ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা–৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের কিছু হয়ে গেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলটিকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতা ও বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর। তিনি, জনগণ তখন এদের কোনো ছাড় দেবে না
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মিজা আব্বাসের বিরুদ্ধে অসভ্য আচরণের প্রতিবাদ করে বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতির মাঠে থাকলে এসব অসভ্য সোজা থাকত। ১৯৭১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচন দেখে আসছি। এবারের মতো আর কোনো নির্বাচনের আগে প্রতিপক্ষের সঙ্গে এমন অসভ্য আচরণ করতে দেখা যায়নি। এই আচরণ করেছে এনসিপির ছেলেপুলেরা।
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাজনৈতিক ভাষার অবনতি এবং প্রতিপক্ষকে আক্রমণের ধরন। এ প্রসঙ্গে মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর এনসিপির রাজনীতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। জাতীয় একটি দৈনিক পত্রিকার নিয়মিত টকশোতে দেওয়া বক্তব্যে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি দাবি বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নতুন নেতিবাচক ধারা প্রবেশ করছে, যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।
অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি বলেন, “এনসিপি যে রাজনীতি করছে, এটা খিস্তি-খেউরের রাজনীতি।” তার মতে, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকা স্বাভাবিক হলেও ভাষার এই অবনতি গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকবে, কিন্তু গালিগালাজ কখনো রাজনীতির ভাষা হতে পারে না।”
মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা করার পরিবর্তে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। তার ভাষায়, “এভাবে চলতে থাকলে রাজনীতি আর রাজনীতি থাকবে না, এটা অন্য কিছুর রূপ নেবে।”
তিনি বলেন, এই ধরনের রাজনীতি নতুন প্রজন্মের জন্য ভুল বার্তা দিচ্ছে। তরুণেরা যদি দেখে রাজনীতি মানেই গালিগালাজ, তাহলে তারা ইতিবাচকভাবে রাজনীতিতে অংশ নিতে আগ্রহ হারাবে।
আলোচনায় তিনি ‘মব পলিটিক্স’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার রাজনীতির ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, “এই ধরনের ভাষা শেষ পর্যন্ত মব কালচারের জন্ম দেয়।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারে, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভিন্নমতকে সম্মান করার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে।” তার মতে, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হচ্ছে মতের ভিন্নতা এবং সেই ভিন্নতাকে সহ্য করার মানসিকতা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা উচিত।
খবরটি শেয়ার করুন