ছবি: সংগৃহীত
সাবেক সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কার অন্যতম প্রভাবশালী মুখ ও পরে অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তা কেবল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়—বরং পুরো এক-এগারো অধ্যায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘ বছর ধরে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
প্রশ্নটি এখন সরাসরি আসছে—এক-এগারোর সময়ে যারা ক্ষমতার আড়ালে থেকে প্রভাব বিস্তার করেছেন—তারা কি আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন? কোনো কোনো মহলের পছন্দনীয় না হলেও সত্য, এই প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান।
কোথাও কোথাও আসছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমের নাম। যদিও তিনি এক-এগারোর সময়ের সুবিধাভোগী কেউ নন। তার নাম আসছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ১৮ মাসের বিতর্কিত ভূমিকার জন্য।
মূলত ‘এক এগারো’র সাবেক সরকারের সেই সময়টিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শীর্ষ দুই গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব—মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমানের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা বেশি জোরদার হয়েছে। তাদের ওই সময়কার ভূমিকার কারণে বিচারের দাবি তুলছে বিভিন্ন মহল। সমালোচকদের অভিযোগ, এক এগারোর সময় দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হলেও কিছু প্রভাবশালী গণমাধ্যম সেই প্রক্রিয়াকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করেছে।
তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে জনমত তৈরি করতে গণমাধ্যমের একটি অংশ ভূমিকা রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমানের সম্পাদকীয় নীতি ও প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো নতুন করে বিশ্লেষণের দাবি উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সেই সময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকলেও তা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রয়োগ করা হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে ‘অপ্রমাণিত তথ্য’ ও ‘একপাক্ষিক বয়ান’ প্রচারের মাধ্যমে একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের একটি অংশ মনে করছে, এক এগারোর সময় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। এ বিষয়ে সাংবাদিক সমাজের আরেকটি অংশ ভিন্নমত পোষণ করছে। তাদের মতে, সেই সময়ের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন এবং গণমাধ্যম পরিস্থিতি বিবেচনায় কাজ করেছে।
সংস্কারের মুখোশে নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি?
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে একটি বিতর্কিত বাঁক। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভূমিকার পথ ধরে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থার সুযোগে তখন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে, যার ঘোষিত লক্ষ্য ছিল কথিত দুর্নীতি দমন ও রাজনৈতিক সংস্কার।
তবে সমালোচকদের ভাষ্য, এটি ছিল একটি নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক প্রকল্প—যেখানে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একযোগে নিষ্ক্রিয় করে একটি “পরিকল্পিত রাজনীতি” চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।
ওই সময় গ্রেপ্তার হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের রাজনীতিকে কার্যত শূন্যতায় ঠেলে দেওয়া হয়। প্রশ্ন উঠেছিল—এটি কি কেবল দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ছিল, নাকি রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস?
গণমাধ্যম: চতুর্থ স্তম্ভ, নাকি নীরব অংশীদার?
গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’। কিন্তু এক-এগারোর সময় সেই স্তম্ভ কতটা ভূমিকা পালন করেছিল? সমালোচকদের অভিযোগ—দেশের প্রভাবশালী কিছু সংবাদমাধ্যম সেই সময় কেবল তথ্য পরিবেশন করেনি, বরং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছিল। বিশেষ করে ডেইলি স্টারের প্রকাশক মাহফুজ আনামের একটি বহুল আলোচিত স্বীকারোক্তি—যেখানে তিনি বলেন, কিছু সংবাদ যাচাই ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছিল—এই অভিযোগকে আরও জোরালো করে।
প্রশ্ন উঠছে—যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ কি কেবল পেশাগত ভুল, নাকি একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ?একইভাবে মতিউর রহমানের নেতৃত্বাধীন প্রথম আলোর বিরুদ্ধেও অভিযোগ—তারা ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এমনভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। সমালোচকরা বলছেন, এটি ছিল প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের যৌথ ‘মিডিয়া ট্রায়াল’—যেখানে আদালতের আগেই তারা রায় দিয়ে দিচ্ছিল।
“আমরাই সরকার বসিয়েছি”: একটি উক্তি, নাকি মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ?
সাবেক সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম ক্রীড়নক মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর বর্তমান বিতর্কে সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত হচ্ছে একটি বক্তব্য—“আমরাই এই সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি।” এই উক্তি যদি সত্যিই সেই অর্থে বলা হয়ে থাকে, তাহলে তা কেবল একটি মন্তব্য নয়—বরং গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য একটি ভয়াবহ বার্তা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। এটি ইঙ্গিত করে, নির্বাচিত সরকারের বাইরে থেকেও কিছু শক্তি ক্ষমতা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
অত্যন্ত দম্ভোক্তির সঙ্গে এক-এগারোর সময়ে এই মন্তব্য করেছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক মাহফুজ আনাম। তার সমর্থকেরা অবশ্য দাবি করেন, এই বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—কেন এমন একটি উক্তি জনমনে এত গভীরভাবে দাগ কেটেছে? অবশ্য এক-এগারো পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের আমলে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশেও ওই উক্তির জন্য মাহফুজ আনাম দুঃখপ্রকাশ করেননি।
‘দুই নেত্রীকে সরে দাঁড়াতে হবে’
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘এক এগারো’—অর্থাৎ ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির জরুরি অবস্থা—একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায়। সেই সময় দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেত্রী, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন মহল থেকে সংস্কারের দাবি উঠেছিল। এই প্রেক্ষাপটেই জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান একটি আলোচিত নিবন্ধ লিখে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেন।
নিবন্ধটিতে মতিউর রহমান মূলত দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্থবিরতা, দলীয় নেতৃত্বের একচেটিয়াকরণ এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘দুই নেত্রীর’ রাজনীতির সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তি দেন, দেশের গণতন্ত্রকে গতিশীল করতে এবং একটি কার্যকর রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো প্রয়োজন হতে পারে। তার এই বক্তব্যকে অনেকে ‘টু লিডার থিওরি’র সমালোচনা হিসেবে দেখলেও, বিরোধীরা এটিকে সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন।
বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ এই নিবন্ধকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী এবং ‘অগণতান্ত্রিক শক্তির’ বক্তব্যের প্রতিধ্বনি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, ওই সময় সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রভাবের মধ্যে থেকে এমন মতামত প্রকাশ করা হয়, যা নির্বাচিত নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার একটি ‘নরম কৌশল’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মতিউর রহমানের নিবন্ধকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করেন। তাদের মতে, সেই সময়ের রাজনৈতিক অচলাবস্থা, সহিংসতা এবং দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত পরিস্থিতিতে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা অস্বাভাবিক ছিল না। তারা বলেন, এটি ছিল একটি মতামতভিত্তিক বিশ্লেষণ, যা রাজনৈতিক সংস্কারের প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল।
তবে সময়ের ব্যবধানে এই নিবন্ধটি নতুন করে আলোচনায় আসে প্রায়ই, বিশেষ করে যখন ‘এক এগারো’ প্রসঙ্গ বা তৎকালীন গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। সমালোচকেরা এখনও প্রশ্ন তোলেন—সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতা রক্ষা করা হয়েছিল কিনা, নাকি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রভাবিত হয়ে এমন মত প্রকাশ করা হয়েছিল।
মতিউর রহমান নিজে পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, তার লেখা ছিল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ, যার উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার পথ খোঁজা। তবে সমালোচকদের একাংশ এ বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন এবং তারা মনে করেন, ওই নিবন্ধ গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক তৈরি করে গেছে।
সব মিলিয়ে, ‘দুই নেত্রীকে সরে দাঁড়াতে হবে’—এই বক্তব্যটি শুধু একটি নিবন্ধের সীমায় আবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণমাধ্যমের ভূমিকা, স্বাধীনতা এবং দায়িত্ব নিয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী আলোচনার সূচনা করেছে, যা এখনও চলমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর সেই বিতর্কের আগুনে ঘি পড়ে উস্কে ওঠেছে।
প্রেস সচিব: তথ্য পরিবেশন, নাকি বয়ান নির্মাণ?
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত হয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন রূপান্তরকালিন সরকার। এই সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শফিকুল আলম। সমালোচকদের মতে, এই পদটি ছিল কেবল প্রশাসনিক নয়—বরং জনমত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপকে তখন ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন, সমালোচনাকে আড়াল করা এবং একটি নির্দিষ্ট বয়ান প্রতিষ্ঠা—এসবই প্রেস সচিবের কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে—এটি কি শুধুই দায়িত্ব পালন, নাকি একটি রাজনৈতিক প্রকল্পের অংশগ্রহণ? এদিকে সামাজিক মাধ্যমে যে দাবি উঠেছে—তা হলো, “যদি এক-এগারোর সামরিক ও প্রশাসনিক মুখদের গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে বেসামরিক কুশীলবেরাও কেন ছাড় পাবেন?” এই প্রশ্নকে সহজভাবে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ ইতিহাসের বিচার যদি হয়, তবে তা হতে হবে সামগ্রিক। তবে অন্য একটি পক্ষ সতর্ক করছে—এই ধরনের দাবি যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় পরিণত না হয়। সঙ্গে আসছে পাল্টা প্রশ্ন—জবাবদিহি কি প্রতিহিংসা?
আইন সবার জন্য সমান, নাকি বেছে বেছে প্রয়োগ হবে? দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার একটি অভিযোগ ফিরে আসে—আইনের প্রয়োগ সবসময় সমানভাবে হয় না। এক-এগারোর সময় যারা ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ আজও প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। তাহলে প্রশ্ন উঠছে—আইনের শাসন কি কেবল দুর্বলদের জন্য? যদি একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তাহলে একই সময়ের অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা কেন তদন্তের বাইরে থাকবে?
ইতিহাসের দায় এড়ানো যাবে কতদিন?
এক-এগারো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। এই অধ্যায়ে কার কী ভূমিকা ছিল, কে কতটা দায়ী—সেসব প্রশ্ন আজও পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। ইতিহাসকে চাপা দিয়ে রাখা যায়, কিন্তু মুছে ফেলা যায় না। বিশেষজ্ঞেরা মনে করেন, আজকের এই বিতর্ক প্রমাণ করছে—অতীতের অসমাপ্ত প্রশ্নগুলো একসময় না একসময় ফিরে আসেই। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেপ্তার একটি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করছে—দেশের একটি বড় অংশ এক-এগারোর পূর্ণাঙ্গ বিচার চায়।
মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমানের মতো ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন এড়ানো যায় না—গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কি কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে? যদি জবাব ‘না’ হয়, তাহলে ইতিহাসের এই অধ্যায় নিয়ে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়াই সময়ের দাবি। নয়তো এক-এগারো কেবল একটি তারিখ হয়ে থাকবে না—বরং একটি অপূর্ণ বিচার, একটি অমীমাংসিত ক্ষোভ এবং একটি পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা হয়ে ভবিষ্যতেও ফিরে আসবে।
খবরটি শেয়ার করুন