ফাইল ছবি
জাতীয় দলে তিনি এখন ব্রাত্য। কোচ পিটার বাটলার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন দলে জায়গা হবে না অভিজ্ঞ এই তারকার। ঘরোয়া নারী ফুটবল লিগ খেলা থেকেও বঞ্চিত। ২০২৪ সালের অক্টোবরে নেপালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলার পর তাই আর ম্যাচ খেলা হয়নি সাবিনা খাতুনের।
গত ১৪ মাস তিনি পুরোপুরি ফুটবলের বাইরে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও হার মানতে চান না বাংলাদেশের নারী ফুটবলের একসময়ের পোস্টার গার্ল সাবিনা খাতুন। তার ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলা সমালোচকদের উদ্দেশে সাবিনা সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘আমি কবে ফুটসাল ছাড়ব বা ফুটবল ছাড়ব, সেটা আমিই ঠিক করব।’
গত বছরের জানুয়ারিতে কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের জেরে সাবিনা, সুমাইয়া, কৃষ্ণা, মাসুরা ও সানজিদাদের মতো তারকাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর তারা ভুটানে লিগ খেলতে চলে যান। সেখান থেকে ফেরার পর সানজিদা ছাড়া বাকিদের ফুটসাল দলে জায়গা দেওয়া হয়েছে। সাবিনাকে করা হয়েছে ফুটসাল দলের অধিনায়ক, সুমাইয়া সহ-অধিনায়ক।
তবে ফুটসালে যুক্ত হওয়ায় এই খেলোয়াড়দের কেউই ঘরোয়া ফুটবল লিগে খেলতে পারছেন না। ফুটবল থেকে দূরে থাকার এই সময়টা কি তাহলে ফুটবল ক্যারিয়ারে দাঁড়ি পড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত? এমন প্রশ্নের জবাবে ৩২ বছর বয়সী সাবিনা বলেন, ‘ক্যারিয়ার কখন শেষ হবে, সেটা মনে হয় খেলোয়াড়েরা ঠিক করলেই ভালো হয়। এই জায়গায় আমি পেশাদার।’
পরে তার সংযোজন, ‘আমি এখন ফুটসালে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এ রকমও কিছু নয়। যেহেতু আমি আগে ফুটসাল খেলেছি, আমার অভিজ্ঞতা আছে, এখন যদি মেয়েদের সমর্থন দিতে পারি, তাহলে কেন যাব না?’
ফুটবল থেকে দূরে থাকলেও ফুটসালের প্রতি সাবিনার টান পুরোনো। তিনিই মনে করিয়ে দিলেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে বিদেশের মাটিতে তিনি ফুটসাল খেলতে গিয়েছিলেন মালদ্বীপে।
দীর্ঘ ৭ বছর পর (২০১৮ সালের পর) আবার জাতীয় দলের জার্সিতে ফুটসাল খেলতে যাওয়া নিয়ে সাবিনা তাই রোমাঞ্চিত। তার কথা, ‘যেহেতু ফুটসাল আমাদের জন্য নতুন খেলা আর দেশের প্রয়োজনে যাওয়া, সেখানে যদি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে একটা ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারি, তাহলে পরের প্রজন্মের জন্য পথটা মসৃণ হবে।’
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন