পাকিস্তানে মসজিদের সামনে ইফতারের আয়োজন। ছবি: ডন
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে পাকিস্তানে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সেই ধারায় চলমান রমজান মাসে ‘ইফতার পার্টি’ আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসলামাবাদ।
আজ বুধবার (১১ই মার্চ) এই তথ্য জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাসের ব্যবহারে রাশ টানতে একাধিক ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি সরকারি খরচও কমাতে চান এবং একইভাবে আর্থিক সংকটের মোকাবিলা করতে চান।
পাকিস্তানে আগামী সোমবার থেকে সব স্কুল দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকবে। এর ফলে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী প্রভাবিত হবে। এই সময়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অনলাইন ক্লাস করবে।
সরকারি ব্রডকাস্টার রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ ইফতার ডিনার পার্টির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সরকারি অফিস, ব্যাংকগুলো সপ্তাহে চারদিন খোলা রাখা নিয়ে আলোচনা চলছে।
অর্ধেকের বেশি সরকারি কর্মী বাড়ি থেকে কাজ করবেন। সরকারি গাড়ির সংখ্যাও অর্ধেক করে দেওয়া হচ্ছে। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও সরকারি বাস কমানো হবে না। প্রধানমন্ত্রী শরিফ মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেছেন, মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা তাদের বেতন ও ভাতা নেবেন না। আইনসভার সদস্যরা ২৫ শতাংশ বেতন কম পাবেন। পাশাপাশি, নতুন সরকারি গাড়ি কেনার প্রক্রিয়া জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত হামলা আজ ১২তম দিনে পা দিয়েছে। এই যুদ্ধে তেলের বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব এশিয়ার দেশগুলোতে বেশি করে দেখা দিয়েছে। পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ অনেক দেশই ইরান-সংলগ্ন হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা তেলের ওপর বড় আকারে নির্ভরশীল।
খবরটি শেয়ার করুন