সোমবার, ১৬ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে হত্যা, আটক ১ *** লালমনিরহাটের ‘এমপি সাহেবের থার্টি পারসেন্টের’ কথোপকথনের অডিও ভাইরাল *** এখনো মরেননি নেতানিয়াহু, ভিডিওতে দেখালেন হাতের ৫ আঙুল *** দলীয় পদে থাকা কারাবন্দী ও মামলার শিকার সাংবাদিকদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী হবে *** বৈষম্য, গ্রেপ্তার, মৃত্যু ও যুদ্ধের নীরব ভুক্তভোগী বাংলাদেশিরা *** ইরানে আরও তিন সপ্তাহ হামলা চালাবে ইসরায়েল *** সংবিধান সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন, সরকারি ও বিরোধী দলের বাহাস *** ‘রাষ্ট্রপতি অস্তিত্বহীন সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে পারেন না’ *** ‘৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙার নির্দেশ কারা দিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার’ *** ডিজিএফআই–প্রধানের দিল্লি সফরে সম্পর্কের বরফ গলার আভাস

বাউলের চর্যাগানে অসাম্প্রদায়িক চেতনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৩:৩২ অপরাহ্ন, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৪

#

রবিউল হক

চর্যা পদকর্তাগণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই বাংলায় অসাম্প্রদায়িক চেতনার জয়ধ্বনি করে গেছেন হাজার বছর পূর্বে। মানবতার জয়গান করে গেছেন চর্যার ভাবসাধকেরা। মহাত্মা ফকির লালন তার রচিত অসংখ্য বাণীতে মানবতার মূর্ত প্রতীকরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। মধ্যযুগে চন্ডীদাসের বাণীতে শুনি মানবতার উদাত্ত আহবান। তিনি বলেছেন, “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই”। ফকির লালন বলেছেন, “মানুষ ভোজলে সোনার মানুষ হবি”। একটি অসাম্প্রদায়িক জাতি গঠনে মানবতার জয়গানে চর্যা ভাবসাধক চন্ডীদাস, ফকির লালন এবং বর্তমান ভাব সাধকগণ যেন একই সুতোয় গাঁথা।

মল্লারী রাগে রচিত চর্যার ৪৪তম পদে পদকর্তা কঙ্কন পা বলেছেন, “সুনে সুন মিলিয়া যবে, সঅল ধামঅ ঊইআ তঅবে”। অর্থাৎ, শূন্যে শূন্য যখন মিলিত, সকল ধর্ম তখন উদিত। বৌদ্ধদের মোক্ষ লাভের সর্বোচ্চ পর্যায় হচ্ছে নির্বাণ। সহজিয়া ঘরানার এই পদকর্তাগণ যে উচ্চমার্গীয় ভাবসাধক ছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যখন একজন মানুষ তার সাধনার দ্বারা ষড়রিপু নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পার্থিব চাওয়া-পাওয়া থেকে মনকে শূন্যে বিলিন করতে পারে তখনই তার প্রকৃত ধর্মের উদয় ঘটে। জাতি, ধর্ম, বর্ণের কোনো ভেদাভেদ যেখানে থাকবে না, মানুষকে ‘মানুষ’ হিসেবে গণ্য করার প্রবণতা যেখানে থাকবে, সেখানেই কেবল অমলিন প্রসন্ন চিত্ত শূন্যে বিলিন হতে পারে। কঙ্কন পা আরও বলেছেন, “আসুহু চৌখন সঙবোহি, মাঝনিরোহে অনুঅড় বহি/ বিদু নাদ নঅই চিএ পঅইঠ, আন চাহন্তে আন বিনঅঠ”। অর্থাৎ, প্রকৃতির মাঝে তুমি সদাই বিরাজমান থেকেও কেন উত্তর খুজে পাও না?

আরও পড়ুন : বাউলের চর্যাগান—বাঙালির আদি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

এদিকে তত্ত্বজ্ঞান চিত্ত মাঝে প্রবিষ্ঠ না হওয়ায় এক হতে আরেকটি ক্ষতির সম্মুখিন হতে চলেছে। পদকর্তা কঙ্কন পা তাই ধর্মীয় বিভেদ, সংঘাত ও বৈষম্য ভুলে মানবসৃষ্টির নিগূঢ়তত্ত্ব অনুসন্ধানের উদাত্ত আহবান করে বলছেন, “যথা আইলেছি তঅথা জানঅ, মাসং থাহি সঅল বিহানঅ/ ভনই কঙ্কন কলএল সাআদে, সঅব বিচ্ছুরিলঅ তথতানাদে”। অর্থাৎ কঙ্কন বলতেছেন, তুমি যেখান থেকে এসেছ সেই নিগূঢ় রহস্য সম্পর্কে আগে জানো, তোমার মানবভান্ডেই সব বিরাজ করছে। সৃষ্টির এ রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারলে তোমার মনে যে নদী বহমান তাতে কলকল শব্দে সবকিছু নিমেষেই বিচূর্ণ হয়ে যাবে।

চর্যাগান পূনর্জাগরণের একজন ভাবসাধক বলেছিলেন, “সবার আগে আমাদের দেহের বৈষম্য দূর করা দরকার, তবেই না বৈষম্যহীন মানবিক পৃথিবী গড়ে তুলতে পারবো’’। বাউল দর্শনে একটি অমর বাণী প্রবাদ হিসেবে বেশ জনপ্রিয় যেখানে গোটা পৃথিবীর সব কিছুর সাথে মানব দেহের তুলনা করা হয়েছে। বাউল দর্শনে বলা হয়েছে, “যাহা আছে বিশ্ব ব্রমাণ্ডে, তাহা আছে মানব ভাণ্ডে”। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষই পারে এই পৃথিবীকে প্রশান্তিময় করে তুলতে। মানবিক মানুষ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে গেয়ে উঠুক মানবতার জয়গান। জনৈক বাউল সাধকের বাণীর সাথে সুর মিলিয়ে আমরা সকলে সমস্বরে গেয়ে উঠি-

“যদি সবাই হয় প্রকৃতির সন্তান, তবে কে হিন্দু আর কে মুসলমান?
কে বা বৌদ্ধ কে বা খ্রিস্টান? থাকো না মিলে মিশে……
এতো বিভেদ কেন মানুষে মানুষে?”।

রবিউল হক, লোক গবেষক ও শিল্পী

আই.কে.জে/



বাউলের চর্যাগান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

ট্রাম্পের সাহস থাকলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠাক: ইরানের চ্যালেঞ্জ

🕒 প্রকাশ: ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, ১৬ই মার্চ ২০২৬

‘বিজয় ঘোষণার সময় হয়নি’, ইরানিরা কেন রাস্তায় নামছে না—কারণ জানেন ট্রাম্প

🕒 প্রকাশ: ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, ১৬ই মার্চ ২০২৬

খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০২:১৪ অপরাহ্ন, ১৬ই মার্চ ২০২৬

আওয়ামী লীগের ইফতার অনুষ্ঠান ভারত সরকার ‘বর্জনের’ যে ব্যাখ্যা দিলেন সাংবাদিক জুলকারনাইন

🕒 প্রকাশ: ০২:১৪ অপরাহ্ন, ১৬ই মার্চ ২০২৬

ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন সরকারি সংস্থার

🕒 প্রকাশ: ০১:৪৫ অপরাহ্ন, ১৬ই মার্চ ২০২৬

Footer Up 970x250