সোমবার, ৬ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব *** জুলাই জাতীয় সনদ ঘিরে অনড় সরকার–বিরোধী দল, সমঝোতা নেই *** তারেক রহমান সরকারের প্রথম একনেক সভা *** মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী *** প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ *** নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ১৭ প্রকল্প *** নিষিদ্ধ করলেই রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের শক্তি বিলীন হয়ে যাবে না *** ইরানে যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে কনডমের দাম বাড়তে পারে *** সোমবার ইরানের শেষ সুযোগ, মঙ্গলবার পাওয়ার প্ল্যান্ট গুঁড়িয়ে দেবেন ট্রাম্প *** সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আ.লীগের মন্ত্রীদের মতো উত্তর দিয়েছেন: বিএনপির এমপি মনিরুল

ম্যাম, আমি বেগম রোকেয়া হয়ে উঠতে পারিনি

সাহিত্য ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৭:১৭ অপরাহ্ন, ১৫ই অক্টোবর ২০২৩

#

শ্রদ্ধেয় বেগম রোকেয়া আপা, 

আজ আপনি নেই। কিন্তু আজও নিপীড়িত রোকেয়া হয়ে আমরা বেঁচে আছি হাজারও রোকেয়া। দুঃখ, কষ্ট আর বঞ্চনায় জরাগ্রস্ত হয়ে আপনাকে এই চিঠিখানা লিখছি। 

প্রিয় আপা, আমি আমার ছোট্ট জীবনের কিছু গল্প আপনাকে শোনাতে চাই। আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি আমার লেখাপড়া দেখে এক ম্যাম বলেছিলেন, ‘তুমি একদিন বেগম রোকেয়া হয়ে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করবে তোমার চারপাশ’। আদর করে আমাকে বেগম রোকেয়া বলেই ডাকতেন। আমার বেশ ভালোই লাগতো। দেখতে দেখতে আমি প্রথম হয়ে অষ্টম শ্রেণীতে উঠলাম।

হঠাৎ একদিন মা বললো তোর বাবা তো অসুস্থ, সে তো আর ঠিক মতো কাজও করতে পারে না। আমি তোর পড়ালেখার খরচ কিভাবে চালাবো বরং ভালো পাত্র দেখে তোর বিয়ে দিয়ে দিই। আমি ভাবলাম তবে তাই করি। বাবা মায়ের ভালোতেই আমার ভালো। তবে কি আমি আর স্কুলে যেতে পারবো না! ছুটন্ত ঘোড়ার মত আর ছুটতে পারবো না! এই নানা রকম ভাবনাগুলো যেন পিছু ছাড়ছে না। 

অতঃপর আমার বিয়ে হয়ে গেলো। আমি চললাম আমার শ্বশুরবাড়ি। বিয়ের পরদিন বাপের বাড়ি এসেছি, আমার সব সহপাঠিরা আমাকে দেখতে এসেছে। সবাই দেখছে যে, ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল কিভাবে স্কুল বাদ দিয়ে নিজের জীবন জলাঞ্জলী দিলো।

আমি ওদের দেখে আর ঠিক থাকতে পারলাম না। অঝোরে কাঁদলাম। কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে গেলাম। আমার মনে হতে লাগলো আমার ব্রেন ছিঁড়ে ছিঁড়ে পড়ছে।

বার বার মনে হচ্ছে আমি কি আর স্কুলে যেতে পারবো না। আমার চারপাশ অন্ধকার লাগতে শুরু করলো। বাড়ি থেকে আমাকে ডাঃ এর কাছে নিয়ে গেলো। ডাঃ পরীক্ষা করে বললো আমার মনে ও ব্রেনে আঘাত লেগেছে। অর্থাৎ পাগল।

সবশেষে আমার ডিভোর্স হয়ে গেলো। আমার সেই প্রিয় ম্যাম আমাকে দেখতে এসেছিল। ম্যাম আমি আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি। নারী জাগরনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া হতে পারিনি। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে পারিনি আমার চারপাশ। এখন আমার সবদিকই অন্ধকার। 

তাই আমি হয়েছি আজ পাগলী রোকেয়া। 

আরও পড়ুন : স্যার, আজও আপনার বেতের বাড়ির কথা ভুলিনি!

এস/  আই.কে.জে

চিঠি বেগম রোকেয়া আপা অন্ধকার

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250