ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনের আটক হওয়ার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ মনে করছে না বিএনপি। দেশব্যাপী এ রকম আরও ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছে দলটি। এই বিষয়ে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ‘এইটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, দেশব্যাপী হচ্ছে। আমার মনে হয় ঘটনার সংখ্যা অনেক হবে।’
আজ বুধবার (১১ই ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে দলের নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘যেখানে নির্বাচনে অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন প্রতিহত করতে সকল ব্যাংক, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক লেনদেন ও কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, সেখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—জামায়াতের একটি জেলার সর্বোচ্চ নেতা কোন উৎস থেকে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে কী উদ্দেশ্যে, কাদের দেওয়ার জন্য, নির্বাচনের আগের দিন ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন?’
তিনি বলেন, ‘স্পষ্টতই আচরণবিধির এই লঙ্ঘন গণবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দলটির দেউলিয়াত্ব ও অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা প্রমাণ করে।’
সংবাদ সম্মেলনে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে মাহদী আমিন বলেন, ‘অবশ্যই আমরা বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছি।’
বিএনপির বিজয় প্রতিহত করতে একটি গোষ্ঠী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘সৈয়দপুর বিমানবন্দর কাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, দেশের অন্যান্য জায়গার মতো জামায়াতের আমিরের নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫ তেও একই রকম অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেনের ঘটনা দেখা গেছে। আরও দেখা গেছে, কুমিল্লা, নোয়াখালী, খুলনাসহ দেশের অসংখ্য জায়গায়। ইতঃপূর্বে দেশব্যাপী দলটির নেতা–কর্মীরা বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটারদের বিকাশ নম্বর ও ভোটার আইডিও নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদে আমরা দেখছি, দেশের অনেক জায়গায় ভোটারদের মাঝে ভীতি ছড়াতে একটি রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রসহ বাঁশ, পাইপ ও স্ট্যাম্প জড়ো করছে। বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা, অতর্কিত হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ বিতরণ করছে। এই সব ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, ভোটের মাঠে নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ অনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সেই দলের অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে।'
খবরটি শেয়ার করুন