শনিবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** শহীদ মিনারে জামায়াত আমিরকে দেখে ‘রাজাকার’ ও ‘একাত্তরের দালাল’ স্লোগান *** একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা *** ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট *** বিমানের পরিচালক হিসেবে জয়েন করিনি: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব *** প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্ব পেলেন *** জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি *** ‘প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে ভারত’ *** এবার পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ‘উদ্বোধনী ব্যানার’ *** মানুষকে যাতে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে না হয়, ডাক্তারই মানুষের পেছনে ঘুরবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী *** সমঝোতার চাঁদা: একই যুক্তি অন্য খাতেও প্রয়োগের আশঙ্কা টিআইবির

পঞ্চগড় জেলার ‘হুলির গান’ লোকসংস্কৃতি হিসেবে বেশ সমাদৃত

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০২:২০ অপরাহ্ন, ২২শে অক্টোবর ২০২৪

#

ছবি - সংগৃহীত

রবিউল হক

বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির ভাণ্ডার অনেক বেশি সমৃদ্ধ একথা অনস্বীকার্য। লোকসংস্কৃতির নানা উপাদানে পরিপূর্ণ এদেশ চিরযৌবনা। সংস্কৃতির নানান ঐতিহ্যবাহী ধারা সুপ্রচীনকাল থেকেই এদেশের মানুষ লালন-পালন করে আসছে।

বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় লোকসংস্কৃতির নানা সমৃদ্ধ উপাদান দ্বারা পরিপূর্ণ। এ অঞ্চলের লোকজ উপাদানের মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত ও জনপ্রিয় পরিবেশনা হচ্ছে ‘হুলির গান’। ‘হুলি’ একই সাথে একটি জনপ্রিয় লোকসংগীত এবং লোকনাট্য হিসেবে এ অঞ্চলে বেশ সমাদৃত। কাজেই, এটিকে মিশ্ররীতির পরিবেশনা বলা যেতে পারে। এ গান এলাকাভেদে ধামের গান, হুলির ধাম, পালাটিয়া, ঢাকের গান, মাড়াঘুরা এসব নামেও প্রচলিত। নীতিকথা সম্বলিত উপাখ্যান বা সমাজ চিত্রকে কুশিলবগণ মঞ্চের চারপাশে চক্রাকারে বসে থাকা দর্শকদের সামনে ঘুরে ঘুরে অভিনয় ও গীত সহযোগে উপস্থাপন করে থাকেন। গান, কাহিনী, সংলাপ, অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্যের সংযোজনের মধ্যদিয়ে এক দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় জটিল আবহে হুলি গানের পরিবেশনা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্যধারায় লোকনাট্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্যধারার মাধ্যমে সাধারণ জনগোষ্ঠীর ভাব জগতের যে অভিন্ন সত্তার পরিচয় মেলে তা অন্য মাধ্যমে প্রায় অসম্ভব। এদেশের নাট্যশিল্পের আবির্ভাব ও বিস্তার সম্ভবত ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই ঘটেছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে বাঙলা সাহিত্যের ধারায় নাটকের সূচনা হিসেবে ঊনিশ শতকে এমন ধারণা পোষণ করা হয়। এদেশের নাটকের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানতে আমাদের প্রাচীন এবং মধ্যযুগের সাহিত্যধারার বিশ্লেষণ একান্ত আবশ্যক। এদেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্যধারার বেশিরভাগই পরিবেশনমূলক উপস্থাপনা।

প্রাচীন বাংলার বুদ্ধ নাটক নৃত্য ও গীতের সমন্বয়ে পরিবেশিত হতো। পঞ্চগড় জেলার হুলি গানের পরিবেশনাতেও নৃত্য ও গীতের সম্মিলিত প্রয়াস লক্ষ করা যায়। পূর্ণিমার তিথিতে হোলি উৎসবকে কেন্দ্র করে মিশ্ররীতির পরিবেশনা হুলি গানের আয়োজন হয়ে থাকে। পূর্বে দেবস্তুতিমূলক বিষয়বস্তু হুলির পরিবেশনায় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বর্তমান বিষয়বস্তু হিসেবে সামাজিক প্রেক্ষাপট অন্তর্ভুক্ত হতে শুরু করেছে। ঐতিহ্যবাহী নাট্যধারার অনুশীলনের মাধ্যমেই এদেশের আত্মমর্যাদাবোধের পুণর্জাগরণ ঘটানো সম্ভব। কেননা, এর ভেতর দিয়ে বহুকাল থেকে এদেশের মানুষের আত্মিক মেলবন্ধন স্থাপিত হয়ে আজো তা বহমান রয়েছে। এদিক বিবেচনায়, ঐতিহ্যবাহী নাট্যধারায় পঞ্চগড় জেলার জনপ্রিয় লোকনাট্য হুলি গান বা হুলির ধামের যে বিশেষ আবেদন রয়েছে, তার সাথে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার যে রূপ ফুটে ওঠে, তা অন্য কোনও পরিবেশনায় পাওয়া সম্ভব না। হুলি গানের মধ্যে এ অঞ্চলের মাটি ও মানুষের সুঘ্রাণ মেলে।

তথ্যসূত্র
১. শামসুজ্জামান খান (সম্পা.), বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা: পঞ্চগড়, বাংলা একাডেমি, ২০১৩
২.সাইমন জাকারিয়া, বাংলাদেশের লোকনাটক: বিষয় ও আঙ্গিক বৈচিত্র্য, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ২০০৮
৩. সেলিম আল দীন, মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ২০১৮

রবিউল হক, লোক গবেষক ও শিল্পী

আই.কে.জে/

হুলির গান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250