বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’ *** নতুন মার্কিন নীতি বাংলাদেশের উপর যে প্রভাব ফেলবে *** ‘কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ পুরুষদের সমকামী করে তুলতে পারে’ *** মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা বানিয়ে বিসিএস ক্যাডার, সিনিয়র সহকারী সচিব কারাগারে *** নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না যুক্তরাষ্ট্র, খোঁজ-খবর রাখবে

এআই ভিডিওর অপব্যবহারে বিভ্রান্ত অনেক ভোটার

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, ২৫শে জানুয়ারী ২০২৬

#

গত ১১ই জানুয়ারি ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, এক পুলিশ কর্মকর্তা এক সংবাদ সম্মেলনে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলছেন আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ২০০টি আসন পাবে। একই ভিডিওতে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়।

এর কয়েক দিন আগে আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ইসলামি বক্তা জামায়াত মদিনা সনদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে বলে কড়া সমালোচনা করছেন। আরেকটি ক্লিপে এক সংবাদ উপস্থাপককে বলতে শোনা যায়, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফেরাতে সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

কিন্তু একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, এসব ভিডিওর চরিত্রগুলোর চোখের পলক ও ঠোঁটের নড়াচড়া অস্বাভাবিক। আলো-ছায়া ও ব্যাকগ্রাউন্ডের মধ্যেও অসংগতি স্পষ্ট। অডিওর সঙ্গে বক্তার ঠোঁটের মিল নেই। আসলে এগুলোর সবই ভুয়া বা 'ফেক ভিডিও', যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে এ ধরনের এআই কন্টেন্টের ছড়াছড়ি। এসব কন্টেন্ট ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা হচ্ছে বা নিজেদের দলের পক্ষে প্রচার চালানো হচ্ছে।

গত বছরের ১৪ই ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৪ই জানুয়ারি পর্যন্ত এক মাসে ১৯টি ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইল থেকে ছড়ানো ৯৭টি এআই কন্টেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই কন্টেন্টগুলো রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব কন্টেন্টে ১৬ লাখের বেশি রিঅ্যাকশন বা এনগেজমেন্ট হয়েছে। পোস্টের নিচের মন্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অনেকেই এসব কন্টেন্টকে সত্য বলে মনে করছেন।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের কন্টেন্টের প্রচারও বাড়ছে। তথ্য সংগ্রহের প্রথম সপ্তাহে ৯টি এআই কন্টেন্ট পাওয়া গেলেও শেষ সপ্তাহে তা ২৬৭ শতাংশ বেড়ে ৩৩টিতে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনমত প্রভাবিত করতে এআই কন্টেন্টকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর এসব শনাক্ত করার কারিগরি সক্ষমতা থাকলেও তারা তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব কন্টেন্টের অর্ধেকের বেশিই 'ম্যানিপুলেটিভ' বা বিভ্রান্তিকর। এ ছাড়া ৩৯ শতাংশ কন্টেন্ট অপতথ্য এবং বাকি ৯ শতাংশ ঘৃণা ছড়ানো, ধর্মীয় উসকানি ও চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে তৈরি।

৯৭টি এআই কন্টেন্টের মধ্যে ৫০টি এসেছে জামায়াতপন্থি পেজ বা প্রোফাইল থেকে। বিএনপিপন্থি পেজ থেকে ৩০টি এবং আওয়ামী লীগপন্থি পেজ থেকে ১৭টি কন্টেন্ট ছড়ানো হয়েছে। তবে এসব পেজ বা প্রোফাইল কোনো দলেরই অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট নয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250