ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী বিনিয়োগ ও পণ্য বিনিময় বাড়ানোর লক্ষ্যে বুধবার (১৯শে নভেম্বর) প্রথমবারের মতো ভারতে পৌঁছেছেন এমন এক সময়ে, যখন দুই দেশই পাকিস্তানের সঙ্গে টানাপড়েনের পটভূমিতে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে ভাবছে।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া কাবুল দূতাবাস গত মাসে পুনরায় খুলে ভারত তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক আরো উন্নীত করেছে। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় ভারত দেশটিতে সহায়তা বাড়াচ্ছে। খবর রয়টার্সের।
আফগান মন্ত্রণালয় জানায়, আফগান বাণিজ্যমন্ত্রী নূরউদ্দিন আজিজি তার ভারতীয় সমকক্ষ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে, পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
আফগান মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই বৈঠকগুলোতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বাণিজ্য সম্পর্ক সহজ করা, যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক ট্রানজিট রুটে আফগানিস্তানের ভূমিকা শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হবে।’
সামুদ্রিক বন্দরহীন আফগানিস্তান সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর শস্য, ওষুধ ও শিল্পপণ্যের প্রবেশাধিকার খুঁজছে।
ভারত ইরানের চাবাহার বন্দর পরিচালনা করে এবং গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা ছাড় পেয়েছে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে—যার স্থলসংযোগ আছে আফগানিস্তানের সঙ্গে, যা কাবুলের করাচি বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে।
আফগান বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে জানিয়েছে, গত ছয় মাসে ইরান হয়ে আফগানিস্তানের বাণিজ্য ১.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া ১.১ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্সে আজিজির দিল্লি পৌঁছানোর ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক অগ্রসর করাই সফরের মূল লক্ষ্য।’
ভারত ও আফগানিস্তানের ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও আগের তালেবান আমলে তা ছিল না এবং বর্তমান তালেবান সরকারকে নয়াদিল্লি স্বীকৃতি দেয় না।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং আফগানিস্তানে চীনের প্রভাব বিস্তার নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ—এই দুই কারণে ভারত ও তালেবান পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস করছে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন