রবিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ইরানকে আর কতবার আলটিমেটাম দেবেন ট্রাম্প *** মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা বদলাতে চায় জামায়াত? *** কেরানীগঞ্জে নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে দেবে সরকার *** সংবিধানকে ‘কাগজ’ হিসেবে দেখা মানে রাষ্ট্রের আইনি ভিত্তিকে অস্বীকার করা *** গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াত জোটের *** জামায়াত বিএনপিকেও একদিন নিষিদ্ধ করবে: তসলিমা নাসরিন *** আওয়ামী লীগকে কী নিষিদ্ধই করতে যাচ্ছে সরকার? *** ‘বিদেশি অনুদানের দুইশো কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ড. ইউনূস’ *** ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে, অর্জন ধরে রাখতে মাঠে নামতে হবে: নাহিদ *** এপ্রিলে আসছে একাধিক তাপপ্রবাহ, যা বলছেন আবহাওয়াবিদরা

দুর্নীতি করে পার পাওয়ায় দুর্নীতিবাজরা সাহস পাচ্ছে : এলকপের আলোচনা সভায় বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, ২রা জুলাই ২০২৪

#

বেসরকারি গবেষণা ও মানবাধিকার সংস্থা ‘এম্পাওয়ারমেন্ট থ্রু ল অফ দ্য কমন পিপল’-(এলকপ) আজ মঙ্গলবার (২রা জুলাই) গুলশানের সিক্স সিজন্স হোটেলে “বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনাসমূহ” শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।  

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এলকপের চেয়ারম্যান ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, দুর্নীতি আমাদের সমাজের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয় এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচারের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করে দেয়। এই মহামারী মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি আমাদের সকলকে একত্রিত হয়ে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে তার এক ভাষণে বলেছিলেন ‘এই বাংলার কৃষক ও শ্রমিকরা দুর্নীতি করে না, দুর্নীতি করে শিক্ষিত ব্যক্তিরা।’ আমরাই এই শিক্ষিত সমাজের অংশ। সুতরাং আমাদের  উচিত দুর্নীতিবাজদের খুঁজে বের করে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা, তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে তাদেরকে শাস্তির সম্মুখীন করা। এতে করে আইনের সুশাসন যেমন প্রতিষ্ঠা হবে তেমনি বাংলার খেটে খাওয়া কৃষক, চাষি ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা যাবে। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ এই দুর্নীতিবাজদের জায়গা হতে পারে না।
 
সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ। ড. আহমদ জোর দিয়ে বলেন, 'দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেই বাধাগ্রস্ত করে না, বৈষম্য ও দারিদ্র্যকেও বাড়িয়ে দেয়। দুর্নীতির প্রধান কারণ নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়। দুর্নীতি রোধে আমাদের নীতি আছে কিন্তু প্রয়োগ নেই। আমরা বলার সময় ঠিকই বলছি যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে কিন্তু কাজের বেলায় তার প্রয়োগ নেই। ফলে একজন দুর্নীতি করে পার পেয়ে যাচ্ছে এবং তাকে দেখে আরেকজন দুর্নীতি করার সাহস পেয়ে যাচ্ছে।  এ কারণেই আজ দুর্নীতি এতো পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দুর্নীতিবাজদের রুখতে সরকারকে দুষ্ট চক্রকে (সিন্ডিকেট) চিহ্নিত করে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। মুল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। সকল নাগরিকের জন্য টেকসই উন্নয়ন ও দেশের ন্যায়সঙ্গত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আমাদের অবশ্যই শক্তিশালী অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে।  

ড. আহমদ ছাড়াও বিশিষ্ট বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার। তিনি সভায় উপস্থিত সকলের উদ্দেশে বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে শক্তিশালী আইনি কাঠামো ও দুর্নীতিবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও নীতিনির্ধারকদের এগিয়ে আসতে হবে যাতে করে প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতি রোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি তার বক্তব্যে ড. ইউনূসের দুর্নীতির বিষয়গুলো তুলে ধরে বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের অবকাঠামো, লোকবল ও সুনাম ব্যবহার করে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনুমোদন ব্যতিরেকে তার একান্ত অনুসারীদের নিয়ে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করে প্রতিষ্ঠানগুলোতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি যেই করুক না কেন, তাকে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

বক্তব্য উপস্থাপন পর্ব শেষে মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়। এখানে সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার কর্মীরা প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নেন। সবশেষে ড. মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের অবশ্যই রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে সততা, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, তিনি এবং তার সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছেন। আমাদের উচিত তার এই নীতি বাস্তবায়নে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশেপাশে এখন অনেক চাটার দল। এই চাটার দলের হাত থেকে প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষায় আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
 
পরিশেষে, এলকপ-এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল জাতি, গোষ্ঠী, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাসের জন্য একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে, সেমিনারে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

আই.কে.জে/

এলকপের আলোচনা সভা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250