চলতি মাসের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’, ‘সাজানো’ এবং একই দিন অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলকে ‘বিতর্কিত’ দাবি করে তা বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের ৫৫১ জন বিশিষ্ট পেশাজীবী। বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ‘অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচন’ আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিদাতারা বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাংবিধানিকভাবে ‘অবৈধ’। এই ‘অবৈধ সরকারের’ অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট মারাত্মকভাবে ‘ত্রুটিপূর্ণ’, যা ইতোমধ্যে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। নির্বাচনে জাল ভোটের ছড়াছড়ি, ভোটারবিহীন ফাঁকা ভোটকেন্দ্রের চিত্র, ভোটের দিনের আগের রাতে ব্যালট পেপারে অবাধে সিল মারার মহোৎসব এই নির্বাচনকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘কলংকিত’ করেছে।
তারা বলেন, ‘দেশের ৫০%-এর অধিক ভোটারদের সমর্থিত ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ, ১৪ দলের জোট ও অন্যান্য প্রগতিশীল দলকে অবৈধ, অসাংবিধানিক পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে গঠিত ড. ইউনূসের সরকার কোনো আইন, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের বাইরে রেখে যে নির্বাচনের আয়োজন করেছে, সেটাকে গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) বৈশ্বিক বিভিন্ন সংস্থার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণেও ড. ইউনূস সরকারের ‘তামাশার নির্বাচন’ নিয়ে এসব চিত্র ফুটে উঠেছে। এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন -এর চেয়ারম্যান রোহানা হেতিয়ারাসসি নির্বাচন পর্যবেক্ষণোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় অন্তর্ভূক্তি ও রাজনৈতিক প্রতিযোগীতায় প্রভাব রেখেছে। তিনি নির্বাচনে জবাবদিহির সংকট ছিল বলে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিদাতারা বলেন, এবারের ‘প্রহসনমূলক নির্বাচনে’ ২৫-৩০%- এর বেশি ভোট পড়েনি বলে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচনে ৮৭.৫%-এর অধিক ভোট পড়েছিল। এতে প্রমাণিত হয়, এবারের নির্বাচন জনগণের কাছে ‘হণযোগ্যতা’ পায়নি। তারা ভোট ‘বর্জন’ করেছেন।
তারা বলেন, গণভোটের ফলাফল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ‘তেলেসমাতিতে জাতি বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে’। ‘কারচুপির আশ্রয়’ নিতে ও সুবিধা পাওয়ার প্রত্যয়ে গণভোটের ব্যালট পেপারে সিরিয়াল নম্বর দেওয়া হয়নি। উপরন্তু ব্যালটে ‘হ্যাঁ’- এর পাশে ‘টিক’ এবং ‘না’-এর পাশে ‘ক্রস’ চিহ্ন দিয়ে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’- তে সিল মারার জন্য প্রভাবিত করা হয়েছে। গণভোটে দেশের একাধিক আসনে ১৭৫%-২৪৪% পর্যন্ত ভোট প্রদান করা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। এতে গণভোট নিয়ে ‘হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে জনমনে’।
‘অবৈধ’ সরকারের গঠিত ‘বিতর্কিত’ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইউনূস সরকারের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করে নিজেদের পক্ষপাতদুষ্ট করে ফেলেছে এবং বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।’ তাই দেশের পেশাজীবীরা অবিলম্বে বিভিন্ন ‘অনিয়মে জর্জরিত ও অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাতিল করে অবিলম্বে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবি’ জানান বিবৃতিতে।
একইসঙ্গে তারা নির্বাচন কমিশন পুনঃর্গঠন করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে জাতির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, আমরা মনে করি, অন্তর্ভূক্তিমূলক রাজনীতি ও সমাজ গড়াকে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব নয়।
সুখবর ডটকমসহ দেশের অন্য জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এই বিবৃতি আজ সোমবার (১৬ই ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পাঠানো হয়।
বিবৃতিদাতারা হলেন (জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে নয়)-
১. সাংবাদিক মোল্লা জালাল
২. সাংবাদিক সৈয়দ বদরুল আহসান
৩. সাংবাদিক ফরিদা ইয়াসমিন
৪. সাংবাদিক মঞ্জরুল ইসলাম
৫. সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবীর
৬. সাংবাদিক শাবান মাহমুদ
৭. সাংবাদিক আবু জাফর সূর্য
৮. সাংবাদিক সোহেল হায়দার চৌধুরী
৯. সাংবাদিক মোহিদুল ইসলাম রাজু
১০. সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন সবুজ
১১. সাংবাদিক আশরাফ আলী
১২. সাংবাদিক পুলক ঘটক
১৩. সাংবাদিক আকতার হোসেন
১৪. সাংবাদিক শরীফ শাহাব উদ্দিন
১৫. সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী
১৬. সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব
১৭. সাংবাদিক সাইদুজ্জামান সম্রাট
১৮. সাংবাদিক জে এম রউফ
১৯. সাংবাদিক আতাউর রহমান
২০. সাংবাদিক ফজলুল বারী
২১. সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গীর
২২. সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি
২৩. সাংবাদিক খায়রুল আলম
২৪. সাংবাদিক তৈমুর ফারুক তুষার
২৫. সাংবাদিক শেখ জামাল
২৬. সাংবাদিক আমজাদ হোসেন মিন্টু
২৭. সাংবাদিক সুলতানা রহমান
২৮. সাংবাদিক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল
২৯. সাংবাদিক খন্দকার ইসমাইল
৩০. সাংবাদিক ফাল্গুনী দত্ত
৩১. সাংবাদিক সানজিদ আহমেদ
৩২. সাংবাদিক শাহনাজ রুমা
৩৩. সাংবাদিক আপেল মাহমুদ
৩৪. সাংবাদিক মোহাম্মদ শামীম
৩৫. সাংবাদিক মারিয়া সালাম
৩৬. সাংবাদিক গোলাম মুজতবা ধ্রুব
৩৭. সাংবাদিক জাকির হোসেন ইমন
৩৮. সাংবাদিক একেএম ওবায়দুর রহমান
৩৯. সাংবাদিক সিদ্দিকুর রহমান
৪০. সাংবাদিক সাজেদা পারভীন
৪১. সাংবাদিক তৌফিক মারুফ
৪২. সাংবাদিক জহিরুল হক টুকু
৪৩. সাংবাদিক শামীমা আক্তার দোলা
৪৪. সাংবাদিক মাহবুব হাসান
৪৫. সাংবাদিক সিরাজুজ্জামান
৪৬. সাংবাদিক মুহাম্মদ মামুন শেখ
৪৭. সাংবাদিক আসাদুর রহমান
৪৮. সাংবাদিক সোহেলী চৌধুরী
৪৯. সাংবাদিক শহিদুল হক জীবন
৫০. সাংবাদিক সৈয়দ নূর-ই আলম
৫১. সাংবাদিক সাবিরা ইসলাম
৫২. সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম পিন্টু
৫৩. সাংবাদিক হামিদ মোহাম্মদ জসিম
৫৪. সাংবাদিক শহিদুল হাসান খোকন
৫৫. সাংবাদিক রেজাউল করিম রেজা
৫৬. সাংবাদিক বাণী ইয়াসমিন হাসি
৫৭. সাংবাদিক এফ এম শাহীন
৫৮. সাংবাদিক রাজু হামিদ
৫৯. সাংবাদিক হায়দার হোসেন
৬০. সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন
৬১. সাংবাদিক সাজেদা হক
৬২. সাংবাদিক হালিমা আক্তার
৬৩. সাংবাদিক ইমরান হাসান টুটুল
৬৪. সাংবাদিক প্রদীপ কুমার চৌধুরী
৬৫. সাংবাদিক জুনায়েদ শাহরিয়ার
৬৬. সাংবাদিক ফারজানা শোভা
৬৭. সাংবাদিক মাইনুল ইসলাম
৬৮. সাংবাদিক মুশফিকুর রহমান
৬৯. সাংবাদিক ড. প্রদীপ রায়
৭০. সাংবাদিক শতদল তালুকদার
৭১. সাংবাদিক সুরঞ্জিত বিশ্বাস সুমন
৭২. সাংবাদিক ঝর্না মনি
৭৩. সাংবাদিক নওশাদ জামিল
৭৪. সাংবাদিক আজহার মাহমুদ
৭৫. সাংবাদিক শফিকুল আলম মিলন
৭৬. সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন
৭৭. সাংবাদিক হাসনাত শাহীন
৭৮. সাংবাদিক শেখ কলিমউল্যাহ নয়ন
৭৯. সাংবাদিক মাজেদুল ইসলাম পাপেল
৮০. সাংবাদিক কামরুল ইসলাম
৮১. সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আজম
৮২. সাংবাদিক ওয়ারেসুন্নবী খন্দকার
৮৩. সাংবাদিক রুবেল হাসান
৮৪. সাংবাদিক রমজান আলী
৮৫. সাংবাদিক রহিমা আক্তার
৮৬. সাংবাদিক এনামুল হক মনি
৮৭. সাংবাদিক নাছির উদ্দিন চৌধুরী
৮৮. সাংবাদিক মো: রিয়াজ হোসেন
৮৯. সাংবাদিক ইমরানুল আজিম চৌধুরী
৯০. সাংবাদিক গাজী শাহ রিয়াজ
৯১. সাংবাদিক ইসরাফিল শাহীন
৯২. সাংবাদিক উৎপল দাস
৯৩. সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ
৯৪. সাংবাদিক ওয়াহিদুর রহমান রুবেল
৯৫. সাংবাদিক এসকে রেজা পারভেজ
৯৬. সাংবাদিক অহিদুল ইসলাম
৯৭. সাংবাদিক মিজানুর রহমান অপু
৯৮. ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী
৯৯. ডা. কামরুল আহসান
১০০. ডা. এস ইউ আহমেদ
১০১. ডা. রোকেয়া সুলতানা
১০২. ডা. রুহুল হক
১০৩. ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত
১০৪. ডা. হাবিবে মিল্লাত
১০৫. ডা. এম এ আজিজ
১০৬. ডা. আবু ইউসুফ
১০৭. ডা. জহুরুল হক
১০৮. ডা. সোহেল মাহমুদ
১০৯. ডা. চিত্ত রন্জন
১১০. ডা. নাসির উদ্দিন
১১১. ডা. পূরবী রানী
১১২. ডা. আহসান হাবিব
১১৩. ডা. সর্দার কাউসার
১১৪. ডা. আল-আমিন
১১৫. ডা. মির্জা নজরুল
১১৬. ডা. মতিউর রহমান
১১৭. ডা. আবু নসর
১১৮. ডা. রেজাউল আমিন
১১৯. ডা. কাজল
১২০. ডা. ফয়সাল
১২১. ডা. সৈকত
১২২. ডা. ইশরাক
১২৩. ডা. হুমায়ুন
১২৪. ডা. জাকির সুমন
১২৫. ডা. জাবেদ
১২৬. ডা. নাসরিন
১২৭. ডা. ডাঃ বিজয়
১২৮. ডা. হেলাল
১২৯. ডা. সায়েম, এবং
১৩০. ডা. হেদায়েত প্রমুখ।
খবরটি শেয়ার করুন