বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’ *** নতুন মার্কিন নীতি বাংলাদেশের উপর যে প্রভাব ফেলবে *** ‘কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ পুরুষদের সমকামী করে তুলতে পারে’ *** মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা বানিয়ে বিসিএস ক্যাডার, সিনিয়র সহকারী সচিব কারাগারে *** নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না যুক্তরাষ্ট্র, খোঁজ-খবর রাখবে

পোস্টার থেকে ফেসবুক পেজে, নির্বাচনী প্রচারের চেনা চিত্র বদলে গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০২:১৪ অপরাহ্ন, ২৮শে জানুয়ারী ২০২৬

#

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দলীয় প্রতিশ্রুতির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের জন্য কে কী করবেন-সেই স্বপ্নের কথাও শোনাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ দেখছেন, শুনছেন, ভাবছেন-আলোচনা করছেন।

তারা এবার প্রতীক বেছে নেবেন নাকি যোগ্য প্রার্থী, সেটিও আছে আলোচনায়। বড় দলের শীর্ষ নেতাদের গণসংযোগ, বক্তব্য বা দৈনন্দিন নির্বাচনি প্রচারকাজ মূলধারার গণমাধ্যমে জায়গা পেলেও ছোট দল বা স্বতন্ত্র অনেক প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা প্রকাশ বা প্রচারে ঠাঁই না মিললেও থেমে নেই কারোরই প্রচারকাজ।

তাদের প্রায় সবারই রয়েছে সাইবার টিম। সেই টিমের সদস্যরা প্রার্থীর সব ধরনের কার্যক্রম অনুসরণ করেন। রেকর্ড করেন। ফেসবুক-ইউটিউবে সরাসরি প্রচারে নিযুক্ত থাকেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়ে উঠেছে প্রার্থীদের প্রচারকেন্দ্র। 

নির্বাচনী প্রচারের চেনা দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে। দেয়ালজুড়ে স্লোগান, অলিগলিতে পোস্টারের জঙ্গল—এবার আর এসব দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের বিধিতে পোস্টার ও দেয়াললিখন নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রার্থীরা বাধ্য হচ্ছেন প্রচারের ধরন পাল্টাতে। সেই শূন্যতা পূরণ করছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম—ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদভিত্তিক, বিনোদন বা ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট।

প্রার্থীদের বড় একটি অংশ প্রচারের বাজেট নতুন করে সাজাচ্ছেন। পোস্টার ছাপা, দেয়াল রং, ব্যানার লাগানোর খরচ কমিয়ে সেই অর্থ ঢালা হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন, কনটেন্ট তৈরি, পেজ ম্যানেজমেন্ট, ডেটা বিশ্লেষণ—সব মিলিয়ে গড়ে উঠছে আলাদা একটি ‘ডিজিটাল টিম’। ডিজিটাল প্রচারের এই বিস্তার নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেও এর ব্যয়, স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

প্রার্থীদের এই ডিজিটাল প্রচার কীভাবে দেখছেন, জানতে চাইলে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এটা (ডিজিটাল প্রচারণা) বাস্তবতা। ভবিষ্যতে এগুলো আরও ব্যাপকভাবে হবে। এগুলো নজরদারি করা দরকার। কারণ, ডিজিটাল প্রচারমাধ্যম অপব্যবহার হতে পারে। তাই এগুলোর ব্যাপারে আমাদের নির্বাচন কমিশনে একটা ইউনিট থাকা দরকার, যারা এগুলো মনিটর করবে।’

প্রার্থীদের ডিজিটাল টিমগুলো নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি, পোস্টের রিচ বাড়ানো, মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণা পর্যবেক্ষণের কাজ করছে।

প্রার্থীদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার চালাতে সাম্প্রতিক এক সপ্তাহেই প্রার্থীরা প্রায় ৪১ হাজার ডলারের বেশি খরচ করেছেন; বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৫০ লাখ টাকার বেশি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যয়ের দিক থেকে এখন পর্যন্ত শীর্ষে রয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী। আর অনুসারীর সংখ্যায় সবার আগে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। নির্বাচনী প্রচারণার বাকি দিনগুলোতে এই ব্যয় আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ফেসবুকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটার ‘অ্যাড লাইব্রেরি’ অনুযায়ী, ১৭ই থেকে ২৩শে জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন বাবদ ব্যয় হয়েছে ৪১ হাজার ৯১৫ ডলার। ২৫শে ডিসেম্বর থেকে ২৩শে জানুয়ারি পর্যন্ত এক মাসে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ১৩৪ ডলার। আর ২৬ অক্টোবর থেকে ২৩ জানুয়ারি—এই তিন মাসে ব্যয়ের পরিমাণ ২ লাখ ৭২ হাজার ৫১ ডলার।

প্রচারের জন্য ডিজিটাল মাধ্যমে কর্মীও নিয়োগ দিচ্ছেন প্রার্থীরা। কেউ কেউ এর পেছনে দেদার অর্থ ব্যয় করছেন। কেউ আবার নিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক। এ ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে আছেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি ফেসবুকে ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত করতে নতুন একটি ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন। এই ক্যাম্পেইন শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৮ হাজার ৪৮২ জন স্বেচ্ছাসেবক পেয়েও গেছেন তিনি।

নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ফেসবুকসহ অনলাইন মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করছেন প্রার্থী ও দলগুলো। ফেসবুকে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের আবেদন করে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা তহবিল সংগ্রহ করেন তাসনিম জারা।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এই দলটির অনেক প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদন জানিয়ে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ করছেন। এবি পার্টি, আমজনতার দলের নেতারাও একই পথে হেঁটেছেন।

এ ছাড়া প্রার্থী ও দলগুলো অনলাইন মাধ্যমে রিলস প্রতিযোগিতা, মতামত চেয়ে সমর্থক যুক্ত করা, ভিডিও ও গান আপলোড করাসহ নানাভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ইতিবাচক হলেও এই মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে ফ্যাক্টচেকিং প্রশিক্ষক শুভাশীষ দীপ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে প্রার্থী বা প্রচারকারী এবং যিনি বা যারা দেখছেন, সবার সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারণ, সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে যেকোনো কনটেন্ট খুব কম সময়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। ভুল তথ্য বা এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করাও খুব সহজ। প্রার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কাও থাকে। তাই যিনি প্রচার করছেন এবং যিনি দেখছেন—দুই পক্ষকেই এই মাধ্যমে সতর্ক হতে হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250