শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** শেখ হাসিনাকে ভারতের আশ্রয়: কূটনৈতিক সম্পর্কের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তারেক রহমান *** আমিও এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য: জামায়াত আমির *** ১১-১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব বাণিজ্যবিতান ও শপিংমল বন্ধ থাকবে *** আজ ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন তারেক রহমান *** আজ উত্তরবঙ্গের ৩ জেলায় যাচ্ছেন তারেক রহমান। *** যমুনার সামনে আহতদের কেউ গুলিবিদ্ধ নয়: ঢামেক পরিচালক *** ‘৫ই আগস্টের চেতনা এখন জামায়াতের গর্ভে’ *** মার্কিন নাগরিকদের ‘অবিলম্বে ইরান ছাড়ার’ নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের *** যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে ইরানের ‘সম্মতি’ *** ‘মনে করেছিলাম, ড. ইউনূস নির্বাচনের সময়গুলোতে এতটা নিচে নামবেন না’

সরিয়ে ফেলা হলো এপস্টেইন-কাণ্ডের হাজার হাজার ফাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:৩১ অপরাহ্ন, ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

পরিচয় গোপনের শর্ত লঙ্ঘন এবং ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠায় জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত হাজারো নথি নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে)। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রকাশিত নথিতে ত্রুটিপূর্ণ সম্পাদনার (রিডাকশন) কারণে তাদের পরিচয় ফাঁস হয়ে গেছে। খবর বিবিসির।

ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা দাবি করেন, গত শুক্রবার প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলসে ‘রিডাকশন’ বা তথ্য গোপনের প্রক্রিয়া ঠিকমতো না হওয়ায় প্রায় ১০০ জনের বেশি ভুক্তভোগীর জীবন ‘ওলটপালট’ হয়ে গেছে। তারা আরও বলেন, প্রকাশিত নথিতে এমন ই-মেইল ঠিকানা ও আপত্তিকর ছবি অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল।

এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগীরা এই ঘটনাকে ‘চরম আপত্তিকর’ অভিহিত করে জানান, এভাবে তাদের নাম প্রকাশ, যাচাই-বাছাই এবং নতুন করে মানসিক যন্ত্রণার মুখে ফেলা উচিত হয়নি।

বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যেসব নথি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভুলগুলো ‘প্রযুক্তিগত’ বা ‘মনুষ্য’ ত্রুটির কারণে হয়েছে বলে দাবি তাদের। গত সোমবার ফেডারেল বিচারকের কাছে জমা দেওয়া এক চিঠিতে বিভাগটি জানায়, ভুক্তভোগী বা তাদের আইনজীবীদের অনুরোধে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চিহ্নিত সব নথি পরবর্তী সংশোধনের জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিভাগটি আরও জানায়, নতুন অনুরোধগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আর কোনো নথি সরানো বা সম্পাদনার প্রয়োজন আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। নিজেদের উদ্যোগে শনাক্ত করা ‘উল্লেখযোগ্যসংখ্যক’ নথিও সরানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অনুমোদনের পর বিচার বিভাগ এই নথিগুলো প্রকাশ করতে বাধ্য ছিল। তবে শর্ত ছিল যে, ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা যায়—এমন সব তথ্য অবশ্যই মুছে ফেলতে বা ঢেকে দিতে (Redact) হবে।

শুক্রবার ভুক্তভোগীদের পক্ষে দুই আইনজীবী নিউইয়র্কের একজন ফেডারেল বিচারকের কাছে ওয়েবসাইটটি বন্ধের আবেদন জানান। তারা বলেন, এটি এক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তার সবচেয়ে ভয়াবহ লঙ্ঘন।

দুই আইনজীবী ব্রিটানি হেন্ডারসন ও ব্র্যাড এডওয়ার্ডস জানান, বিচার বিভাগ হাজার হাজার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য মুছতে ব্যর্থ হওয়ায় এক ‘জরুরি’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যা তাৎক্ষণিক বিচারিক হস্তক্ষেপ দাবি করে।

বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী ওই চিঠিতে নিজস্ব মন্তব্য দিয়েছেন। একজন একে ‘জীবননাশী’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আরেক জানান, তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য ফাঁস হওয়ায় তিনি প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।

গত মঙ্গলবার বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভুক্তভোগী অ্যানি ফারমার বলেন, ‘বিচার বিভাগ ভুক্তভোগীদের পরিচয় যেভাবে উন্মুক্ত করে দিয়ে ক্ষতি করেছে, তাতে এই নথির মাধ্যমে বেরিয়ে আসা নতুন তথ্যের ওপর নজর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’

আরেক ভুক্তভোগী লিসা ফিলিপস বলেন, প্রকাশের ফলাফল নিয়ে অনেকেই ‘খুবই অসন্তুষ্ট’। বিচার বিভাগ আমাদের তিনটি শর্তই লঙ্ঘন করেছে—এক, অনেক নথিই এখনো প্রকাশ হয়নি। দুই, প্রকাশের নির্ধারিত তারিখ অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। তিন, ডিওজে বহু ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমাদের সঙ্গে গেম খেলা হচ্ছে, কিন্তু আমরা লড়াই থামাব না।’

এপস্টেইনের বহু ভুক্তভোগীর পক্ষে লড়েছেন নারীবাদী আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড। তিনি বিবিসিকে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের নামের ওপর কেবল একটি দাগ টেনে দেওয়া হয়েছে যা থেকে সহজেই নাম পড়া যাচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে এমন সব ভুক্তভোগীর ছবি প্রকাশ করা হয়েছে যারা কখনো প্রকাশ্যে সাক্ষাৎকার দেননি, কখনো নামও প্রকাশ করেননি।

ডিওজের এক মুখপাত্র বলেন, তারা ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। নির্দোষদের রক্ষায় প্রকাশিত লাখো পাতার মধ্যে হাজার হাজার ভুক্তভোগীর নাম সরানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সমস্যা সমাধানে বিভাগটি ‘দিনরাত কাজ করছে’। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত পাতার মাত্র ‘০.১ শতাংশে’ এমন তথ্য পাওয়া গেছে, যা ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে পারে।

গত বছর আইন করে নথি প্রকাশ বাধ্যতামূলক হওয়ার পর থেকে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩০ লাখ পাতা, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও, যার একটি বড় অংশ গত শুক্রবার প্রকাশিত হয়।

বিচার শুরুর অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ই আগস্ট নিউইয়র্কের একটি কারা কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু হয়।

জে.এস/

জেফরি এপস্টেইন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250