মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার ঘোষণা *** গবেষণা ও জনমত যাচাই ছাড়া পুলিশের পোশাক পরিবর্তন পুনর্বিবেচনার আহ্বান *** আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ‘রাজসাক্ষী’ বানিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ *** ‘চেতনা পরিপন্থি হলে তো সংবিধান পরিপন্থি হয় না’ *** নিজের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ডিঅ্যাকটিভেট করলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব *** রাষ্ট্রপতিকে রক্ষায় বিএনপি কেন অনড় ছিল, দলটির বিষয়ে কি বলছেন তিনি? *** ‘বিএনপির শক্ত অবস্থানের কারণেই সাহাবুদ্দিন থেকে গেছেন বঙ্গভবনে’ *** সদ্য সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ৯ হাজার কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ *** বিদ্যুতে বকেয়া ৪৫ হাজার কোটি টাকা, মন্ত্রী বলছেন—দেউলিয়া পরিস্থিতি *** ১২ই মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি

হঠাৎ করে ধর্মে আগ্রহী হয়ে উঠছে ব্রিটেনের জেন জি

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১২:৪৮ অপরাহ্ন, ১৩ই মে ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

ব্রোম্পটন ওরেটরি, পশ্চিম লন্ডনের প্রাচীন এক গির্জা। পুরনো জিনিসপত্র ও ধূপের গন্ধে ভরা এ গির্জায় দেখা মেলে অদ্ভুত এক চিত্র। বর্তমান সময়ে এসে সাধারণত গির্জা বা কোনো ধর্মীয় উপসনালয়ে তরুণদের ভিড় দেখা যায় না। গির্জাটিতে রোববারের প্রার্থনার সময় দেখা যায়, বেদীতে একজন পুরোহিত ধীর কণ্ঠে প্রার্থনা করছেন আর সামনে বসে আছেন সুন্দর সুন্দর পোশাকে সজ্জিত তরুণরা। শক্ত বেঞ্চে বসে, হাঁটু গেড়ে, প্রার্থনা করছেন তারা। এমন চিত্র ক্রমশই বাড়ছে ব্রিটেনের ক্যাথলিক চার্চগুলোতে।

গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে জনমত জরিপকারী সংস্থা ইউগভ একটি জরিপ চালায়। বাইবেল সোসাইটি নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চালানো এ জরিপে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রায় ১৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্কের ধর্মীয় মতামত এবং অভ্যাস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। জরিপের ফলাফল ছিল চমকপ্রদ। খবর দ্য ইকোনমিস্টের।

জরিপে দেখা যায়, গত ২০১৮ সালের পর থেকে মাসে অন্তত একবার গির্জায় যাওয়া লোকের সংখ্যা বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। তরুণদের মধ্যে এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি, বিশেষ করে তরুণ পুরুষদের মধ্যে। ২০১৮ সালে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ নিয়মিত গির্জায় যেতেন। তবে ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৬ শতাংশ হয়েছে।

আরও একটি চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো, নতুনভাবে ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট এ তরুণরা ইংল্যান্ডের চার্চে নয়, বরং ক্যাথলিক মাসে উপস্থিত হচ্ছেন। আর এদের সংখ্যা এতটাই বেশি যে, পাঁচ শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ক্যাথলিক উপাসকদের সংখ্যা প্রোটেস্ট্যান্টদের ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তরুণদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ক্যাথলিকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ছয় বছর আগে তরুণ গির্জাপ্রেমীদের এক-তৃতীয়াংশ অ্যাংলিকান বেঞ্চে ছিলেন। এখন মাত্র এক-পঞ্চমাংশ সেখানে যান, আর ৪১ শতাংশ ক্যাথলিক মাসে অংশ নেন।

দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, মহামারি হয়তো ক্যাথলিক চার্চের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে। লন্ডনের দক্ষিণে লুইশাম এলাকার ২৯ বছর বয়সী ব্যাংকার এডেন গেবোর্স বলেন, লকডাউন তাকে একটি সম্প্রদায় খোঁজার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি এটি খুঁজে পান মেফেয়ারের জেসুইট মন্দির ফার্ম স্ট্রিট চার্চে। ফার্ম স্ট্রিটের তরুণ-বয়স্কদের সেবায় নিয়মিতভাবে প্রায় ১৮০ জন উপস্থিত থাকেন। তরুণ-বয়স্ক মন্ত্রণালয়ের নেতা ফাদার কেনসি জোসেফ বলেন, ‘দশ বছর আগে এ সংখ্যা হয়তো অর্ধেক ছিল।’

ব্রিটেনসহ অন্যান্য দেশের তরুণদের কাছে ক্যাথলিক ধর্ম দুটি কারণে আকর্ষণীয় বলে মনে হচ্ছে। একদিকে, ধ্যান ও আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি নিবেদন অনলাইনের জগতে একটি শক্তিশালী প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করছে। অন্যদিকে, ইন্টারনেটও ধর্মপ্রচারের একটি বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

একটি ক্যাথলিক মিডিয়া সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা আমেরিকান বিশপ রবার্ট ব্যারন এবং পডকাস্টার ও ক্যাম্পাস মিনিস্টার ফাদার মাইক শমিটজ—এ দুজনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী সংগ্রহ করেছেন। বিশপ ব্যারন ‘মাচো খ্রিস্টিয়ানিটি’র ধারণাকে উদযাপন করেন, যেখানে পুরুষরা ‘নায়ক’ হয়ে উঠতে পারেন।

ঔপন্যাসিক গ্রাহাম গ্রিন তার ক্যাথলিক বিশ্বাস সম্পর্কে এমনভাবে বর্ণনা করেছেন, যা সম্ভবত আজকের তরুণ চার্চগামীদের আকর্ষণের সঙ্গে মিল খায়। তিনি বলেন, এটি ‘সাধারণ পরিবর্তনের মধ্যে একটি সুন্দর, কঠিন এবং নিশ্চিত কিছু, যদিও তা কিছুটা অস্বস্তিকর।’

এইচ.এস/

খ্রিষ্টধর্ম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250