ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ইরান কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি নয়; বরং পুরো যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তিই তাদের লক্ষ্য।
আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধবিরতি নয়, সম্পূর্ণ যুদ্ধের অবসান চাই—শুধু ইরানে নয়, গোটা অঞ্চলে।’ তার এই মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, ইরান কেবল তাৎক্ষণিক শান্তির চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগ্রহী।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে, সেগুলোর কোনো জবাব এখনো দেয়নি তেহরান। এমনকি কোনো পাল্টা প্রস্তাব বা শর্তও তারা উত্থাপন করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ থেকে বার্তা পেলেও সেটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হিসেবে দেখছে না ইরান।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, এই জলপথ পুরোপুরি খোলা রয়েছে। তবে যারা ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তাদের জন্য এটি বন্ধ। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে দেন—প্রয়োজনে স্থলযুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে তেহরান।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তুলনামূলকভাবে কিছুটা নরম সুরে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা রাখে। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ জরুরি—বিশেষ করে ভবিষ্যতে যেন এমন সংঘাত আর না ঘটে, সেই নিশ্চয়তা।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা-র সঙ্গে এক ফোনালাপে পেজেশকিয়ান এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইরানের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। ডাও জোন্স সূচক ২.১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯,১৬৪ পয়েন্টে। একইসঙ্গে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৫ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বক্তব্য নতুন কিছু না হলেও এটি সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রতিফলন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
খবরটি শেয়ার করুন