মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন মাহফুজ আনাম *** কলকাতায় গ্রেপ্তার ফয়সাল ও আলমগীরের সাক্ষাৎ চায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন *** ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করাই এখন প্রধান লক্ষ্য’ *** হাদি হত্যা মামলায় ভারতে গ্রেপ্তারদের দেশে আনার চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** মাদক মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর বেকসুর খালাস *** জুমার সঙ্গে হাদির খুনির ছবি, যা জানাল দ্য ডিসেন্ট *** আড়াল থেকে সর্বোচ্চ নেতা, কে এই মুজতবা খামেনি *** ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিষয়ে ভারতের কাছে কনস্যুলার সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী *** ঢাবিতে ছাত্রলীগ করার অভিযোগে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীকে মারধর, হাসপাতালে ভর্তি *** ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অভিনন্দন জানালেন পুতিন

হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দুজন ভারতে গ্রেপ্তার, দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমের

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৭:১৯ অপরাহ্ন, ৮ই মার্চ ২০২৬

#

ফাইল ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। গতকাল শনিবার (৭ই মার্চ) দিবাগত রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধ করে দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তারা বনগাঁর সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন এবং সুযোগ বুঝে পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয় পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আটককৃত দুই বাংলাদেশি হলেন—রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭), তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। অন্যজন আলমগীর হোসেন (৩৪), তিনি ঢাকার বাসিন্দা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন, তারা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। খুনের ঘটনার পর তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন।

এরপর ভারতের বিভিন্ন স্থানে পরিচয় গোপন করে ঘুরে বেড়ানোর পর অবশেষে বনগাঁয় এসে পৌঁছান। সেখান থেকেই তারা আবার সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ঢোকার পরিকল্পনা করছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ রোববার তাদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই অপরাধী চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং ভারতে তাদের অন্য কোনো আশ্রয়দাতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত বছরের ১২ই ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেল থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা।

তাকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ই ডিসেম্বর মারা যান তিনি।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ই ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা-পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।

তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ই জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

তবে ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ই জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে এবং প্রধান আসামি ফয়সালসহ ছয়জন পলাতক রয়েছেন। অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডি নতুন করে মো. রুবেল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে।

রুবেলকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ইতিমধ্যে দিয়েছেন। পরে তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ এই মামলায় মোট ১২ জন কারাগারে আছেন।

উল্লেখ্য, ডিবির চার্জশিটে ১৭ আসামির মধ্যে প্রধান আসামি ছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন ছিলেন দ্বিতীয়।

শরিফ ওসমান বিন হাদি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250