ প্রভাত, পার্থ প্রতিম, জিতাদিত্য বড়ুয়া, আজমেরী জাফরান রলি, প্রজয় বকশী, অদ্বিতীয়া ধর পদ্য, পলি পারভীন, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, ফারজানা জলি, হিমালয় রাজ পাল হিমু, আহসান মহিউদ্দিন খান বাপ্পা, সিলভিয়া ম্রোং
মিলনায়তন ব্যবস্থাপনা:
নিতাই কর্মকার, শুভ মণ্ডল, নাজমুল রিগান, শহিদ মৃধা মৃধা, হাসান অমিত, আহসান মহিউদ্দিন খান বাপ্পা, মাহবুব আলম রনি, সাব্বির হাসান, জাহিদ হাসান যুবায়ের, সারিকা ইসলাম ঈষিকা, ইমাদ ইভান, শাহাদাত নোমান, ইসনাইন আহমেদ জিম ও আরশিজন
মঞ্চ ব্যবস্থাপনা: পলি পারভীন
প্রযোজনা ব্যবস্থাপনা : ওয়াহিদ খান সংকেত।
খবরটি শেয়ার করুন