ফাইল ছবি
২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় পর এই প্রথম বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বক্তব্য নিয়ে ভারতে তোলপাড় চলছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমে। দেশটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রথম সারির এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমগুলোতে শেখ হাসিনার ওই বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে।
শুধু ভারতের গণমাধ্যমেই নয়, দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতি ভবন, সাউথব্লকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের টেবিল হয়ে বিভিন্ন রাজ্যপ্রধান ও মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়, এমনকি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও চলছে শেখ হাসিনার বক্তব্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ। শেখ হাসিনার বক্তব্যের সূত্র ধরে নরেন্দ্র মোদির সরকারকে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দিচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও।
২০২৪ সালের ২৩ মে দেওয়া ওই বক্তব্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের একটি অংশ নিয়ে “পূর্ব তিমুরের মতো একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র” গঠনের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই বক্তব্য পুনরায় সামনে এনে ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা কেন এমন একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে ভারতীয় গণমাধ্যম। তারা বলছে, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়, বরং ভারতসহ আঞ্চলিক ভূরাজনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে খ্রিষ্টীয় বিশ্বাসের মানুষের সংখ্যা ১০ শতাংশও নয়। এমনকি শ্রীলঙ্কার বাইরে বাকি সাতটি দেশে ৫ শতাংশের নিচে। তারপরও এই অঞ্চলজুড়ে একটা খ্রিষ্টান রাষ্ট্রের গুঞ্জন আছে বহুদিন ধরে। এসব দেশের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি মাঝেমধ্যে এ গুঞ্জনের কথা এত গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে তাতে আঁচ-অনুমানের শাখা-প্রশাখা আরও বাড়ে। প্রশ্ন হলো, বাস্তবে এ রকম একটা কল্পিত রাষ্ট্রের সত্যতা কতটুকু? নাকি এটা শুধু সংখ্যাগুরুদের জুজু দেখানোর রাজনৈতিক কৌশলমাত্র?
শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ২৩ মে গণভবনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের এক বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, বাংলাদেশে একটি বিদেশি শক্তি এয়ারবেস নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। একই বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের একটি অংশ নিয়ে একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র গঠনের চক্রান্ত চলছে।
শেখ হাসিনার ভাষায়, “চক্রান্ত এখনও আছে। পূর্ব তিমুরের মতো বাংলাদেশের একটি অংশ নিয়ে... তারপর চট্টগ্রাম, মিয়ানমার এখানে একটা খ্রিষ্টান দেশ বানাবে, বঙ্গোপসাগরে একটা ঘাঁটি করবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “তার কারণ বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে প্রাচীনকাল থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য চলে। এ জায়গাটার ওপর অনেকেরই নজর। সেটা আমি হতে দিচ্ছি না। এটাও আমার একটা অপরাধ।” এই বক্তব্য দেওয়ার আড়াই মাসের মধ্যে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।
২০২৪ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা যে আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়, সেই আন্দোলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেটের ভূমিকা ছিল বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বরাবরই বলে আসছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমে পুনরুত্থান
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি এক মার্কিন নাগরিক ও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। এই ঘটনার তদন্ত নাড়িয়ে দিয়েছে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে।
অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। গ্রেপ্তার মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক নিজেকে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, যুদ্ধ সংবাদদাতা ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দেন।
আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে লেখে, গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ভারতীয় কূটনৈতিক মহলকে মনে করিয়ে দিয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেছিলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বের একাংশ এবং বাংলাদেশের একাংশ মিলিয়ে স্বাধীন খ্রিষ্টান রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে এক শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি সক্রিয় হয়েছেন। ইন্ডিয়া টুডের প্রশ্ন, সাদা চামড়া নিয়ে শেখ হাসিনা যে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তা-ই মিলে গেল?
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক ২০১১ সালের লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান এবং সে সময় তাকে কারাবরণও করতে হয়। লিবিয়ার ঘটনার পর ভ্যানডাইক ‘সনস অব লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ (এসওএলআই) নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠন বিশ্বের বিভিন্ন সঙ্ঘাতপূর্ণ অঞ্চলের স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরামর্শ দিয়ে থাকে।
ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইককে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিকের তিনজনকে লক্ষ্ণৌ থেকে এবং তিনজনকে দিল্লি থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্টে হাজির করে এনআইএ। এনআইএ তদন্তের স্বার্থে তাদের যাতায়াতের রুট শনাক্ত, ষড়যন্ত্রের প্রমাণ সংগ্রহ এবং অন্য সহযোগীদের খুঁজে বের করতে ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ১১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আগামী ২৭ মার্চ তাদের আবার আদালতে তোলা হবে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে (ইএজি) ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া; যা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, ইউরোপ থেকে ড্রোনের একটি বড় চালান ভারত হয়ে মিয়ানমারে পাচার করা হয়েছে, যা ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহারের জন্য ছিল। এনআইএ সূত্র আরো জানিয়েছে, মিয়ানমারে সক্রিয় বেশ কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর যোগাযোগ রয়েছে। এসব গোষ্ঠী ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে অস্ত্র, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকিস্বরূপ।
ভারতের ভেতরে এই নেটওয়ার্কের কোনো স্থানীয় সংযোগ আছে কিনা এবং কীভাবে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে ড্রোনগুলো পাঠানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাবেক স্পেশাল ফোর্স সদস্য এবং ভাড়াটে যোদ্ধাসহ বিদেশি নাগরিকেরা মিজোরাম হয়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করছেন। সেখানে তারা দেশটির সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ
দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ে গবেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় খ্রিষ্টান রাজ্যের গুঞ্জন কেবল খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাসীদের সংখ্যাগত বৃদ্ধির কারণে নয়; নির্দিষ্ট কিছু এলাকার অনেক বৈশিষ্ট্যও এ বিষয়ে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, চিন, মণিপুর, বান্দরবানের একাংশ এবং অরুণাচলের মধ্যে অনেক এলাকায় নানা ধরনের দাবিতে নিরস্ত্র-সশস্ত্র ব্যাপক আন্দোলন-সংগ্রাম চলছে।
তিনি বলেন, কোথাও কোথাও সশস্ত্রতার ধরন অনেক ব্যাপক ও গভীর, কোথাও তা মৃদু, কিন্তু অগ্রাহ্য করার মতো নয়। এসব সশস্ত্রতার আবার প্রধান একটা ধরন দেখা যাচ্ছে, এ অঞ্চলের ‘রাষ্ট্র’গুলোর পরিচালকদের প্রতি আস্থার গভীর এক সংকট। এ রকম অনাস্থার পটভূমি তৈরি করেছে প্রতিটি এলাকার উন্নয়ন-প্রান্তিকতা। ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর থেকে এ রকম প্রতিটি জনপদের মানুষ নিজেদের ক্রমে সংকুচিত ও সীমিত গণ্ডিতে আবিষ্কার করছে। ফলে তাদের মধ্যে একধরনের আত্মরক্ষার বোধ বাড়ছে।
তিনি বলেন, প্রশ্ন হলো, এত কিছুর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার খ্রিষ্টান সমাজ বা জনপদগুলো কি কখনো ধর্মভিত্তিক নতুন কোনো রাষ্ট্রের দাবি তুলেছে? এর জন্য কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন আছে? এ রকম দাবির সপক্ষে খ্রিষ্টান সমাজের বা গির্জামণ্ডলীর কোনো ইশতেহার আছে? সচরাচর এসব প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর পাওয়া যায় না।
তার মতে, তারপরও ক্রমাগত এ রকম দাবি ও গুঞ্জন উঠছে। সেটা ঘটছে মুখ্যত অখ্রিষ্টানদের তরফ থেকে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশে বিশেষ বিশেষ মতাদর্শের বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে মাঝেমধ্যেই বিষয়টি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভারতে ‘স্বরাজমার্গ’ নামে হিন্দুত্ববাদী একটা বিখ্যাত মিডিয়া এই ইস্যুতে বেশ এগিয়ে।
আলতাফ পারভেজ বলেন, কৌতূহলোদ্দীপক হলো, ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের মতো আশপাশের অন্যান্য দেশের বৌদ্ধ ও ইসলামপন্থী অনেক মহলও এ প্রচারণায় উৎসাহী। বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গির সংস্থাগুলোর এ রকম একই ধরনের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় সামাজিক আর কোনো বিষয়ে তেমন দেখা যায় না। ভারতসহ সর্বত্র ভোট এলে দেখা যায়, খ্রিষ্টানরা প্রধানত মধ্যপন্থী কংগ্রেস বা মধ্য-বাম আঞ্চলিক দলগুলোকে ভোট দিচ্ছে। এটাও তাদের প্রতি ডানপন্থী প্রচারণা বাড়িয়ে দিয়ে থাকতে পারে।
প্রশ্ন ও বিতর্ক
শেখ হাসিনার এই বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—আসলেই কি এমন কোনো পরিকল্পনা ছিল, নাকি এটি রাজনৈতিক বক্তব্য মাত্র? তবে ভারতীয় মিডিয়া এটাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, কারণ তারা মনে করছে, এর পেছনে হয়তো বড় কোনো কৌশলগত ইঙ্গিত থাকতে পারে।
অনেকে বলছেন, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় আসায় শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতসহ পুরো অঞ্চলে কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ধরনের বক্তব্য যখন আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচিত হয়, তখন সেটি শুধু একটি দেশের বিষয় থাকে না—এটি আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক রাজনীতির অংশ হয়ে যায়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ইস্যু কতটা বাস্তবভিত্তিক আর কতটা রাজনৈতিক—তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের অঞ্চল নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ এবং প্রতিযোগিতা আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র, আর সেই প্রেক্ষাপটেই এই বক্তব্য নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। কারণ উত্তর-পূর্ব ভারত, মিয়ানমার এবং বঙ্গোপসাগর—এই পুরো অঞ্চলটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির গণমাধ্যম বলছে, পূর্ব তিমুরের উদাহরণ টেনে শেখ হাসিনা আসলে একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদি কেউ সত্যিই এমন কোনো পরিকল্পনা করে থাকে, তাহলে সেটা পুরো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
খবরটি শেয়ার করুন