ফাইল ছবি
বিশিষ্ট সাংবাদিক নূরুল কবীরের চুলের ছাঁট (স্টাইল) নিয়ে কারো ক্ষোভ থাকতে পারে, এটা কোনোদিন কল্পনাও করতে পারেননি সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। তার দাবি, নূরুল কবীরকে হেনস্তাকারীরা হয়তো 'ভেবেছেন', কিংবদন্তি সাংবাদিক নূরুল কবীর বাংলার কোনো অখ্যাত বাউল অথবা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো জটাধারী পাগল!
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন গোলাম মাওলা রনি। আজ শুক্রবার (১৯শে ডিসেম্বর) তিনি ওই পোস্ট করেন।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, সাংবাদিক নূরুল কবীরের চুলের স্টাইল নিয়ে কারো ক্ষোভ থাকতে পারে, এটা আমি কোনোদিন কল্পনাও করতে পারিনি। গত রাতে ঢাকার রাজপথে যখন তিনি লাঞ্চিত হচ্ছিলেন, তখন কয়েকজন বিক্ষোভকারী তার চুলের পেছনের ঝুলে পড়া অংশের উপর যে রাগ দেখাচ্ছিলেন, তা দেখে মনে হচ্ছিলো- কিংবদন্তি সাংবাদিক নূরুল কবীর হয়তো বাংলার কোনো অখ্যাত বাউল অথবা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো জটাধারী পাগল!
প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দৈনিক ডেইলি স্টার ভবনের সামনে বিক্ষোভকারীদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি, নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর। রাজধানীর ফার্মগেটে ডেইলি স্টারের সামনে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় তার প্রতিবাদ জানাতে গেলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে ভিড়ের মধ্যে তার পিঠে ধাক্কা দিতে দেখা গেছে কয়েকজনকে। তার চুল ধরে টানতে দেখা গেছে কাউকে কাউকে।
সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি নূরুল কবীর বিক্ষোভকারীদের নিবৃত্ত করতে যান। এদিন রাতে প্রথম আলোর ভবনেও আগুন জ্বালিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।
দেশের অন্যতম খ্যাতনামা এই সাংবাদিকের সঙ্গে আচরণের প্রতিবাদে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘নূরুল কবীর বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় বীরযোদ্ধা। শেখ হাসিনার অজস্র হুমকির মুখেও কোনোদিন সত্যি কথা বলা বন্ধ করেননি। আজকে গণমাধ্যমের ওপর দঙ্গলবাজির প্রতিবাদে একাই হাজির হয়েছিলেন। রক্তপিপাসু দঙ্গলের মুখোমুখি হয়েছেন।’
তিনি লেখেন, ‘নুরুল কবীর ভাই তার আজকের এই কীর্তির মধ্য দিয়ে ইতিহাস ছাপিয়েছেন। কবীর ভাই, ডাক দেবেন! আপনার ডাকে যেকোনো জায়গায় যাবো। আমাদের একজন কবীর ভাই আছেন, দঙ্গলকে ভয় করি না। শেখ হাসিনার গুণ্ডাতন্ত্রকে ভয় করিনি।’
খবরটি শেয়ার করুন