ছবি: সংগৃহীত
সাম্প্রতিক সময়ে 'ইসরায়েল' মানেই সামরিক অভিযান, যুদ্ধ আর সংঘাত। গাজা, লেবানন ও ইয়েমেনের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও যুদ্ধে জড়িয়েছে দেশটি। স্বভাবতই, ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের মনে এসব যুদ্ধবিগ্রহের চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মাক্কাবি হেলথকেয়ার সার্ভিসেস নামের এক প্রতিষ্ঠানের নতুন জরিপে জানা গেছে—এসব যুদ্ধ-সংঘাত ইসরায়েলিদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
গত ১৩ই জুন ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ইসরায়েলের ১২ দিনের 'রাইজিং লায়ন' যুদ্ধ শেষ হওয়ার এক মাস পর এক হাজারেরও বেশি রোগীর ওপর জরিপ চালায় সংগঠনটি। জরিপে ঘুম না হওয়া, শারীরিক দুর্বলতা, আতঙ্ক, উদ্বেগ, অবসাদ ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
জরিপে সব ধরনের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত এক হাজার ১০০ ইসরায়েলিকে বেছে নেওয়া হয়। চিকিৎসা সেবা পেতে ইসরায়েলি নাগরিকদের চারটি অলাভজনক স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠানের (এইচএমও) যেকোনো একটিতে নিবন্ধন করতে হয়। মাক্কাবিও এমন একটি প্রতিষ্ঠান।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫০ শতাংশ জানান, তারা প্রয়োজন মতো ঘুমাতে পারছেন না। গত ফেব্রুয়ারিতে সংখ্যাটি ছিল ৩৩ শতাংশ। সপ্তাহে অন্তত দুই রাত অনিদ্রায় ভোগেন ৫০ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে তা ছিল ৩৭ শতাংশ। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১৬ শতাংশ জানান, তারা ভয়ঙ্কর অবসাদে ভুগছেন।
প্রতিদিন কাজকর্ম সঠিকভাবে পালনের জন্য যতটুকু শারীরিক-মানসিক শক্তি দরকার তা পাচ্ছেন না ৫০ শতাংশ মানুষ। ইরান-যুদ্ধের পর দৈনিক কাজের রুটিনে ফিরতে ২৪ শতাংশের অনেক কষ্ট হয়েছে। 'মাঝারি' মানের কষ্ট হয়েছে ৩১ শতাংশের।
শারীরিক-মানসিক অসুস্থতার লক্ষণের মধ্যে ছিল উদ্বেগ, আতঙ্ক ও আশঙ্কা (৩৫ শতাংশ), অবসাদ ও শক্তির অভাব (২২ শতাংশ) ও ঘুমের ব্যাঘাত (১৮ শতাংশ)। ধূমপায়ীদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ বলেছেন, যুদ্ধ চলাকালে তাদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বেড়েছে।
খবরটি শেয়ার করুন