বৃহস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৯শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** লাইলাতুল গুজব চলছে, পাত্তাই দেবেন না: জামায়াতের আমির *** সংসদ ও গণভোটের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আজ *** নেতা-কর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান বিএনপির *** ‘অবৈধভাবে’ নির্বাচনী দায়িত্বে ৩৩০ আনসার, সত্যতা পেয়ে সতর্ক পুলিশ *** আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথম নির্বাচন নিয়ে কী বলছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম *** ফাঁকা রেজাল্ট শিটে পোলিং এজেন্টের সই, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার *** লক্ষ্মীপুরে ১৫ লাখ টাকাসহ কৃষক দল নেতা আটক, পরে মুক্ত *** আওয়ামী লীগকে ছাড়া ভোট প্রশ্নবিদ্ধই থাকবে, ওয়াশিংটনে কংগ্রেসনাল ব্রিফিং *** মোদি সরকার ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিয়েছে: রাহুল গান্ধী *** ভারত-পাকিস্তান সংঘাত পরমাণু যুদ্ধে গড়াত, ১০টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল: ট্রাম্প

‘নগ্ন সাম্রাজ্যবাদ’: ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন চালিয়ে যেভাবে পুরোনো রূপে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১১:০০ পূর্বাহ্ন, ৫ই জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

দুই শতক ধরে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকায় এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের দীর্ঘ ইতিহাসেরই ধারাবাহিকতা ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বোমাবর্ষণ এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নেওয়া। কিন্তু সর্বশেষ ঘটনা একটি নজিরও গড়েছে। কারণ, দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশে এটিই প্রথম সরাসরি মার্কিন সামরিক হামলা।

মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন আধিপত্য আর কখনো প্রশ্নের মুখে পড়বে না।’ খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

কিন্তু উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তার মহাদেশীয় প্রতিবেশীদের ওপর কেবল অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমেই নয়, সামরিকভাবেও হস্তক্ষেপ করে আসছে। এ দীর্ঘ তালিকায় আগ্রাসন, দখলদারত্ব এবং বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সবচেয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ১৯৮৯ সালে পানামার স্বৈরশাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে আটকের বিষয়টিও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তৎপরতা ব্রাজিল, চিলি ও আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলোতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার উৎখাতে এবং সামরিক স্বৈরশাসনের পথ প্রশস্ত করতে সহায়তা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য সামরিক অভিযানগুলো ঐতিহাসিকভাবে মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের তুলনামূলক নিকটবর্তী প্রতিবেশীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর স্টেট ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মাউরিসিও সান্তোরো বলেন, ‘দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশের ওপর প্রথম সরাসরি মার্কিন সামরিক হামলা পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। কয়েক সপ্তাহ আগে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে এ অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছিল।’

ওই কৌশলপত্রে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ‘সম্প্রসারণের’ আহ্বান জানানো হয়েছে এবং একে মনরো ডকট্রিনে ‘ট্রাম্প করোলেরি’ বা সংযোজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মনরো ডকট্রিন হলো ১৮২৩ সালে প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর ঘোষিত ‘আমেরিকানদের জন্য আমেরিকা’ নীতি, যা পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকায় মার্কিন-সমর্থিত সামরিক অভ্যুত্থানের বৈধতা দিতে ব্যবহৃত হয়।

টেম্পল ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক এবং ‘আ শর্ট হিস্ট্রি অব ইউএস ইন্টারভেনশনস ইন লাতিন আমেরিকা অ্যান্ড দ্য ক্যারিবিয়ান’ গ্রন্থের লেখক অ্যালান ম্যাকফারসন বলেন, শনিবারের এই পদক্ষেপ অতীতের অনেক অভিযানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও তা অবাক করার মতো। কারণ, ১৯৮৯ সালের পর এ ধরনের কিছু আর ঘটেনি।

এই ইতিহাসবিদ আরও বলেন, ‘কেউ কেউ হয়তো ভেবেছিলেন, শুধু সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে লাতিন আমেরিকায় নিজেদের পছন্দমতো রাজনৈতিক ফলাফল আদায়ের এই নগ্ন সাম্রাজ্যবাদী যুগের অবসান একুশ শতকে ঘটবে, কিন্তু স্পষ্টতই তা ঘটেনি।’

গত দশকগুলোতে এই অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি দেশই প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো না কোনোভাবে মার্কিন হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে।

জে.এস/

সাম্রাজ্যবাদ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250