ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে এখন নির্বাচনী আমেজ। প্রচারণায় ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক’দিন আগে নিজেদের থিম সং প্রকাশ করেছে বিএনপি, যা লেখা হয়েছে কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার-কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’ শিরোনামের একটি নাটকের সংলাপের অনুপ্রেরণায়।
গত বুধবার দিবাগত রাত ১২ টায় রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে থিম-সং উদ্বোধন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ভোট দিবেন কিসে ধানের শীষে, সবার আগে বাংলাদেশ'সহ বিএনপির একাধিক নির্বাচনী স্লোগানকে যুক্ত করে গানের রূপ দেওয়া হয়েছে এই থিম সং-এ।
গানটি প্রকাশের পর ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা বলছেন, থিম সং-টি লেখা হয়েছে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’ নাটকের সংলাপের অনুপ্রেরণায়। নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেন গানটির লিংক নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করছেন।
‘ধানের শীষ’ শিরোনামে দ্বৈতকণ্ঠে থিম সংটি গেয়েছেন আতিয়া আনিসা ও নিলয়। এটি লেখার পাশাপাশি সুর করেছেন আজগর হোসেন রাব্বি। যোগাযোগ করলে তিনি সুখবর ডটকমকে জানান, ওই নাটকে নির্বাচনী মিছিলের একটি দৃশ্যে স্লোগান ছিল ‘ভোট দিব কীসে, ঘড়ি মার্কা বাক্সে’। থিম সং লেখার ক্ষেত্রে সেই লাইনই ছিল তার অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দুতে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আজগর হোসেন রাব্বি। যুক্ত রয়েছেন থিয়েটারের সঙ্গেও। পাশাপাশি জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন রাজনীতিতে।
তিনি বলেন, দলের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে অনেকদিন ধরেই চাচ্ছিলাম এমন একটি গান করব, যা দলের প্রতিটি কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ সবাইকে দলের আদর্শের প্রতি, ভোট দিতে অনুপ্রাণিত করবে। আমি চাচ্ছিলাম ‘ধানের শীষ’র সঙ্গে মিলিয়ে একটা ক্যাচি বা স্লোগান-নির্ভর লাইন লিখতে, যা হবে মূল কোরাস।
তিনি বলেন, মূলত যা মানুষের মুখে মুখে থাকবে। সেই ভাবনা থেকে দেখি যে, ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষ যেমন এক্সাইটমেন্টে, তেমনই কনফিউশনে (দ্বিধাগ্রস্ত)! তাদের মনে একটাই প্রশ্ন—ভোট দিব কীসে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি লিখি ‘ভোট দিবেন কীসে, ধানের শীষে’। মূলত তাদের উন্মাদনা বাড়াতে ওই কনফিউশনের উত্তরই গানের কথায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, যা একদম সাধারণ মানুষের মনের কথা, তাদের আনমনে উঁকি দেওয়া প্রশ্নের উত্তর।
গানটি লেখার পর নানা ভাবনা পেয়ে বসে রাব্বির! সেই কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির জন্য প্রচারণামূলক একটা গান করব, আমার ভাবনায় এতটুকুই ছিল। কিন্তু সেটা এভাবে হাইকমান্ড থেকে অনুমোদিত হয়ে দলীয় থিম সং হবে, আমার ভাবনার দৌড় এতদূর ছিল না। গানটি আমি নিজ তাগিদে কম্পোজ করে প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম।
তিনি জানসন, ঢাকার নিকেতনের পরিচিত একটি স্টুডিওতে একজন মিউজিক ডিরেক্টরের সঙ্গে কথা বলে রেকর্ডিং কাজও শুরু করব ভাবছিলাম। তবে সে অনেক টাকার প্রয়োজন ছিল, যা আমার পক্ষে ব্যয় করা সম্ভব হচ্ছিল না।
গীতিকার আরও বলেন, আমার লেখা গানের কথা ও হেরে গলার সুরটি পৌঁছায় বিএনপির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কমিটির অন্যতম সদস্য জুবায়ের বাবুর কাছে। পরবর্তীতে তিনি ও তার ক্রিয়েটিভ টিমের একনিষ্ঠ চেষ্টায় আমার স্বপ্নের গানটি নিজ দলের নির্বাচনী থিম সং-এর মর্যাদা পায়।
তিনি বলেন, প্রকাশের পর আমার নামসহ গানটি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনিসহ আমার এই জার্নিতে যারা ছিলেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।
খবরটি শেয়ার করুন