রবিবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর দুই মেয়ের সঙ্গেও কুখ্যাত এপস্টেনের দেখাসাক্ষাৎ ছিল *** তারেক রহমানকে নিয়ে তথ্যচিত্র ‘সবার আগে হাসিমুখ’ *** ক্ষমতায় গেলে ‘বিডিআর’ নাম পুনর্বহাল করবে বিএনপি *** পুলিশের এমন আগ্রাসী মনোভাবের কারণ কী, প্রশ্ন আজহারির *** যৌন হয়রানির অভিযোগে বেরোবির ২ শিক্ষককে বরখাস্ত *** ‘আসমানে ফয়সালা হয়ে গেছে তারেক রহমানই আগামীর প্রধানমন্ত্রী’ *** ‘বিএনপিকে খুঁজে বের করতে হবে দলটির ভেতরে জামায়াতের হয়ে কারা কাজ করছে’ *** গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়: বায়তুল মোকাররমের খতিব *** এক ব্যক্তিনির্ভর ‘পাশা’র নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড স্থগিত *** গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার: প্রেস সচিব

১৮৫ বছরের পুরোনো বুনো মহিষের শিং পাহাড়পুর জাদুঘরে হস্তান্তর

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৬:৫২ অপরাহ্ন, ৩১শে জুলাই ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ১৮৫ বছর আগে সিলেটের এক গভীর অরণ্যে শিকার করা হয়েছিল একটি দুর্লভ বুনো মহিষ। সেই মহিষের শিংসহ মাথার করোটি (শিংসহ মাথার খুলি) স্থান পেয়েছে নওগাঁর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর (সোমপুর) বৌদ্ধবিহার জাদুঘরে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩১শে জুলাই) দুপুরে নওগাঁ শহরের কালিতলা মহল্লার অধ্যাপক ফজলুল হক তার পরিবারে কয়েক প্রজন্ম ধরে সংরক্ষণ করা এ শিং জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজুর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

ফজলুল হক জানান, নওগাঁর দুবলহাটীর রাজা রায় বাহাদুর হরনাথ রায় চৌধুরী সিলেটে জমিদারি ক্রয় করার পর তিনি তার বিস্তৃত জমিদারি পরিদর্শন করার জন্য সিলেট যান। সেখানে তিনি অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে একটি বুনো মহিষ শিকার করেন। সিলেটে কিছু দিন থাকার পর তিনি দুবলহাটী রাজ প্রাসাদে ফিরে আসার সময় শিকার করা বিভিন্ন প্রাণীর মাথার করোটি সঙ্গে নিয়ে আসেন। সঙ্গে নিয়ে আসেন এই বুনো মহিষটির মাথার করোটিও।

তিনি আরও জানান, পরে ১৮৯১ সালে তিনি প্রয়াত হলে তার স্থলে তার পুত্র রাজা কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরী জমিদারি প্রাপ্ত হন। দুবলহাটীর শিকারপুরের শৈলকোপা গ্রামের জোতদার সাকিম উদ্দীন শেখের সঙ্গে রাজা কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরীর ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই ঘনিষ্ঠতার সুবাদে রাজা কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরী ১৯৩৫ সালের দিকে এই বুনো মহিষের মাথার করোটি তার ঘনিষ্ঠতম বাল্যবন্ধু সাকিম উদ্দীন শেখকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন।

জানা গেছে, সাকিম উদ্দীন শেখের মৃত্যুর পর তার পুত্র আব্দুল গনি শেখ মহিষের মাথাটি সংরক্ষণ করছিলেন। আব্দুল গনি শেখের মৃত্যুর পর তার ছেলে অধ্যাপক ফজলুল হক সেটি তার সংগ্রহে রেখেছিলেন। আজ তিনি নওগাঁ ঐতিহাসিক পাহাড়পুর জাদুঘরে সংরক্ষণের জন্য কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজুর নিকট করোটিটি হস্তান্তর করেন।

এদিকে ইতিহাস-ঐতিহ্যের এই নিদর্শন এখন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার জাদুঘরের নতুন আকর্ষণ হতে যাচ্ছে। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত এই স্থানে প্রতিদিন ভিড় করেন দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক। তাদের সামনে শিগগির উন্মুক্ত করা হবে এই দুষ্প্রাপ্য স্মারক।

কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজু বলেন, ‘এটি আমাদের জাদুঘরের জন্য একটি মূল্যবান সংযোজন। জমিদার আমলে শিকারের যে সংস্কৃতি ছিল, সেটির একটি চিহ্ন আজ আমরা হাতে পেলাম। করোটিটিকে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর দর্শনার্থীদের দেখার জন্য প্রদর্শনী অংশে স্থাপন করা হবে। এমন অনেক ঐতিহ্যবাহী বস্তু এখনো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। এগুলো সংরক্ষিত জাদুঘরে এলে সাধারণ মানুষ অতীতকে আরও কাছ থেকে জানতে পারবে।’

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার জাদুঘর

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250