শনিবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আলাদা শপথের দরকার নেই, গণভোট সংসদে কার্যকর হবে: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি *** ঈদের আগে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেবে সরকার *** শহীদ মিনারে জামায়াত আমিরকে দেখে ‘রাজাকার’ ও ‘একাত্তরের দালাল’ স্লোগান *** একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা *** ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট *** বিমানের পরিচালক হিসেবে জয়েন করিনি: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব *** প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্ব পেলেন *** জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি *** ‘প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে ভারত’ *** এবার পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ‘উদ্বোধনী ব্যানার’

পছন্দের প্রার্থী আগেই ঠিক করা, ভোট দিতে লাগছে গড়ে ৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০১:৩৭ অপরাহ্ন, ৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ২০২৪-এ ভোট গ্রহণ শুরুর পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোট দিতে ভোটারদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

আজ মঙ্গলবার (৯ই সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কেন্দ্রে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি বুথে ভোট দিতে একজন শিক্ষার্থীর গড়ে ছয় মিনিট সময় লাগছে।

ভোটের বুথে প্রবেশের আগে থেকেই অনেক ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করে এসেছেন। এর কারণ হিসেবে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের তিন শিক্ষার্থী সিদরাতুন মোনতাহা, সায়মা তাসনিম নিশাত এবং তাসনিয়া আহমেদ জানান, এতগুলো প্রার্থীর মধ্য থেকে সঠিক প্রার্থীকে বেছে নেওয়া বেশ কঠিন। তাই তারা আগের রাতেই ভিপি ও জিএসসহ অন্যান্য পদে কাকে ভোট দেবেন, তা ঠিক করে এসেছিলেন। ফলে তাদের ভোট দিতে মাত্র সাত মিনিট সময় লেগেছে।

ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হুমাইরা জারিন তালুকদার জানান, বুথে প্রবেশ করার পর তার ভোট দিতে ছয় মিনিট সময় লেগেছে। একইভাবে, ডিজাস্টার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী আফিফা বিনতে আওয়াল বলেন, এবার সত্যিই উৎসবমুখর পরিবেশে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভোট দেওয়া গেছে। তার সর্বোচ্চ ছয় মিনিট সময় লেগেছে।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাজরীন জাহান মুনিয়া জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘জীবনে প্রথম ভোটটা দিলাম, দেখা যাক কতটুকু কাজে লাগে।’

তিনি আশা করেন, এই নির্বাচনের সফল সমাপ্তি জাতীয় নির্বাচনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, তিনি চান নির্বাচিত প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবেন এবং ভবিষ্যতে গণরুম-গেস্টরুমের মতো সমস্যাগুলো আর ফিরে আসবে না।

মুনিয়া জানান, কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদের জন্য আলাদা ব্যালট বাক্স ছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অত্যন্ত সহায়ক ছিলেন। যেহেতু তিনি আগেই তার পছন্দের তালিকা সাজিয়ে এনেছিলেন, তাই তার ভোট দিতে সর্বোচ্চ সাত মিনিট সময় লেগেছে।

এই নির্বাচন ঘিরে ইতিবাচক মনোভাব শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রার্থীরাও এই পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট। বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের জিএস পদপ্রার্থী আবু বাকের মজুমদার জানান, ভোট উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছেন। তিনি আশ্বস্ত করেন, কোনো অপ্রীতিকর পরিবেশের সুযোগ নেই এবং শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের যোগ্য প্রার্থীকে খুঁজে নেবেন।

এবার ডাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ৪১টি পদের জন্য মোট ৪৭১ জন প্রার্থী এবং হল সংসদের ১০১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্তত ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আটটি কেন্দ্রে মোট ৮১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এই নির্বাচন শুধু একটি ছাত্র সংসদ নির্বাচন নয়, এটি যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চেতনার এক নতুন বহিঃপ্রকাশ।

জে.এস/

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250