ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
জুলাই জাতীয় সনদ দেখলে গ্রামের সেই শয়তান লোকটার গল্পটা মনে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান। এই সনদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ দেখলে আমার মনে হয় সেই গ্রামে একটা শয়তান লোক ছিল। এই শয়তান লোক মানুষের পশ্চাৎদেশে আঙুল প্রবেশ করাত। এই শয়তানের স্বাভাবিক মৃত্যুর পরও গ্রামের লোকেরা বেকায়দায় পড়লে গ্রামটিতে অশান্তি নেমে আসে।
তার মতে, মৌলবাদকে সামাল দিতে সদ্য গঠিত বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক ছাড় দেবে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন তিনি। তার এই মন্তব্যের একটি ভিডিও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ফেসবুক পেজ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনদের মধ্যে তার বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জুলাই সনদ কি নতুন সংসদ এবং নতুন সরকারের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে? তবে কেন এই পরিস্থিতি? অন্যদিকে, জামায়াত-এনসিপির রাজনৈতিক কৌশলে আওয়ামী লীগ কি সুযোগ খুঁজবে? এভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ওই দলটি কি আবার রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করবে? এসব নিয়ে ওই ভিডিওতে বিশ্লেষণ করেছেন বদিউর রহমান। এর উপস্থাপনায় ছিলেন বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নির্বাহী সম্পাদক শাখাওয়াত লিটন।
ভিডিওতে বদিউর রহমান বলেন, জুলাই সনদ দেখলে আমার মনে হয় এক গ্রামে একটা শয়তান লোক ছিল। এই শয়তান লোক মানুষের পশ্চাৎদেশে আঙুল প্রবেশ করাত। মানুষ বিরক্ত কিন্তু কিছুই করতে পারে না। তার মৃত্যুর সময় যখন হলো, তখন সে নিজের ছেলেদের ডেকে বলল—এক কাজ করিস আমি তো মানুষদের অনেক কষ্ট দিয়েছি, এখন আমি মরে গেলে আমাকে কবর দিস না। আমাকে তিন রাস্তার মাথায় আমার লাশ বাঁশের মধ্যে গেঁথে রাখিস।’
তিনি বলেন, ‘এই আদেশ পালনকারীদের পুলিশ নিয়ে গেল। সুতরাং যে শয়তানি করে সে মৃত্যুর পর লাশ নিয়েও শয়তানি করে।’
প্রসঙ্গত, সদ্য বিদায়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তৈরি করা হয়েছে জুলাই সনদ। এর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। বাকি প্রস্তাবগুলো অধ্যাদেশ ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
এ বিষয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য ছিল। মূল বিতর্ক সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে। সনদ ও গণভোটের আইনি ভিত্তি, গণভোটের সময় ও পথ-পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা আছে।
৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দুটি বিকল্প সুপারিশ করে। একটিতে বলা হয়েছে, ২৭০ দিনের মধ্যে আগামী (বর্তমান) সংসদ সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে। সে ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বিল আকারে আদেশের তফসিলে থাকবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের জমা দেওয়া সুপারিশকে ইতিবাচকভাবে দেখে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অন্যদিকে বিএনপি এতে অনেকগুলো অসংগতি দেখে।
এমনকি ঐকমত্য কমিশন ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার বদলে অনৈক্য প্রতিষ্ঠার একটা প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে বলে তখন মন্তব্য করে বিএনপি। ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে যে কিছু অসংগতি রয়েছে, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
খবরটি শেয়ার করুন