ফাইল ছবি
বাংলাদেশের উর্দুভাষী জনগোষ্ঠী, বা ‘আটকে পড়া পাকিস্তানিদের’ আদর্শগতভাবে নিজের খুব কাছাকাছি বলে মনে করেন খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি যে, আদর্শগতভাবে তারা আমার খুব কাছাকাছি। আমি তাদের খুব কাছাকাছি। সেই জায়গাটা থেকেও আমি তাদের সমর্থনপ্রত্যাশী।’
মামুনুল হকের দাবি, ‘অবাঙালি বা উর্দুভাষী একটা বিশাল জনগোষ্ঠী, তাদের মধ্যে ধর্মচর্চার মাত্রাটা অন্যদের চেয়ে বেশি। তারা অনেকটাই ধর্মভীরু। মোহাম্মদপুর (ঢাকা) এলাকায় প্রায় সাতটা বিহারি ক্যাম্প আছে। এ ক্যাম্পের বাইরেও পুরো এলাকা জুড়েই অনেক বিহারি অধিবাসীদের এখানে বসবাস। অনেক বড় সংখ্যক একটা ভোটার। আমি আশা করছি যে, আদর্শগতভাবে তারা আমার খুব কাছাকাছি।’
দৈনিক বণিক বার্তাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামুনুল হক এসব কথা বলেন। তার বিশেষ সাক্ষাৎকার বণিক বার্তার ছাপা সংস্করণে আজ মঙ্গলবার (২৭শে জানুয়ারি) প্রকাশিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারটির লিংক ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনের মধ্যে মামুনুল হকের বক্তব্য নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে।
মামুনুল হক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে রিকশা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন মামুনুল হক। নির্বাচনী প্রচারণা, ভোট ব্যাংকসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। ‘জয়ের বিষয়ে আমি প্রচণ্ড আশাবাদী’ শিরোনামে তার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বণিক বার্তার সাংবাদিক আনিকা মাহজাবিন।
এদিকে, গত বছরের ১৭ই এপ্রিল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ সভায় (এফওসি) বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন পাকিস্তান সরকারের প্রতিনিধিকে বাংলাদেশে ‘আটকে পড়া পাকিস্তানিদের’ প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য অনুরোধ জানান।
তবে উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীকে ‘আটকে পড়া পাকিস্তানি’ অভিহিত করে পররাষ্ট্রসচিবের দেওয়া ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান দেশের ৩০ নাগরিক। তখন এক বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানান।
তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টির আগে ও পরে উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর পূর্বসূরিরা ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলায় বসতি স্থাপন করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে আন্তর্জাতিক কমিটি ফর রেডক্রসের (আইসিআরসি) সহায়তায় এ জনগোষ্ঠীকে দেশের বিভিন্ন জেলার ১১৬টি ক্যাম্পে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ২০০১ সালের এক রিট আবেদনের রায়ে হাইকোর্ট বাংলাদেশের উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্বের প্রশ্নের মীমাংসা করেন এবং এই জনগোষ্ঠীর সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান ও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন। ওই রায়ের আলোকে বাংলাদেশের উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর সদস্যদের নাম যথাযথভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তাদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়।
খবরটি শেয়ার করুন