ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা শহরের তিনটি ভেন্যুতে মোট চারটি প্রদর্শনী নিয়ে ফিরছে নিনাদ-এর প্রথম প্রযোজনা ‘দ্য হিউম্যান ভয়েস’। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার সহযোগিতায় নির্মিত এই মঞ্চনাটকটি ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম মঞ্চে আসে এবং ধানমন্ডিস্থ আলিয়ঁস ফ্রসেঁজ মিলনায়তন ও মিরপুরস্থ বিবলিওন বুকস্টোর ক্যাফেতে নাটকটির মোট ৭টি প্রদর্শনী হয়।
জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে ১৮ ও ১৯শে জানুয়ারি সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হল, ২৩শে জানুয়ারি বনানীস্থ সাতোরি একাডেমি অব আর্টস এবং ৩০শে জানুয়ারি তেজগাঁওয়ের আলোকি-তে অবস্থিত শালা_নেইবারহুড আর্ট স্পেস-এ ফরাসি নাট্যকার জঁকক্তো রচিত ‘দ্য হিউম্যান ভয়েস’ মঞ্চায়িত হতে যাচ্ছে। প্রতিটি প্রদর্শনী শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়।
১৯৩০ সালেপ্রথম মঞ্চস্থ হওয়া একাঙ্কিক ও একক চরিত্রের এই নাটকটি একজন নারীর গল্প, যিনি তারপ্রেমিকের সাথে শেষবারের মতো টেলিফোনের কথা বলছেন। প্রেমিকটি পরদিনই অন্য একজনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে, তাই প্রেমিকের সঙ্গে এই শেষ টেলিফোন আলাপে ফুটে ওঠে নারীটির হৃদয় ভঙ্গ ও পরিত্যক্ত হওয়ার অস্ফুট আর্তনাদ এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার বেদনাকে সহ্য করতে না পেরে গভীর মানসিক অস্থিরতার চিত্ররূপ।
নাটকটি বাংলায় অনুবাদ ও রূপান্তর করেছেন প্রজ্ঞা তাসনুভা রূবাইয়াৎ, যিনি একই সাথে নির্দেশক হিসেবেও নাটকটির মঞ্চায়ন-ভাবনা ও সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রজ্ঞা ১৭ বছরের ও বেশি সময় ধরে থিয়েটার, শিক্ষাকতা, লেখালেখি ও অনুবাদ কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
‘দ্য হিউম্যান ভয়েস’ এর নাট্যভাবনাকে মঞ্চে বাস্তবায়িত করে তুলছেন অভিনেত্রী সাদিকা স্বর্ণা, যিনিগত দুই দশকের বেশি সময় ধরে মিডিয়ায় অভিনয় ও মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, সাদিকা স্বর্ণা ২০১০ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার আপ খেতাব অর্জন করেন। সেই সঙ্গে থিয়েটার চর্চায় স্বর্ণার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, চারুকলা অনুষদ থেকে তার পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত জীবন থেকে আহরিত আবেগীয় পরিপক্বতা ‘দ্য হিউম্যান ভয়েস’ নাটকে তার চরিত্রাভিনয়ে সংযোজন করেছে মনস্তত্ত্বের বোঝাপড়া ও মানব-অধ্যয়নের এক অনন্য মাত্রা।
এই প্রসঙ্গে ‘দ্য হিউম্যান ভয়েস’ নাটকের নির্দেশক প্রজ্ঞা তাসনুভা রূবাইয়াৎ বলেন, এখন আসলে নাটককেই দর্শকের কাছে যেতে হবে। দর্শককে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় এসে নাটক দেখার জন্য বেঁধে রাখলে মঞ্চ নাটকের বিস্তার ঘটবে না।
বিভিন্ন বাস্তবতার কারণেই থিয়েটার চর্চা এখন একটা ছোট সার্কেলের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে নাটক নিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছাতে না পারলে কয়েকদিন পরে দর্শকেরও সংকট হবে! সেই ভাবনা থেকেই আমরা দ্য হিউম্যান ভয়েস নাটকটি এমনভাবে ডিজাইন করেছি, যাতে এটি অডিটরিয়ামে যেমন মঞ্চস্থ করা যায়, তেমনি গ্যালারি বা বিকল্প পরিসরেও পরিবেশন করা সম্ভব হয়।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন