রবিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ইরানকে আর কতবার আলটিমেটাম দেবেন ট্রাম্প *** মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা বদলাতে চায় জামায়াত? *** কেরানীগঞ্জে নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে দেবে সরকার *** সংবিধানকে ‘কাগজ’ হিসেবে দেখা মানে রাষ্ট্রের আইনি ভিত্তিকে অস্বীকার করা *** গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াত জোটের *** জামায়াত বিএনপিকেও একদিন নিষিদ্ধ করবে: তসলিমা নাসরিন *** আওয়ামী লীগকে কী নিষিদ্ধই করতে যাচ্ছে সরকার? *** ‘বিদেশি অনুদানের দুইশো কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ড. ইউনূস’ *** ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে, অর্জন ধরে রাখতে মাঠে নামতে হবে: নাহিদ *** এপ্রিলে আসছে একাধিক তাপপ্রবাহ, যা বলছেন আবহাওয়াবিদরা

‘ইন্ডিয়া’ নাকি ‘ভারত’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১০:৩২ অপরাহ্ন, ৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৩

#

জি–২০ সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে বক্তৃতা করছেন নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তার সামনের নামফলকে ‘ভারত’ লেখা। ছবি : সংগৃহীত

অতিমারি-পরবর্তী বিশ্বে ঘুণ ধরেছে বিশ্বাসে। শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানের ভারত মণ্ডপম কনভেনশন সেন্টারে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় এমনই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ সেই আস্থাহীনতারই পরিণতি। আমাদের এই আবহ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেখা যায়, মঞ্চের পোডিয়ামে দেশের নাম ‘ইন্ডিয়া’র পরিবর্তে ইংরেজিতে ‘ভারত’ লেখা ছিল। ঘটনাচক্রে, জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে আগত বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের কাছে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পাঠানো নৈশভোজের যে আমন্ত্রণপত্র ঘিরে বিতর্কের সূচনা, শনিবার রাতেই তার আয়োজন। এমনটি জানিয়েছে ভারতের জনপ্রিয় বাংলা গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা। 

গণমাধ্যমটি জানায় আমন্ত্রণপত্রে লেখা হয়েছে ‘প্রেসিডেন্ট অফ ভারত’। কিন্তু ভারতের রাষ্ট্রপতি কাউকে কোনা চিঠি লিখলে তাতে চিরাচরিত ভাবে লেখা থাকে ‘প্রেসিডেন্ট অফ ইন্ডিয়া’ কথাটি। এই পরিচয়লিপি বদল ঘিরে বিতর্কের আবহে গত মঙ্গলবারও মোদীর ইন্দোনেশিয়া সফরের সূচি এক্স (সাবেক টুইটার) এর হ্যান্ডলে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে মোদীর পদ লেখা হয়, ‘প্রাইম মিনিস্টার অফ ভারত’।

ইন্ডিয়াকে ‘ভারত, ‘ভারতা’, ‘হিন্দুস্তান’ ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। উপনিবেশন যুগের আগে ইন্ডিয়ার ভাষায় এসব নামে ভারত পরিচিত ছিল। সরকারি–বেসরকারিভাবে ইন্ডিয়া ও ভারত—দুই নামে এই দেশকে ডাকা হয়ে থাকে।

অবশ্য ঐতিহাসিকভাবে ইংরেজিতে যখন লেখা হয় বা কোথাও যোগাযোগ করা হয় তখন ‘ইন্ডিয়া’ নাম ব্যবহার করা হয়। 

এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, মোদি যখন জি–২০ সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন, তখন তার সামনের টেবিলে যে নামফলক ছিল, সেখানে লেখা ছিল ‘ভারত’। অবশ্য জি–২০ সম্মেলনের লোগোতে হিন্দি ও ইংরেজিতে ‘ভারত’ ও ‘ইন্ডিয়া’—দুটি নামই লেখা হয়েছে। এই ধরনের নামফলকে অতীতে দেশের নাম ‘ইন্ডিয়া’ লেখা হতো।

হিন্দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, জি–২০–এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিদেশি প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাচ্ছে ভারত।

‘ভারত’ নামের পক্ষের সমর্থকেরা বলছেন, ব্রিটিশ উপনিবেশিকেরা ‘ইন্ডিয়া’ নাম দিয়েছে। ঐতিহাসিকেরা বলছেন, কয়েক শতাব্দীর উপনিবেশ শাসনের আগেও ‘ইন্ডিয়া’ নামটি ছিল।

বিজেপির আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) সব সময় তাদের দেশের নাম ‘ভারত’ করার পক্ষে।

তবে মোদির বিরোধীরা বলছেন, বিজেপিবিরোধী ২৮টি দলকে নিয়ে নতুন করে গঠিত ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলেপমেন্ট ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স সংক্ষেপে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের কারণে সরকার ভারতের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। আগামী ২০২৪ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেসের নেতৃত্বে নতুন এই জোট গঠন করা হয়েছে।

এসকে/ আই.কে.জে/

ভারত জি-২০ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইন্ডিয়া

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250