বুধবার, ২৮শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’ *** নতুন মার্কিন নীতি বাংলাদেশের উপর যে প্রভাব ফেলবে *** ‘কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ পুরুষদের সমকামী করে তুলতে পারে’ *** মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা বানিয়ে বিসিএস ক্যাডার, সিনিয়র সহকারী সচিব কারাগারে *** নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না যুক্তরাষ্ট্র, খোঁজ-খবর রাখবে

বাণিজ্য উপদেষ্টার বক্তব্যের সমালোচনায় জ ই মামুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, ২১শে জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন গত সোমবার (১৯শে জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোট সম্পর্কিত মতবিনিময় সভায় বলেছেন, এত টাকা খরচ করে পদ্মা সেতু না বানিয়ে যদি সেচ (ইরিগেশন) খাতে বিনিয়োগ করা হতো, তাহলে চালের দাম কমপক্ষে ৫ টাকা কমে যেত। বরং আজ পদ্মা সেতুর দায় পরিশোধ করতে গিয়ে চালের দাম ২০ টাকা বেড়ে গেছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টার ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে বিশিষ্ট সাংবাদিক জ ই মামুন তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার এই স্ট্যাটাস ফেসবুকে এর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

সেখানে তিনি লিখেছেন, আমার গ্রামের বাড়ি কুয়াকাটার কাছাকাছি। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যেতে পথে পদ্মা সেতু, পায়রা সেতুসহ মোট ৯টা বা ১০টা সেতু পার হতে হয়। আশির দশকে যখন আমি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, তখন এসবের একটাও ছিল না। ঢাকায় আসতে হলে একের পর এক ফেরি পার হতে হতো—পদ্মা নদী পার হতে হতো আরিচা-নগরবাড়ি কিংবা দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে। কলাপাড়া বা আমতলী থেকে ঢাকায় আসতে সময় লাগত ১৮–২০ ঘণ্টা, কখনো কখনো ২৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি।

তিনি বলেন, আর এখন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে সড়ক পথে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ যেতে সময় লাগে গড়ে ৬ ঘণ্টা। এখন উপদেষ্টা মহোদয়ের বক্তব্য শুনে সত্যি বলতে মাথা গরম হয়ে গেল। উনি বলেছেন—শুধু পদ্মা সেতুর কারণেই যদি চালের দাম ২০ টাকা বেড়ে থাকে, তাহলে আমার বাড়ি যাওয়ার পথে থাকা ওই ৯–১০টা সেতুর কারণে চালের দাম কত বেড়েছে? হিসাব করলে তো দেখা যায়, ১০টা সেতু মিলে ন্যূনতম ৫০ টাকা তো বেড়েই গেছে! বাজারে যেখানে মোটা চালের দাম এখন প্রায় ৬০ টাকা কেজি, তাহলে ওই সেতুগুলো না থাকলে হয়তো আমরা ১০ টাকায় চাল খেতে পারতাম!

জ ই মামুন বলেন, আমি ধিক্কার জানাই শেখ হাসিনাকে পদ্মা সেতু, পায়রা সেতুসহ অসংখ‍্য সেতু, সড়ক, মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে করবার জন‍্য। ধিক্কার জানাই প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদকেও। আপনাদের বানানো বিভিন্ন সেতুর কারণে আজ বাজারে চালের এত দাম! কে বলেছিলো আপনাদেরকে এসব সেতু বানাতে? দেশের অর্থনীতিতে সেতু, সড়ক বা যোগাযোগ ব্যবস্থার যে কোনো গুরুত্ব নেই, কোনো দরকার নেই- এই সহজ বিষয়টা আপনারা বুঝলেন না? না বুঝলে ওনাকে জিজ্ঞেস করতে পারতেন!

সবশেষে তিনি যোগ করেন, জোকস এপার্ট; এই লোকটার (বাণিজ্য উপদেষ্টা) কি কোনো মুরুব্বি নেই, কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী বা ভাই, বোন, বন্ধু নেই? অন্তত দারা পুত্র পরিবার তো আছে, তারাও তো ওনার মস্তিষ্কের একটা সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করতে পারেন!

নেটিজেনেরা বলছেন, জ ই মামুনের এই বক্তব্য অবশ্যই ব্যঙ্গ করে বলা। কারণ বাস্তবতা হলো—সেতু, সড়ক, মহাসড়ক কিংবা এক্সপ্রেসওয়ে উন্নয়ন মানেই দেশের অর্থনীতির গতি বাড়ানো, সময় ও খরচ কমানো, পরিবহন সহজ করা এবং বাজার ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করা। যোগাযোগ উন্নত হলে সাধারণত পণ্য পরিবহন ব্যয় কমে, বাজার স্থিতিশীল হতে সহায়তা করে। 

তাদের মতে, তাই এমন বক্তব্য যখন দায়িত্বশীল জায়গা থেকে আসে, তখন প্রশ্ন উঠতে বাধ্য—এই ধরনের মন্তব্য করার আগে কি কেউ উপদেষ্টাকে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বুঝিয়ে বলেন না? অন্তত আশপাশে কি কেউ নেই, যারা তাকে মনে করিয়ে দেবেন—রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বক্তব্যে যুক্তি, প্রমাণ এবং দায়িত্বশীলতা থাকা জরুরি?

জ ই মামুন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250