রবিবার, ৮ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে কাঁদলেন শাবান মাহমুদ *** তেলের টানাপোড়েনের মাঝে সুখবর দিলেন জ্বালানিমন্ত্রী *** যুদ্ধ বন্ধের বার্তা নিয়ে ফিরে এলেন ‘সুবোধ’ *** ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো নিয়ে রাতে শাহবাগ থানায় উত্তেজনা *** গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে দিল্লি: প্রণয় ভার্মা *** ‘মুক্তিযুদ্ধ যেন আমাদের সবকিছুর উর্ধ্বে থাকে’ *** ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানাল আরব আমিরাত *** চাঁপাইনবাবগঞ্জে গান-বাজনা নিষিদ্ধের নোটিশ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ *** সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের দাবি জানালেন মামুনুল হক *** ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ইতিহাস কেউ মুছতে পারবে না: সোহেল তাজ

চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে কাঁদলেন শাবান মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, ৮ই মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে নিজের জীবনের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাংবাদিক নেতা এবং ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস উইংয়ের সাবেক মিনিস্টার শাবান মাহমুদ। দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মিথ্যা মামলায় হয়রানি ও চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে তিনি সরকারের কাছে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে অংশ নিয়ে ৫ই আগস্টের পর নিজের ও সহকর্মী সাংবাদিকদের জীবন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাবান মাহমুদ। খন্দকার ইসমাঈলের সঞ্চালনায় ওই অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং দেশের গণমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নানা অভিযোগ করেন। এই টকশোর ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে কাঁদতে দেখা যায়। ভিডিওটি ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওটি শেয়ার করে জাতীয়সহ সারাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকে নানা আলোচনা-সমালোচনা করছেন। অনেকে শাবান মাহমুদের বক্তব্যকে সমর্থন জানালেও ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিদেশে তার নিরাপদ দুরত্বে অবস্থান করার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন। তাদের অভিযোগ, গত ১৮ মাসে তারা শাবান মাহমুদকে পাশে পাননি।

আবার অনেকে বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারত থেকে শাবান মাহমুদের দেশে ফেরার বিষয়টি মোটেও সহজ ছিল না। দেশে তখন স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল না। বিদেশে থেকেও ঢাকার অনেক সহকর্মীর দুর্দিনে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে খোঁজখবর রেখেছেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের আমলে সাংবাদিকদের দাবি-দাওয়া, মামলা প্রত্যাহার ও কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির পক্ষে শাবান মাহমুদ যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

ভিডিওতে শাবান মাহমুদ বলেন, দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক সাংবাদিক মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে চরম সংকটে পড়েছেন। অনেককে চাকরি হারাতে হয়েছে, আবার কেউ কেউ পরিবার-পরিজন ছেড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ফলে তাদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিটি পর্যায়ে অবহেলার শিকার হচ্ছেন।

শাবান মাহমুদ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতার প্রকৃত শক্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

এ সময় শাবান মাহমুদ কারাবন্দি সাংবাদিক একাত্তর টিভির মোজাম্মেল বাবু, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, সাংবাদিক দম্পতি ফারজানা রূপা ও শাকিল আহমেদসহ অন্যদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় ভিডিওর বিষয়ে সুখবর ডটকম শাবান মাহমুদের বক্তব্য জানতে পারেনি।

গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি পাঁচ সাংবাদিকের ছবি শেয়ার করে শাবান মাহমুদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়। ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত , দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, শাকিল আহমেদ, ফারজানা রূপা, আনিস আলমগীরসহ সব কারাবন্দি সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তি চাই। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির উদ্দেশ্যে বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই হবে তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

শাবান মাহমুদ লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা অবশ্যই আশা করতে পারি, বিনা বিচারে সাংবাদিকদের কারাজীবনের দিন শেষ হবে দ্রুতই। ঈদের আগেই সাংবাদিেকরা মুক্ত হোক কারাজীবনের বন্দীশালা থেকে। প্রতিষ্ঠিত হোক আইনের শাসন।'

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের মহাসচিব শাবান মাহমুদ এক সময় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ২০২০ সালের ১৬ই নভেম্বর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি শাবান মাহমুদকে ভারতের নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টারের দায়িত্ব দেয় সরকার। তখন দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

২০২২ সালে শাবান মাহমুদের চাকরির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়। মেয়াদ চার মাস বাকি থাকতেই তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে সাবেক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। তখন তাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। ভারত থেকে তিনি তৃতীয় কোনো দেশে চলে যান। বর্তমানে ওই দেশেই তিনি থাকছেন।

শাবান মাহমুদ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250