শুক্রবার, ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** এখন পর্যন্ত এককভাবে বিএনপি বিজয়ী ১৮৪ আসনে, জোটে ১৮৭ *** বাংলাদেশের নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় চীনা দূতাবাসের অভিনন্দ। *** ঐতিহাসিক বিজয়ে তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা *** ৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে বাংলাদেশ *** তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা, কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন দূতাবাস *** ঢাকা-৯ আসনে জয়ী বিএনপির হাবিবুর রশিদ, স্বতন্ত্র তাসনিম জারা তৃতীয় *** ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা *** বিএনপি প্রার্থীকে অভিনন্দন জানালেন জামায়াতের শিশির মনির *** কুমিল্লা-৪ আসনে ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেন বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থী *** কয়েকটি আসনে অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতের, স্থগিত করার দাবি

মির্জা ফখরুলের জয়, উচ্ছ্বাস ছাপিয়ে প্রত্যাশা ও শৃঙ্খলার বার্তা

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১১:০২ পূর্বাহ্ন, ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ফাইল ছবি

রাজনীতি যখন শুধুই ভোট-অঙ্কের মারপ্যাঁচ, ঠিক তখনই জননেতার প্রতি সাধারণ মানুষের এক চিলতে ভালোবাসা হয়ে উঠছে একরাশ আবেগের প্রতিচ্ছবি। ঠাকুরগাঁওয়ের ধুলোমাখা পথ থেকে রাজধানীর উত্তাল রাজপথ— দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্লান্তি শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন নিজ এলাকায় বিজয়ী হলেন, তখন তা কেবল ভোটের জয় হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি হয়ে উঠেছে এক অভিভাবককে ফিরে পাওয়ার স্বস্তি। সীমান্তের এই জেলায় এখন একটাই সুর— সদ্যোজাত সন্তানকে মা যেমন বুকের ওমে আগলে রাখেন, মির্জা ফখরুলও যেন তার প্রিয় ঠাকুরগাঁও তথা বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে তেমনই স্নেহে আর যত্নে আগলে রাখেন।

জননেতা না কি অভিভাবক? ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মানুষের কাছে মির্জা ফখরুল কেবল একজন রাজনীতিক নন, বরং এক অভিভাবকের সমার্থক। 

গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ই ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিতোষ রবি নামে এক ব্যক্তির আবেগঘন পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। সেখানে তিনি লিখেছেন, যোগ্য জনপ্রতিনিধি, যোগ্য নেতৃত্ব, যোগ্য নেতা এবং যোগ্য মানুষ কাকে বলে— আপনাকে না দেখলে তা অনুমান করা যায় না।

এই বার্তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের এক রাজনৈতিক পথচলার প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার মেলবন্ধন। সাধারণ মানুষের দাবি, মায়ের মমতায় যেভাবে সন্তান সুরক্ষিত থাকে, ঠিক সেভাবেই মির্জা ফখরুলের ছত্রছায়ায় আগামীর বাংলাদেশ যেন মাথা তুলে দাঁড়ায়। 

উন্নয়নের নীল নকশা ও কর্মসংস্থান বিজয়ের পর উচ্ছ্বাসে গা না ভাসিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করেছেন তার অগ্রাধিকারের কথা। 

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের এই ভালোবাসা আমাকে ঋণের বাঁধনে বেঁধেছে। এই ঋণ শোধ করতে আমি আমার কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।

তিনি আরও জানান, এলাকার শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে তার প্রথম কাজ। ঠাকুরগাঁও যেহেতু কৃষিপ্রধান এলাকা, তাই এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বেকারত্ব দূরীকরণ এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই তার মূল লক্ষ্য।

কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি কড়া বার্তা বিজয় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় অভিজ্ঞ এই রাজনীতিকের কণ্ঠে শোনা গেছে কঠোর শৃঙ্খলার সুর।

দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, একটি কথা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোনো অপরাধমূলক কাজ বরদাস্ত করা হবে না। তিনি যত বড় নেতাই হন না কেন, দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করলে কড়া ব্যবস্থা নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না।

রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি কর্মীদের নির্দেশ দেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির সঙ্গে যেন কোনো প্রকার তর্ক-বিতর্ক বা সংঘর্ষে কেউ না জড়ান। মির্জা ফখরুলের সাফ কথা— আপনারা ভাবতে পারেন জিতে গেছি বলে যা খুশি তাই করবেন, সেটা হবে না। আইনের বাইরে কেউ কিছু করতে পারবেন না।

অন্ধকারের প্রত্যাখ্যান ও আগামীর আশা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ উগ্রবাদ ও অপশক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে এক স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। জীবনের সায়াহ্নে এসে এই বিপুল জনসমর্থনে আপ্লুত মির্জা ফখরুল। দেশ পরিচালনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে তিনি বিএনপির ‘ভিশন ২০৩০’ এবং ‘৩১ দফা’র কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দারিদ্র্যমুক্ত, গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই এখন প্রধান লক্ষ্য।

ঠাকুরগাঁওয়ের ঘরে ঘরে এখন সেই প্রার্থনাই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে— রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এই ‘অভিভাবক’ যেন তার অঞ্চলের এবং দেশের মানুষের ভরসার শেষ আশ্রয় হয়ে থাকেন।

জে.এস/

মির্জা ফখরুল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250