বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘একাত্তরের গণহত্যাও কি ধর্মের লেবাস চড়িয়েই চালানো হয়নি?’ *** নির্বাচন সামনে রেখে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সুরক্ষার অঙ্গীকার চায় সিপিজে *** টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৯০ ক্রিকেটার ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’ *** ‘তারেক রহমান মনোনীত ৩০০ গডফাদারকে না বলুন, বাংলাদেশ মুক্তি পাবে’ *** সরকারি কর্মচারীদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’–এর পক্ষে প্রচার দণ্ডনীয়: ইসি *** যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের টানাপোড়েনে মধ্যস্থতা করতে চায় তুরস্ক *** ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করছে ইইউ *** হাজিরা পরোয়ানাকে ‘জামিননামা ভেবে’ হত্যা মামলার ৩ আসামিকে ছেড়ে দিল কারা কর্তৃপক্ষ *** আওয়ামী ভোটব্যাংক: জয়-পরাজয়ের অদৃশ্য সমীকরণ *** ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ের যুক্তি অযৌক্তিক নয়’

শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় থাইল্যান্ডের নজর শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশে

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৬:০০ অপরাহ্ন, ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

শ্রমসংকট মোকাবিলায় বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। এর অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা থেকে প্রথম ধাপে ১০ হাজার শ্রমিক আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন থেকেও শ্রমিক আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে নতুন করে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে। খবর নিক্কেই এশিয়ার।

থাইল্যান্ডের কৃষি, নির্মাণ ও মৎস্যশিল্প দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবেশী মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওস থেকে আসা শ্রমিকেরাই এ খাতের মূল শক্তি। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা গেছে, জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধিত কম্বোডিয়ার শ্রমিক ছিলেন ৫ লাখ ৬০৬ জন। তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) অনুমান করছে, আরও প্রায় ৫ লাখ নিবন্ধনবিহীন কম্বোডিয়ার শ্রমিক থাইল্যান্ডে কাজ করছেন।

কিন্তু গত ২৪শল জুলাই থাই-কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষের পর বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিজ দেশে ফিরে যান। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক লাখ শ্রমিক দেশ ছেড়েছেন। এতে শিল্প খাতে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রী পংকাভিন জুয়াংরুয়াংকিত জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কা এখনই ১০ হাজার শ্রমিক পাঠাতে প্রস্তুত। এরই মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি শ্রীলঙ্কান থাইল্যান্ডে কাজের জন্য নিবন্ধন করেছেন। তবে কেবিনেট বৈঠকের সারসংক্ষেপে স্পষ্ট উল্লেখ আছে—বাংলাদেশ থেকেও শ্রমিক নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশি শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও কোরিয়ার শ্রমবাজারে কাজ করছেন। তুলনামূলক ভালো মজুরি ও কর্মপরিবেশ থাকলেও থাইল্যান্ড এখনো বাংলাদেশের শ্রমবাজারে বড় গন্তব্য হয়ে ওঠেনি। তবে বর্তমান সংকট নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশটির বেকারত্বের হার ছিল মাত্র দশমিক ৮১ শতাংশ। অর্থাৎ দেশটিতে স্থানীয় শ্রমিকের অভাব রয়েছে। থাইল্যান্ড চেম্বার অব কমার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক আনুসর্ন তামাজাই বলেন, থাইল্যান্ডের শ্রমনির্ভর শিল্প বিদেশি শ্রমিক ছাড়া টিকে থাকা কঠিন। কিন্তু দেশটি এখন বার্ধক্যজনিত সমাজে প্রবেশ করছে, ফলে শ্রমঘাটতি আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে হলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। কারণ, এসব দেশে মজুরি ও কর্মপরিবেশ অনেক ভালো। নীতিনির্ধারক ও অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সম্ভাবনার জানালা হলেও সরকারিভাবে উদ্যোগ না নিলে সুযোগ কাজে লাগানো কঠিন হবে।

অভিবাসী অধিকার সংগঠন মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সমন্বয়ক আদিসর্ন কের্ডমংকল জানিয়েছেন, এখনো পরিষ্কার নয়, থাইল্যান্ড সরকার কোন খাতে শ্রমিক নেবে এবং কীভাবে তাদের আনা হবে। দূরবর্তী দেশ থেকে শ্রমিক আনতে বিমান ভ্রমণের খরচও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার ঘোষণা ইতিবাচক হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সুযোগ কাজে লাগাতে দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে। শ্রমিকদের দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে থাইল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

থাইল্যান্ড শ্রমবাজার

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250