মঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিএনপি আজ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবে কি না, স্পষ্ট হয়নি *** যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অধীনতার চুক্তি করে বিদায় নিচ্ছেন ড. ইউনূস: আনু মুহাম্মদ *** আজ আমি বিদায় নেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়েছি: প্রধান উপদেষ্টা *** নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার নির্দেশ *** পুতিন মডেলের ক্ষমতা চান ট্রাম্প, পশ্চিমের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তিনি: হিলারি *** জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ক্যামেরায় আবুধাবিতে ধরা পড়ল রমজানের চাঁদ *** পরিবারের কাছে যেতেই পারি, অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার ব্যাখ্যায় বিসিবি সভাপতি *** নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ৫৫১ পেশাজীবীর বিবৃতি *** ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না জামায়াতের এমপিরা *** ‘ভারতকে বুঝতে হবে, শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর নেই’

দ্য হিন্দুকে মির্জা ফখরুল

‘শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করলেও ভারতের সঙ্গে বিস্তৃত সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে বাধা হবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩২ অপরাহ্ন, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ–ভারতের সম্পর্ক কোনো একটি ইস্যুতে ‘বন্দী’ বা আটকে হয়ে থাকা উচিত না। গণ-আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করলেও তা ভারতের সঙ্গে বিস্তৃত সম্পর্ক গড়তে বাংলাদেশের পথে বাধা হবে না। এমনটাই বলেছেন বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খবর দ্য হিন্দুর।

ঢাকার গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে যেসব প্রকল্প আছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারত্বও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি শেখ হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাকে শাস্তি দেওয়ার জনদাবি রয়েছে। আমরা মনে করি, তাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ভারতের। কিন্তু ভারত যদি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে না দেয়, তবুও তা বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্কসহ বিস্তৃত সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে বাধা হবে না। আমরা আরও ভালো সম্পর্ক গড়তে চাই।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত–বাংলাদেশের বৃহত্তর সম্পর্ক একটি মাত্র ইস্যুতে ‘বন্দী’ থাকা উচিত নয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ বারবার ভারতের কাছে শেখ হাসিনা ও ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু গত ১৭ মাসে ভারত এসব অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি। মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভা এবং আমলাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং তা চলবে।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল। সে সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে ছিলেন। তিনি বলেন, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের কিছু জটিল ইস্যু আছে। তবে তা সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে ছাপিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা ও চীনের মধ্যে অনেক সমস্যা আছে। তবুও তারা একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে। ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কেও আমরা একটি ইস্যুতেই আটকে থাকতে পারি না।’

তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। ১৯৭৫ সালের আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর, যখন শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা ভারতে অবস্থান করছিলেন, তখন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভারত সফর করেন। তিনি ঢাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইকে আতিথ্য দেন। পরে ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে তিনি দিল্লি সফর করে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় শেখ হাসিনা রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশের জন্য দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটাই ছিল রাষ্ট্রনায়কসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি।’

তিনি বলেন, আগামী বছরের আগে গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়নের সময় ফারাক্কার পানির বিষয়টি সামনে আসবে। সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ও রয়েছে। এসব নিয়ে আলোচনা করতেই হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের কথা বলতে হবে (আলোচনা করতে হবে)। যারা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলে, তারা পাগলের মতো কথা বলে।’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে মিল রেখে মির্জা ফখরুল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে মত দেন। তিনি এরই মধ্যে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

তিনি বলেন, প্রতিশোধ ও সহিংসতা গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ার জন্য ক্ষতিকর। ২০২৪ সালের আগস্টের সহিংস অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক সমঝোতা আনতে পারেনি। কারণ ‘অভ্যুত্থানের নেতারা অধ্যাপক ইউনূসকে বেছে নিয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, অধ্যাপক ইউনূস সেই নির্দেশনার বাইরে যেতে পারেননি।

বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিকে তিনি এমন একটি সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন, যার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশ বাণিজ্য, ব্যবসা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। তিনি বলেন, ‘ভারতের কারিগরি শিক্ষায় সম্পদ রয়েছে। আমাদের দেশে বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণ আছে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের উপসাগরীয় দেশে চাকরি পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা নতুন সরকারকে সামলাতে হবে। বিভিন্ন মেগা প্রকল্প নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। কোনগুলো অপ্রয়োজনীয় বা অপচয়মূলক, তা দেখা হবে। তার ভাষায়, ‘যেগুলো বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে, সেগুলো আমরা রাখব।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

বিএনপি আজ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবে কি না, স্পষ্ট হয়নি

🕒 প্রকাশ: ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অধীনতার চুক্তি করে বিদায় নিচ্ছেন ড. ইউনূস: আনু মুহাম্মদ

🕒 প্রকাশ: ১১:৫৫ অপরাহ্ন, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আজ আমি বিদায় নেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়েছি: প্রধান উপদেষ্টা

🕒 প্রকাশ: ১১:৪২ অপরাহ্ন, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার নির্দেশ

🕒 প্রকাশ: ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পুতিন মডেলের ক্ষমতা চান ট্রাম্প, পশ্চিমের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তিনি: হিলারি

🕒 প্রকাশ: ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Footer Up 970x250