ছবি: সংগৃহীত
ইরানে লাগামহীন মুল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক দুরাবস্থার প্রতিবাদে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ তীব্র রূপ নিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভ দমনে আজ শুক্রবার (৯ই জানুয়ারি) ইরানে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বাইরের বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ইরান।
এতে আরও বলা হয়, শুক্রবার ইরান থেকে কোনো ফোন কল বাইরে যাচ্ছে না এবং বাইরে থেকে সেখানে ফোন করাও সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং ইরানের অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো ঠিকমতো আপডেট হচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন এবং খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিভিন্ন সরকারি ভবনে আগুন দেন বিক্ষুব্ধরা।
তেহরানের মেয়রের বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ৪২টির বেশি বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও সরকারি যানবাহন এবং অন্তত ১০টি সরকারি ভবনে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এ পরিস্থিতিতে আজ শুক্রবার দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সংবাদসংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তোলেন খামেনি। তিনি বলেন, 'আমরা কোনোভাবেই পিছু হটব না। বিদেশি "ভাড়াটেদের" কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।'
বক্তব্যে খামেনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'গতরাতে তেহরানে একদল দাঙ্গাবাজ রাষ্ট্রীয় ভবন ধ্বংস করেছে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মন জয় করতে।' তিনি ট্রাম্পকে নিজের দেশ সামলানোর পরামর্শ দেন।
খামেনি তার ভাষণে ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের কথা তুলে ধরে বলেন, 'সবাই জানে যে শত শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র গঠন হয়েছে এবং এটি কখনোই নাশকতার মুখে পিছু হটবে না।'
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বলেন, 'প্রতিবাদকারীদের হত্যা করলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে ভয়ানক প্রতিক্রিয়া জানাবে।'
খবরটি শেয়ার করুন