সোমবার, ৬ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব *** জুলাই জাতীয় সনদ ঘিরে অনড় সরকার–বিরোধী দল, সমঝোতা নেই *** তারেক রহমান সরকারের প্রথম একনেক সভা *** মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী *** প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ *** নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ১৭ প্রকল্প *** নিষিদ্ধ করলেই রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের শক্তি বিলীন হয়ে যাবে না *** ইরানে যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে কনডমের দাম বাড়তে পারে *** সোমবার ইরানের শেষ সুযোগ, মঙ্গলবার পাওয়ার প্ল্যান্ট গুঁড়িয়ে দেবেন ট্রাম্প *** সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আ.লীগের মন্ত্রীদের মতো উত্তর দিয়েছেন: বিএনপির এমপি মনিরুল

মাথাব্যথা মানেই কি চোখের সমস্যা?

স্বাস্থ্য ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১১:১৩ অপরাহ্ন, ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

মাথাব্যথা হয় না, এমন লোক নেই বললেই চলে। প্রাথমিক অবস্থায় মাথাব্যথার জন্য কেউ বিশ্রাম নেন বা একটু চা পানে নিরাময় খোঁজেন। আবার কেউ কেউ প্যারাসিটামল–জাতীয় বড়ি সেবন করেন। আবার অনেকে মাথাব্যথা মানেই ভাবেন চোখের সমস্যা। তবে যদি পড়তে বসলেই মাথাব্যথা, প্রতিদিন মাথাব্যথা অথবা মাথাব্যথা সহজে সারছে না অথবা মাথাব্যথার সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ আছে—তবে চিকিৎসকের পরামর্শের প্রয়োজন।

আমাদের দেশে যেহেতু রেফারেল সিস্টেম নেই, তাই সবাই চান প্রথমেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। বিভিন্ন কারণে মাথাব্যথা হয়ে থাকে বলে তা নিয়ে একজন রোগী কোন বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন, এ নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তবে মাথাব্যথার গতি প্রকৃতি খেয়াল করলে অনেক সময় বোঝা যায় এর কারণ কী? সে ক্ষেত্রে কোন বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে, তা নির্ধারণ করা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

প্রথমেই মাইগ্রেনের কথায় আসি। মাইগ্রেনের মাথাব্যথায় বমির ভাব, ক্ষুধামন্দা, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা ইত্যাদি থাকে। অনেকের মাথাব্যথার শুরুতে কানে একধরনের বোঁ বোঁ শব্দ অনুভূত হয়। মাথার এক পাশ বা দুই পাশে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। দুশ্চিন্তা, ক্ষুধা, ঘুমের ব্যত্যয়, বিশেষ কোনো খাবার, পরিবেশ (উৎকট গন্ধ, শব্দদূষণ, আবহাওয়া পরিবর্তন) ইত্যাদির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। মেয়েদের হরমোন পরিবর্তনের কারণেও এটি হতে পারে। কিছু কিছু বিষয় মাথাব্যথাকে উসকে দেয়। এটিকে বলা হয় ট্রিগারিং ফ্যাক্টর। নির্দিষ্ট সময় পর নিজ থেকে এই মাথাব্যথা সেরেও যায়।

আরো পড়ুন : কোনো উপসর্গ না থাকলেও ৪০ পেরোলেই করাতে হবে ডায়াবেটিস পরীক্ষা

সাইনাসজনিত মাথাব্যথা সাধারণত সাইনুসাইটিস বা সাইনাসের প্রদাহের কারণে হয়ে থাকে। সাধারণত কপালে ও চোখের পাশে একটু গভীরে অনুভূত হয় এবং মাথা নড়াচড়া করলে বা কাশি দিলে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যায়। সাধারণত এই ব্যথা সকালের দিকে বেশি অনুভূত হয় এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্রতা কমে যায়। এর সঙ্গে ঠান্ডাকাশি ও অ্যালার্জির সম্পর্ক থাকে।

নিউরোলজিক্যাল বা মস্তিষ্কে টিউমার হলে তীব্র মাথাব্যথা, সঙ্গে প্রায়ই বমি এবং এটি দিনে দিনে খারাপের দিকে যেতে থাকে। অনেক সময় দৃষ্টির সমস্যা দেখা দেয়। এমনটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

এটা ঠিক যে চোখের সমস্যার কারণেও মাথাব্যথা হয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো আই স্ট্রেইন এবং দৃষ্টি সমস্যা। আই স্ট্রেইন হলো চোখের অতিব্যবহারজনিত একধরনের অবসাদ বা ক্লান্তি, যেখানে মাথাব্যথা হয়ে থাকে। দৃষ্টি সমস্যার কারণে, সঠিক নিয়মে চশমা না পরলে, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে (মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি) থাকলে, পড়াশোনা, ড্রাইভিং ইত্যাদি কারণেও আই স্ট্রেইন হতে পারে। আই স্ট্রেইনের মাথাব্যথা দীর্ঘস্থায়ী বা খুব তীব্র হয় না। সাধারণত বিশ্রামে বা কর্মবিরতিতে কমে যায়। দিন শেষে বা সন্ধ্যার সময় আই স্ট্রেইনের সমস্যা বৃদ্ধি পায়। সঙ্গে অন্যান্য সাময়িক উপসর্গ, যেমন চোখ জ্বালাপোড়া, চোখে পানি পড়া, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা, চোখে শুষ্কভাব, ঘাড়ব্যথা ইত্যাদি থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্ক্রিনটাইম ও রাত জাগা কমিয়ে ফেলতে হবে। যারা মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি স্ক্রিনে অধিক সময় কাজ করেন, তাদের জন্য চোখে আর্টিফিশিয়াল টিয়ার ব্যবহার করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। প্রয়োজনে দৃষ্টি পরীক্ষার জন্য চক্ষুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

এস/ আই.কে.জে

মাথাব্যথা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250