ছবি: সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলন পরে ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ ২৩ মন্ত্রী এবং ১২ প্রতিমন্ত্রী রাখার সুপারিশ করে। পাশাপাশি বিদ্যমান মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৪৩ থেকে নামিয়ে ২৫ আনার সুপারিশ করে কমিশন।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়গুলো থাকবে পাঁচটি গুচ্ছে। এমনকি সংস্কার কমিশনের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা মন্ত্রণালয়গুলোর নামও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। ওই সুপারিশের পর প্রথমবারের মতো দলীয় সরকার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।
সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বাদে মন্ত্রণালয় হবে ২৫টি। এতে দুজন টেকনোক্র্যাটসহ মন্ত্রী হবেন ২৩ জন। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হবেন ১২ জন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব একজন, মুখ্য সচিব ১৭ জন ও সচিব থাকবেন ৪২ জন। একাধিক বিভাগ সংবলিত মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীকে পরামর্শ দেওয়া এবং সমন্বয়ের জন্য একজন মুখ্য সচিব থাকবেন।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ই ফেব্রুয়ারি) নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। শপথ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রশাসন এবং বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা চল্লিশের কাছাকাছি হতে পারে।
মন্ত্রিসভায় দলের নবীন ও প্রবীণদের যেমন সমন্বয় করা হবে, তেমনি জোটের শরিক দলের একাধিক নেতাও স্থান পেতে পারেন। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট সদস্য হিসেবেও একাধিক মুখ থাকতে পারেন।
মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে ৪৩টি। বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ৪০ থেকে ৪২ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর শপথের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে আলাপ করে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভায় নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়াবেন। এরপর সংসদ ভবনের ৯ তলায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন শপথ নেওয়া সদস্যরা।
পরে সংসদীয় দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা লাভের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তখন তাকে নিয়মানুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন। এরপর ওই দিন বিকেলেই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ হবে। নিয়মানুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন